ঢাকা ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, রোববার, ২৬ মে ২০২৪

বিমানের সাবেক এমডিসহ ১৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জশিট

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৪, ০৭:৫০ পিএম
বিমানের সাবেক এমডিসহ ১৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জশিট
ছবি : সংগৃহীত

ইজিপ্ট এয়ারের বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ লিজ নিয়ে রাষ্ট্রের ১ হাজার ১৬৪ কোটি টাকার ক্ষতি করার মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কেভিন জন স্টিলসহ ১৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে বুধবার (১৫ মে) এ চার্জশিট ঢাকার জজকোর্টে দুদকের জিআর শাখায় পাঠানো হয়েছে। 

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম খবরের কাগজকে জানান, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে দুদকের জিআর শাখা থেকে এই চার্জশিট সংশ্লিষ্ট আদালতে দাখিল করা হবে। 

চার্জশিটে অভিযুক্তরা হলেন ১. সাবেক পরিচালক (ফ্লাইট অপারেশন্স) ক্যাপ্টেন ইশরাত আহমেদ; ২. সাবেক ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল আলম সিদ্দিক (মো. এস এ সিদ্দিক); ৩. সাবেক প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার (সার্ভিসেস অ্যান্ড অডিট) শহীদ উদ্দিন মোহাম্মদ হানিফ; ৪. সাবেক প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার (এমসিসি অ্যান্ড এল/এম) দেবেশ চৌধুরী; ৫. সাবেক ইন্সপেক্টর অব এয়ারক্রাফট (বর্তমানে এয়ারওয়ার্দিনেস কনসালট্যান্ট সিভিল এভিয়েশন অথরিটি, পুরাতন সদর দপ্তর) গোলাম সারওয়ার; ৬. সাবেক এয়ারক্রাফট ম্যাকানিক (বর্তমানে প্রকৌশল কর্মকর্তা) সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া; ৭. প্রিন্সিপাল সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার (স্ট্রাকচার) শরীফ রুহুল কুদ্দুস; ৮. সাবেক উপপ্রধান প্রকৌশলী মো. শাহজাহান; ৯. সাবেক ইঞ্জিনিয়ার অফিসার জাহিদ হোসেন; ১০. সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেভিন জন স্টিল; ১১. সহকারী পরিচালক (এওসি- এয়ারওয়ার্দিনেস) মোহাম্মদ সফিউল আজম; ১২. সহকারী পরিচালক (অ্যারোস্পেস/এভিয়নিক্স- এয়ারওয়ার্দিনেস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং) দেওয়ান রাশেদ উদ্দিন; ১৩. প্রকৌশল কর্মকর্তা হীরালাল চক্রবর্তী; ১৪. প্রিন্সিপাল সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস বিভাগ) অশোক কুমার সর্দার; ১৫. প্রকৌশলী কর্মকর্তা লুৎফর রহমান এবং ১৬. উপপরিচালক আব্দুল কাদির (পিতা জজুর মিয়া)। তালিকার শেষ সাতজনের নাম তদন্তে আসা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মামলায় প্রয়োজনীয় নথিসহ আট ধরনের আলামত সংগ্রহ করেছে দুদক। সাক্ষীর তালিকায় আছেন তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ২৯ জন। 

বিমানের সাবেক পরিচালক (ফ্লাইট অপারেশন্স) ক্যাপ্টেন ইশরাত আহমেদসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি মামলাটি করে দুদক। তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় মহাব্যবস্থাপক (মুদ্রণ ও প্রকাশনা) আবদুর রহমান ফারুকী, ডিজিএম কামাল উদ্দিন আহমেদ, উপমহাব্যবস্থাপক (এওসি, এসিপি) জিয়া আহমেদ, সাবেক ক্যাপ্টেন (ড্যাশ-৮-৪০০) নজরুল ইসলাম শামিম, সাবেক চিফ পার্সার (কাস্টমার সার্ভিস) কাজী মোসাদ্দেক আলী, ফ্লাইট পার্সার শহিদুল্লাহ কায়সার ডিউক, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (করপোরেট প্ল্যানিং) আজাদ রহমান, সাবেক ব্যবস্থাপক আব্দুল কাদির (পিতা তালেব হোসেন), সহকারী ব্যবস্থাপক ফজলুল হক বসুনিয়া, ব্যবস্থাপক (এসিপি) আতাউর রহমান, সাবেক চিফ পার্সার মোহাম্মদ সাজ্জাদ উল হক (শাহিন), ফ্লাইট পার্সার শাহনাজ বেগম ঝর্ণা, প্রধান প্রকৌশলী এ আর এম কায়সার জামান এবং চিফ ইঞ্জিনিয়ার (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস) গাজী মাহমুদ ইকবালকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। 

অভিযোগপত্রে বলা হয়, মামলার আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে আগে নিজেরা লাভবান হয়ে ও অপরকে লাভবান করার অসৎ উদ্দেশ্যে ইজিপ্ট এয়ার থেকে দুটি উড়োজাহাজ লিজ নিয়ে পরবর্তী সময়ে রি-ডেলিভারি পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১ হাজার ১৬৪ কোটি টাকার ক্ষতি করেছেন। 

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে পাঁচ বছরের চুক্তিতে মিসরের ইজিপ্ট এয়ার থেকে বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর মডেলের উড়োজাহাজ দুটি লিজ নেয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। প্রথম বছর শেষেই দুটি এয়ারক্রাফটেরই ইঞ্জিন বিকল হয়। ইঞ্জিনগুলো প্রায় ১২-১৫ বছরের পুরোনো এবং এর উড্ডয়ন-যোগ্যতার মেয়াদকাল কম থাকায় পুরোপুরি বিকল হয়ে যায়। প্লেন সচল রাখতে ইজিপ্ট এয়ার থেকেই ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন। দেড় বছরের মাথায় নষ্ট হয় সেটিও। এতে দেশের ক্ষতি হয়েছে ১ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা, যা একাদশ জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তদন্তে উঠে এসেছে।

এয়ারক্রাফট লিজ নেওয়ার প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে ২০২২ সালে দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন ও জেসমিন আক্তারের সমন্বয়ে অনুসন্ধান টিম গঠন করে দুদক। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ২০২২ সালের ২৮ মে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও বরাবর চিঠি দিয়ে লিজসংক্রান্ত নথি তলব করেন দুদক কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে লিজ প্রক্রিয়ায় জড়িত সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অনুসন্ধান শেষে দুদকের উপপরিচালক জেসমিন আক্তার মামলার করেন। পরে কমিশন তাকেই তদন্তের দায়িত্ব দিলে তিনি তদন্ত শেষ করেন।

মোংলা-পায়রার কাছাকাছি রেমাল

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৫:০৬ পিএম
মোংলা-পায়রার কাছাকাছি রেমাল
ছবি : খবরের কাগজ

মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরের কাছাকাছি চলে এসেছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল। এটি সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

রবিবার (২৬ মে) আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে (ক্রমিক-১২) এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহওয়াবিদ ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমাল উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি রবিবার (২৬ মে) দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৩১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।

বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রভাগের প্রভাবে বৃষ্টিসহ দমকা/ঝড়ো হাওয়া অব্যাহত রয়েছে। এটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৩-৪ ঘন্টার মধ্যে মোংলার পাশ দিয়ে সাগর আইল্যান্ড (পশ্চিমবঙ্গ)-খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম করতে পারে। 

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী সাগর বিক্ষুদ্ধ রয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র অতিক্রমের পর এর নিম্নভাগ অতিক্রম অব্যাহত থাকবে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

সমুদ্র বন্দর ও জেলায় সংকেত নিয়ে জানানো হয়, পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। 

কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এবং উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

জলোচ্ছ্বাস ও পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশ ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৮-১২ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ু তাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। 

প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

অতি ভারী বর্ষণের প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে।

কবির/অমিয়/

সাংবাদিক যাতে হেনস্তার শিকার না হয় সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক : কাদের

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৩:৪৯ পিএম
সাংবাদিক যাতে হেনস্তার শিকার না হয় সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক : কাদের
ডিআরইউয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন ওবায়দুল কাদের

ডিজিটাল অ্যাক্টের নামে কোনো সাংবাদিক যাতে করে হয়রানির শিকার না হয় সে ব্যাপারে সরকার সতর্ক আছে এবং থাকবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক  এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

রবিবার (২৬ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কোনো সাংবাদিক যাতে হেনস্তার শিকার না হয় সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক আছি। আর সাংবাদিকতার নামে অপসাংবাদিকতা ও ভুয়া লোক যাতে মহান এ পেশাকে অসম্মান করতে না পারে সে জন্য সাংবাদিকদেরও সতর্ক থাকতে হবে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সাংবাদিকতার নামে সাংবাদিকের লেখা নেই, পড়া নেই, সংবাদ বোঝে না, এর ধারে কাছেও নেই। এমন অনেককেই দেখি সরকারি অফিসে গিয়ে বসে থাকে। এরা সত্যিকারের সাংবাদিক নয়। এই ভুয়া সাংবাদিকের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’

আওয়ামী লীগ সরকার সমালোচনার বিরোধী নয় জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সমালোচনা শুদ্ধ করে। সমালোচনা আমরাও করি, তবে তা গঠনমূলক হওয়া প্রয়োজন।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সৈয়দ শুকুর আলী শুভ ও সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রমুখ।

বাসস/সালমান/

প্রধানমন্ত্রী রেমাল মোকাবিলা কার্যক্রম মনিটরিং করছেন: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৩:৪২ পিএম
প্রধানমন্ত্রী রেমাল মোকাবিলা কার্যক্রম মনিটরিং করছেন: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. মুহিববুর রহমান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবিলায় যাবতীয় কার্যক্রম সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. মুহিববুর রহমান। 

রবিবার (২৬ মে) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় আন্তঃমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভা শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব কামরুল হাসানসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মুহিববুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমাল আজ সন্ধ্যা নাগাদ আঘাত হানতে পারে। তবে মূল ঝড় আজ মধ্যরাতে বাংলাদেশ অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ ১২০ কিলোমিটার হতে পারে। তবে তা আরও বেড়ে ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের সময় সাগরের পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। জোয়ারের সময় তা আরও বাড়তে পারে।

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুলনা, বাগেরহাট ও ভোলাসহ উপকূলবর্তী জেলাসহ সারাদেশে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হতে পারে। সারাদেশে ৩০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। ফলে দেশের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস হতে পারে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। 

তিনি আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে যে কোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সকল মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে বঙ্গবন্ধু টানেল আজ সন্ধ্যা থেকে পরের দিন সকাল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। সকল ধরনের লঞ্চ চলাচলও বন্ধ থাকবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় সরকার সার্বিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে। ইতোমধ্যে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় খাবার পৌঁছে গেছে। আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার সব লোককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনতে সক্ষম হব।

দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি হিসেবে তিনি বলেন, আমরা সামরিক ও বেসামরিক সকল যানবাহনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের মেডিকেল টিমগুলো প্রস্তুত রয়েছে। সামরিক বাহিনী ও নৌবাহিনীসহ প্রয়োজনীয় সকল বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের সময় সৃষ্ট ভূমিধস থেকে লোকজনকে রক্ষা করতে ফায়ার সার্ভিসকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আরও সক্ষমতার সঙ্গে এই ঘূর্ণিঝড়ের যে কোনো ধরণের ধ্বংসলীলা মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত রয়েছি। আমরা আশা করি, সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে এই ঝড়কে ভালভাবে মোকাবেলা করতে পারব।

অতিদ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য উপকূলবর্তী এলাকার লোকজনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা এখনই নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিন। ৭ থেকে ৮ হাজার আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। খাবারসহ প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ৮ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। যেহেতু ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত ঘোষনা করা হয়েছে, সেহেতু আমাদের লক্ষ্য হলো সকল মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে আনা।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের সময় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকলে আশ্রয় সংক্রান্ত কার্যক্রম চালু থাকবে। এ ছাড়াও সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় কবলিত এলাকায় যাতে আনঅ্যাফেকটেড এলাকার সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কাজ করতে পারে, সেজন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এর আগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সূত্র: বাসস

ইসরাত চৈতী/অমিয়/  

ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব গত বছরের চেয়ে বেশি: নিপসম

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০২:২২ পিএম
ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব গত বছরের চেয়ে বেশি: নিপসম
ছবি : খবরের কাগজ

দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ইতোমধ্যেই গত বছরের তুলনায় ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম)। 

নিপসম জানায়, গত বছর প্রথম পাঁচ মাসের তুলনায় এ বছর জানুয়ারি থেকে গতকাল (২৫ মে) পর্যন্ত আক্রান্ত ও মৃত্যু দুটোই বেশি।

রবিবার (২৬ মে) রাজধানীর মহাখালীতে নিপসমের সাইন্টিফিক সেমিনারে এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়। 

সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সামিউল ইসলাম সাদী।

অমিয়/

সুবিধা বহাল থাকছে সরকারি চাকরিজীবীদের

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০২:১৬ পিএম
সুবিধা বহাল থাকছে সরকারি চাকরিজীবীদের

আগামী অর্থবছরেও সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ৫ শতাংশ হারে সাধারণ ইনক্রিমেন্টের পাশাপাশি মূল বেতনের অতিরিক্ত ৫ শতাংশ (ন্যূনতম ১ হাজার টাকা) প্রণোদনাও বহাল থাকছে। এ সুবিধা সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও পাবেন।

আগামী বাজেট প্রস্তাব প্রণয়নের সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট প্রস্তুত কমিটির কর্মকর্তারা চলতি বাজেটে দেওয়া সুবিধা আগামী অর্থবছরে স্থগিত রাখার প্রস্তাব করেন। তবে এ প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত সরকারের ওপরের মহলের নির্দেশে আমলে আনা হয়নি। 

সাবেক তত্ত্বধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ বি মো. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘সরকার আর্থিক সংকটে রয়েছে। অনেক খাতের খরচ কাটছাঁট করা হচ্ছে। অর্থ সংগ্রহে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ নিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার আগামী অর্থবছরের জন্য এই চাকরিজীবীদের সুবিধা স্থগিত করলে ভালো হবে। তবে সরকার কোনো সুবিধা দিয়ে তা প্রত্যাহার করলে বা স্থগিত করলে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়।’

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই ডলারসংকট দেখা দেয়। আর এতে বছর দুয়েক ধরে দেশের বাজারে পণ্যসংকট দেখা দেয়। বাজারে প্রায় সবকিছুর দাম বাড়তে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি দিতেই সরকারি চাকরিজীবীদের সুবিধা দেওয়া হয়। 
রপ্তানি প্রণোদনাসহ বিভিন্ন খাতের প্রণোদনার হার প্রতিবছরের বাজেটে নতুন করে নির্ধারণ করা হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঘোষিত সরকারি চাকরিজীবীদের এই প্রণোদনা সরকার বাতিল না করা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। 

চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ৫ শতাংশ হারে সাধারণ ইনক্রিমেন্টের সঙ্গে প্রণোদনা দেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে যাচাই-বাছাই করে মূল বেতনের অতিরিক্ত ১ হাজার টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়। 

সূত্র জানায়, আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় বরাদ্দ থাকতে পারে ৮৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বেতন-ভাতায় বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ বা ৬ হাজার কোটি টাকা বেশি। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ আছে ৭৭ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা। বেতন-ভাতার পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত করপোরেশন ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধা ও গ্রাচ্যুইটিতে বরাদ্দের অর্থ যোগ করলে আগামী অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় বরাদ্দ ছিল ৮০ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা। তবে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ কমিয়ে ৭৭ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় প্রকৃত ব্যয় ছিল ৬৩ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। এর আগের অর্থবছরে (২০২১-২২) এ খাতে প্রকৃত ব্যয় ছিল ৬২ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা। আর ২০২০-২১ অর্থবছরে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৬১ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা।

সরকারি কর্মচারীরা ২০১৫ সালের বেতন কমিশন অনুযায়ী বেতন-ভাতা পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী এ বেতন কমিশন প্রণীত হয়েছিল। 

এ কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছিল, আর নতুন বেতন কমিশন গঠন করা হবে না। প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট বা বেতন বাড়ানো হবে। এ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী চললেও চলতি বছর দ্রব্যমূল্য অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার সুবিধা বাড়ানো হয়। 

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি হিসাব অনুযায়ী, দেশে সরকারি কর্মচারী ১৪ লাখ। বিভিন্ন করপোরেশন এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিয়ে হিসাব করলে প্রায় ২২ লাখ। সরকারি চাকরিতে ২০টি ধাপ (গ্রেড) রয়েছে। প্রথম ধাপে বেতন-ভাতা পান সচিবরা।