ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

১৯ দিন পর ফের ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় পুড়ল চুয়াডাঙ্গা

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০৬:২০ পিএম
আপডেট: ২৪ মে ২০২৪, ০৬:৩৭ পিএম
১৯ দিন পর ফের ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় পুড়ল চুয়াডাঙ্গা
ছবি : খবরের কাগজ

চুয়াডাঙ্গায় আবারও ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন মানুষ।

চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৪ মে) বেলা ৩টার চুয়াডাঙ্গায় ৪০ দশমিক তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এসময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৪২ শতাংশ। যা আজ চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

এর আগে, গত ৫ মে চুয়াডাঙ্গায় ৪০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। টানা ১৯ দিন পর আবারও ৪০ ডিগ্রি তাপে পুড়ল চুয়াডাঙ্গা।

তবে আগামীকাল থেকে তাপমাত্রা কমতে পারে বলে জানিয়ে চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, তাপমাত্রা আগামীকাল থেকে কমতে শুরু করতে পারে। পরদিন অর্থাৎ রবিবার বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে।

আফজালুল হক/এমএ/

ঈদের পর নতুন সূচিতে চলবে মেট্রোরেল

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৭:১১ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৭:১১ পিএম
ঈদের পর নতুন সূচিতে চলবে মেট্রোরেল
ছবি : সংগৃহীত

ঈদুল আজহার পর নতুন সূচিতে চলাচল করবে মেট্রোরেল। সরকার নির্ধারিত নতুন অফিস সময়সূচির জন্য মেট্রোরেলের পিক ও অফ পিক আওয়ারের সময় বদলে যাচ্ছে। 

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ভবনে মেট্রোরেলের কার্যালয়ে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক এ তথ্য জানান। 

তিনি বলেন, ‘গত ৬ জুন সরকার থেকে অফিসের সময়সূচি ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত করা হয়েছে। এই সময়সূচি ঈদের পর ১৯ জুন থেকে কার্যকর হবে। এজন্য মেট্রোরেলের পিক ও অফ পিক আওয়ারের সময়েও পরিবর্তন আনা হয়েছে।’

এমএএন ছিদ্দিক জানান, উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে মতিঝিল স্টেশন পর্যন্ত সকাল ৭টা ১০ মিনিট থেকে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত আগের মতোই স্পেশাল অফ পিক থাকবে। এই সময় হেডওয়ে হবে ১০ মিনিট। আর সকাল ৭টা ৩১ মিনিট থেকে বেলা ১১টা ৩৬ মিনিট পর্যন্ত পিক আওয়ার। এই সময় হেডওয়ে হবে ৮ মিনিট। আবার বেলা ১১টা ৩৭ মিনিট থেকে দুপুর ২টা ২৪ মিনিট পর্যন্ত অফ পিক আওয়ার। এ সময় হেডওয়ে ১২ মিনিটের। আবার দুপুর ২টা ২৫ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৩২ মিনিট পিক আওয়ার। এ সময় হেডওয়ে ৮ মিনিট। আবার রাত ৮টা ৩৩ মিনিট থেকে ৯টা পর্যন্ত স্পেশাল অফ পিক। এ সময় হেডওয়ে হবে ১০ মিনিট। 

তিনি জানান, মতিঝিল থেকে উত্তরা উত্তর পর্যন্ত সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত স্পেশাল অফ পিক। এই সময় হেডওয়ে ১০ মিনিট। সকাল ৮টা ১ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৮ মিনিট পর্যন্ত পিক আওয়ার। এ সময় হেডওয়ে ৮ মিনিট। দুপুর ১২টা ৯ মিনিট থেকে দুপুর ৩টা ৪ মিনিট পর্যন্ত স্পেশাল অফ পিক। এই সময় হেডওয়ে ১২ মিনিট। আবার দুপুর ৩টা ৫ মিনিট থেকে রাত ৯টা ১২ মিনিট পর্যন্ত পিক আওয়ার। এই সময় হেডওয়ে ৮ মিনিট। রাত ৯টা ১৩ মিনিট থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত স্পেশাল অফ পিক। এই সময় হেডওয়ে ১০ মিনিট।

এমএএন ছিদ্দিক বলেন, ‘আগের মতো মেট্রোরেলের সাপ্তাহিক বন্ধ শুক্রবার। শনিবার ব্যতীত সব সরকারি ছুটির দিন মেট্রোরেলের হেডওয়ে ১২ মিনিটের পরিবর্তে ১৫ মিনিট করা হয়েছে।’ 

তিনি জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১৭ জুন মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ থাকবে। ঈদের দিনের পর কোরবানির পশুর চামড়া, কাঁচা বা রান্না করা মাংস মেট্রোরেলে বহন করা যাবে না। 

মেট্রোরেলের ভাড়া বৃদ্ধির প্রসঙ্গে ডিএমটিসিএল এমডি বলেন, ‘ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ভাড়া বাড়বে। এটা ৩০ জুনের আগে বলা যাচ্ছে না।’

তিনি জানান, ২ হাজার ২২০ জন যাত্রী ধারণক্ষমতা সম্পন্ন একেকটি মেট্রোরেলে গড়ে ১৬০০-১৭০০ যাত্রী যাতায়াত করে। এখন দিনে ৩ লাখ ২৫ হাজার যাত্রী মেট্রোরেলে যাতায়াত করে। দিনে ১৯৪ বার মেট্রোরেল যাওয়া আসা করলেও ১৯ জুন থেকে ১৯৬ বার করবে।

জয়ন্ত সাহা/সালমান/ 

কৃষি জমি সুরক্ষা ও ব্যবহার আইন হচ্ছে : কৃষিমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৫:৪৭ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৫:৪৭ পিএম
কৃষি জমি সুরক্ষা ও ব্যবহার আইন হচ্ছে : কৃষিমন্ত্রী

দেশের কৃষি জমি রক্ষায় ‌‘কৃষি জমি সুরক্ষা ও ব্যবহার আইন’ নামে একটি আইন পাসের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুস শহীদ। এ সময় দেশে আবাদযোগ্য জমি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। 

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. মামুনুর রশীদ কিরনের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। সংসদে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট আয়তন ১ কোটি ৪৯ লাখ ২১ হাজার হেক্টর ও মোট আবাদযোগ্য জমি রয়েছে ৮৮ লাখ ১৭ হাজার ৯৩৫ হেক্টর অর্থাৎ প্রায় ৫৯ শতাংশ।’

তিনি জানান, ‘অকৃষি কাজে কৃষি জমির ব্যবহার সীমিত রাখা এবং যত্রতত্র স্থাপনা না করার বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখপূর্বক গৃহায়ন ও গণপূর্ত, ভূমি এবং শিল্প মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিষয়টি নিশ্চিতকরণের উদ্যোগ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

এমপি আলী আজমের এক প্রশ্নের জবাবে মো. আব্দুস শহীদ বলেন, ‘জমির উর্বরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাটি পরীক্ষা করে সার সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। সুষম মাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহারের জন্য পরামর্শ এবং জৈব সার হিসেবে কম্পোস্ট, ভার্মি কম্পোস্ট, সবুজ সার, খামারজাত সার উৎপাদন ও ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় সেচের ব্যবস্থা করা হয়।’

এলিস/সালমান/

পশু কেনাবেচায় হয়রানি হলে ৯৯৯-এ কল করবেন: আইজিপি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৪:৩০ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৫:০০ পিএম
পশু কেনাবেচায় হয়রানি হলে ৯৯৯-এ কল করবেন: আইজিপি

কোরবানির পশু কিনতে বা বিক্রি করতে গিয়ে কেউ হয়রানির শিকার হলে ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে জানালেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) দুপুরে গাবতলীর কোরবানির পশুর হাট ও বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় একথা বলেন তিনি।

আইজিপি বলেন, গরুর হাটে গরু কিনতে গিয়ে কেউ যদি হয়রানির শিকার হন তাহলে পুলিশকে জানান। প্রয়োজনে ৯৯৯-এ কল করে জানান। পুলিশ তড়িৎ ব্যবস্থা নেবে। নৌপথে ও সড়ক পথে কোরবানির পশুবাহী গাড়ির সামনে ব্যানারে লেখা থাকতে হবে কোন হাটে যাবে। তাহলে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নিতে সুবিধা হবে। কেউ সমস্যায় পড়লে আর পুলিশকে দ্রুত জানালে আমরাও দ্রুত সহায়তা করতে পারব।

তিনি বলেন, বরাবরের মতো এবারও আমরা ঈদ উপলক্ষ্যে পশুর হাট, রেল, সড়ক ও নৌপথে ঈদযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবকিছু মিলিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি।

কোরবানির ঈদের চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, রোজার ঈদে একমুখী চাপ থাকে। কিন্তু কোরবানির ঈদে সাধারণত যেটা ঘটে সেটা হচ্ছে, ঘরমুখো মানুষের চাপ সড়কে যেমন থাকে তেমনি, পশুবাহী ট্রাক-পিকআপও চলাচল করে। অর্থাৎ মানুষ বাড়ি যায়, গরু আসে। সড়কে দ্বিমুখী চাপ মোকাবিলা করতে হয়। পুরো বিষয় বিবেচনায় রেখে ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সঠিক রাখার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কোরবানির পশুবাহী গাড়ি যাতে যথাযথভাবে নিরাপদে চলাচল করতে পারে, ঢাকাসহ সারা দেশে সে বিষয়ে ব্যবস্থা করা হয়েছে। সড়কে হাইওয়ে পুলিশ ব্যাপক নজরদারি করছে। 

পুলিশ বুধবার রাত থেকে মহাসড়কে চাপ দেখছে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ঘরমুখো মানুষের আরও চাপ আজ (১৩ জুন) বিকেল থেকে শুরু হবে। ঈদের দু’একদিন আগ পর্যন্ত এই চাপ অব্যাহত থাকবে।

আইজিপি বলেন, নির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া মহাসড়কে কোনো গরুবাহী গাড়ি কেউ থামাতে পারবে না। এ ব্যাপারে হাইওয়ে পুলিশসহ পুলিশের সব ইউনিটকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা সজাগ রয়েছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করার জন্য এবং পশুর হাটের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা আন্তঃমন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন বিভাগে মিটিং করেছি। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পুলিশ, পরিবহণ, হাট কর্তৃপক্ষ, ইজারাদার ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। সবাই মিলে আমরা কাজ করছি। আশা করছি এই ঈদে নির্বিঘ্ন হবে সব কিছু।

ট্রাক ও ট্রলারে অতিরিক্ত পশু পরিবহণ না করার অনুরোধ জানিয়ে আইজিপি বলেন, অতিরিক্ত লোডের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। তাতে পশু মানুষ উভয়ে মারা যেতে পারে। তাই নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি আগে খেয়াল রাখুন।

হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগের প্রমাণ পেলে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে হুঁশিয়ারি দিয়ে আইজিপি বলেন, অজ্ঞানপার্টি মলমপার্টি অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের কোনো বিষয় থাকলে অভিযোগ থাকলে পুলিশকে জানান, পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। পশুর হাটে পরিবহণ সেক্টরে কোনো ধরনের চাঁদাবাজকে ছাড় দেওয়া হবে না।

কোরবানির ঈদকে ঘিরে নগদ টাকার চেয়ে ব্যাংকে লেনদেন করার পরামর্শ দেন আইজিপি। 

তিনি বলেন, বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন করলে বা পরিবহণ যদি করতে হয় তাহলে ব্যাংকে যান, পুলিশের সহযোগিতা নিন। অনেক সময় অনেকে সমস্যায় পড়েন। অপরাধীরা অপরাধ করার সুযোগ পায়। এটা করবেন না, পুলিশের সহযোগিতা নিন। পুলিশ সেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। হয়ত ১০-২০ মিনিট দেরি হতে পারে, কিন্তু এর জন্য আপনি ঝুঁকি নিতে যাবেন কেন?

জাল টাকা সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে অনুরোধ জানিয়ে আইজিপি বলেন, জাল টাকার লেনদেন যাতে না হয় সেজন্য প্রত্যেকটি মার্কেটে জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন স্থাপন করেছি। কেউ যদি জানতে পারেন বুঝতে পারেন পুলিশকে সহযোগিতা করেন পুলিশকে জানান পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।

খাজা/অমিয়/

কৃষি এগিয়ে গেলেই খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাড়বে: খাদ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৩:২৬ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৪:১৭ পিএম
কৃষি এগিয়ে গেলেই খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাড়বে: খাদ্যমন্ত্রী
ছবি: খবরের কাগজ

দেশের কৃষি যত এগিয়ে যাবে, আমাদের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা আরও বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে খাদ্যের অভাবে কোনো মানুষ মারা গেছে এমন ইতিহাস নেই। শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ। পাশাপাশি তিনি কৃষিকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। অর্থাৎ কৃষি যত এগিয়ে যাবে, আমাদের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলোতে সরকারি প্রিমিক্স কার্নেল ফ্যাক্টরি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘যখন দেশে খাদ্যের অভাব ছিল তখন অনেকেই ভাতের মাড় খেত। অনেকেই আবার রুটি খেত। আটা কিনলে মনে করত সে মনে হয় সবচেয়ে গরিব মানুষ। আর এখন কিন্তু গরিবরা তিন বেলা ভাত খায় এবং ধনীরা আটা খায়। সেটা ওজন বাড়ার ভয়েই হোক কিংবা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার জন্যই হোক।’

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চাল যতই চকচকে খাই না কেন, পাঁচবার ছাঁটাইয়ের পর এতে পুষ্টিগুণ থাকে না। এখন পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল উৎপন্ন করতে হচ্ছে। শুধু চকচকে করলেই হয় না এটিকে পিচ্ছিল করতে হলে স্যালাইন ওয়াটার ড্রপ বাই ড্রপ দিতে হয় তা দিয়ে চাল খাচ্ছি। ছাঁটাই বন্ধে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই ছাঁটাই, তিন ছাঁটাইয়ের বেশি দিতে পারবে না। এ নিয়ে আইন হয়েছে, শিগগিরই প্রজ্ঞাপনের পর মিল মালিকদের ডেকে জানিয়ে দেওয়া হবে।’

জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হকের সভাপতিত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসমাইল হোসেন, অতিরিক্ত মহাপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন, র্যাব-১১-এর অধিনায়ক (সিও) তানভীর মাহমুদ পাশা, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন) আমির খসরুসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বিল্লাল হোসাইন/সাদিয়া নাহার/অমিয়/

শেখ হাসিনাকে পাশে চান গ্লোবাল ফান্ড-স্টপ টিবি জোটের নেতারা

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০১:১৩ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৩:৫৬ পিএম
শেখ হাসিনাকে পাশে চান গ্লোবাল ফান্ড-স্টপ টিবি জোটের নেতারা

গ্লোবাল ফান্ড ও স্টপ টিবি পার্টনারশিপের নেতারা গ্লোবাল ফান্ডের চ্যাম্পিয়নদের জোটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় বলে জানিয়েছেন গ্লোবাল ফান্ডের নির্বাহী পরিচালক পিটার স্যান্ডস ও স্টপ টিবি পার্টনারশিপের নির্বাহী পরিচালক ড. লুসিকা দিতিউ।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাতে তারা এ আবেদন জানান।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব মো. নাঈমুল ইসলাম খান সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিং করার সময় বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা সংস্থা দুটির নেতৃবৃন্দের তালিকায় রয়েছেন।

সংস্থা দুটি বাংলাদেশে টিবি, এইচআইভি ও ম্যালেরিয়া এবং এর অর্থায়ন নিয়ে কাজ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক বিস্তৃত ও গভীর করতে চায়।’

প্রেস সচিব বলেন, তারা আসলে চান যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তহবিল সংগ্রহের জন্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক ব্যবহার করবেন।

তিনি বলেন, উভয় নির্বাহী পরিচালকই টিবি, এইচআইভি ও ম্যালেরিয়া সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এটিকে ‘বিস্ময়কর’ বলে উল্লেখ করেন।

মো. নাঈমুল ইসলাম খান আরও তুলে ধরেন যে, পাহাড়ি এলাকা ছাড়া বাংলাদেশে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বাংলাদেশের এইচআইভি পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের এই অর্জনগুলো তারা তুলে ধরবেন।’

এ প্রসঙ্গে আগামী দিনে তাদের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে দুই নির্বাহী পরিচালক প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘আপনি যোগ দিলে বাংলাদেশের সাফল্যের গল্প বিশ্ব অঙ্গনে তুলে ধরা হবে। আর এর মাধ্যমে বাংলাদেশের চাহিদাও জোরালো হবে।’

তারা উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই এই সাফল্যগুলো অর্জন করেছে এবং আর কিছু সহায়তা পেলে বাংলাদেশ এসব রোগ নির্মূলের চূড়ান্ত লক্ষ্য স্পর্শ করার সাফল্য অর্জন করতে পারবে।

বৈঠকে গ্লোবাল ফান্ডের নির্বাহী পরিচালক পিটার স্যান্ডস এবং স্টপ টিবি পার্টনারশিপের নির্বাহী পরিচালক ড. লুসিকা ডিটিউ দাবি করেন যে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার মানুষ যক্ষ্মাসংক্রান্ত কারণে মারা যায়।

প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংখ্যা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন এবং বৈঠকে উপস্থিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চান। 

তারা জানান, তাদের তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রায় ২৬ হাজার থেকে ২৭ হাজার মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যক্ষ্মাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বের করতে একটি জরিপ চালাতে বলেন। গ্লোবাল ফান্ড এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহায়তা করবে। তারা দ্রুত টিবি শনাক্ত করতে এআই চালিত হাই-টেক এক্স-রে মেশিন দিয়ে দেশে মোবাইল ডায়াগনস্টিক ডেভেলপমেন্ট পরিচালনায়ও বাংলাদেশকে সাহায্য করবে।’

প্রেস সচিব উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী ও নির্বাহী পরিচালকদ্বয় দেশের এইচআইভি-সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ন্ত্রণে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন।
তারা সম্মত হন যে ‘এইচআইভি সম্পর্কিত সমস্যা মোকাবিলায় আমাদের প্রচেষ্টা বন্ধ করা উচিত নয়, যদিও বাংলাদেশ এ বিষয়ে খুব ভালো করছে। এতে অবশ্যই আত্মতৃপ্তিতে ভোগা উচিত হবে না, যা খারাপ সংবাদ বয়ে আনতে পারে।’

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের অর্জন যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং দেশকে আরও ভালো অবস্থানে আনতে পারে সে জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরালোভাবে চালিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, অপুষ্টি ও পরিচ্ছন্নতাকে যক্ষ্মার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

নাঈমুল ইসলাম খান আরও বলেন, তারা সাফল্যকে আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী এবং বাংলাদেশের জন্য তহবিল নিশ্চিত করতে প্রস্তুত।

কমিউনিটি ক্লিনিক ইস্যু সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী সংক্ষিপ্তভাবে তার কার্যক্রম এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে কীভাবে সহায়তা করছে তা বর্ণনা করেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গ্লোবাল ফান্ড হলো এইচআইভি, টিবি ও ম্যালেরিয়াকে পরাস্ত করতে এবং সবার জন্য একটি স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ, আরও ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য একটি বিশ্বব্যাপী অংশীদারত্বমূলক সংস্থা।

তারা সবচেয়ে মারাত্মক সংক্রামক রোগগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করতে, এসব রোগ বৃদ্ধিতে ইন্ধন দেয় এমন অন্যায়কে চ্যালেঞ্জ করতে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ১০০টিরও বেশি দেশে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও মহামারি প্রস্তুতিকে জোরদার করতে বছরে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি সংগ্রহ ও বিনিয়োগ করে।

তারা সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে এমন সমাধান খুঁজে বের করতে বিশ্বনেতা, সম্প্রদায়, সুশীল সমাজ, স্বাস্থ্যকর্মী ও বেসরকারি খাতকে একত্রিত করে এবং তা বিশ্বব্যাপী নিয়ে যায়।

স্টপ টিবি পার্টনারশিপ হলো ইউনাইটেড নেশনস অফিস ফর প্রজেক্ট সার্ভিসেসের (ইউএনওপিএস) একটি প্রতিষ্ঠান। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এর সেক্রেটারিয়েট অবস্থিত।

২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ অংশীদারত্ব সারা বিশ্বের এক হাজার ৬০০টি অংশীদার সংস্থাকে (আন্তর্জাতিক ও প্রযুক্তিগত সংস্থা, সরকারি প্রোগ্রাম, গবেষণা ও অর্থায়ন সংস্থা, ফাউন্ডেশন, এনজিও, সুশীল সমাজ ও সম্প্রদায়ের গোষ্ঠী এবং বেসরকারি খাতসহ) সংঘবদ্ধ করে যক্ষ্মা (টিবি) বিশ্বব্যাপী নির্মূলে নেতৃত্ব দেয়। সূত্র: বাসস

অমিয়/