ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

ঈদযাত্রায় রেলের টিকিট মিলতে পারে ২ জুন থেকে

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ০৭:৩০ পিএম
আপডেট: ২৪ মে ২০২৪, ০৭:৩০ পিএম
ঈদযাত্রায় রেলের টিকিট মিলতে পারে ২ জুন থেকে
ছবি : সংগহীত

আসন্ন ঈদুল আজহার ট্রেনের অগ্রিম টিকিট আগামী ২ জুন থেকে শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। গত বৃহস্পতিবার সকালে রেল ভবনে অনুষ্ঠিত এক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এই প্রস্তাব জানানো হয়।

রেলওয়ের মহাপরিচালক সরদার শাহাদাৎ আলী শুক্রবার (২৪ মে) জানান, আগামী ১৭ জুনকে ঈদের দিন ধরে ২ জুন থেকে আন্তনগর ট্রেনের আসন অগ্রিম বিক্রি করার প্রস্তাব জানানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এবার ঈদের আগে পাঁচ দিন ট্রেন যাত্রা ধরা হতে পারে। যদিও গত ঈদে ছুটি বেশি থাকায় সাত দিন ধরা হয়েছিল। রেলওয়ে জানিয়েছে, সভায় স্বাভাবিক ও বিশেষ ট্রেন সার্ভিস পরিচালনা, অগ্রিম আসন বিক্রি, টিকিট কালোবাজারি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, যাত্রীদের নিরাপদ চলাচল ও প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভা সূত্রে জানা গেছে, ঈদকে কেন্দ্র করে বরাবরের মতো এবারও ট্রেনের অগ্রিম আসন বিক্রি করবে রেলওয়ে। ঘরমুখো যাত্রীদের ভ্রমণের সুবিধার্থে আগামী ২ জুন থেকে ঈদযাত্রায় ১০ দিন আগের আন্তনগর ট্রেনের অগ্রিম আসন বিক্রি শুরু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সব ঠিক থাকলে আগামী ২ জুন থেকে ট্রেনের অগ্রিম আসন বিক্রি শুরু হতে পারে। 

রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, সক্ষমতা অনুযায়ী এবার ঈদে পশ্চিমাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চল মিলে মোট ১০ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানো হতে পারে। ঈদে ট্রেন ভ্রমণের সার্বিক প্রস্তুতি ও ট্রেনের অগ্রিম আসন বিক্রি নিয়ে আগামী সোমবার সংবাদ সম্মেলন হতে পারে। সেখানে বিস্তারিত জানাবেন রেলমন্ত্রী।

সভার কার্যবিবরণীতে দেখা যায়, এবারও ঈদে ট্রেনের সব আসন অনলাইনে অগ্রিম বিক্রি হবে। পশ্চিমাঞ্চলে চলাচল করা সব আন্তনগর ট্রেনের আসন সকাল ৮টায় এবং পূর্বাঞ্চলে চলাচল করা সব আন্তনগর ট্রেনের আসন বেলা ২টা থেকে বিক্রি করা হতে পারে।

রেলওয়ের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ঈদের আগে আন্তনগর ট্রেনের ১২ জুনের আসন বিক্রি হতে পারে ২ জুন; ১৩ জুনের আসন বিক্রি হতে পারে ৩ জুন; ১৪ জুনের আসন বিক্রি হতে পারে ৪ জুন; ১৫ জুনের আসন বিক্রি হতে পারে ৫ জুন; ১৬ জুনের আসন বিক্রি হতে পারে ৬ জুন। এ ছাড়া যাত্রীসাধারণের অনুরোধে নন-এসি কোচের ২৫ শতাংশ আসন যাত্রা শুরুর আগে প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে পাওয়া যেতে পারে।

দেশের অর্থনীতির বড় দায় খেলাপি ঋণ, সংসদে জাহেদী

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৮:৪৯ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৮:৪৯ পিএম
দেশের অর্থনীতির বড় দায় খেলাপি ঋণ, সংসদে জাহেদী
বাজেট আলোচনায় বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী মহুল। ছবি : সংগৃহীত

‘বর্তমানে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৮২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা। যা আমাদের দেশের জন্য অনেক বড়। যদিও শতাংশের দিক থেকে এটি ১১.১০ শতাংশ। এর মধ্যে আদায় হয়েছে ৫৮ হাজার কোটি টাকা। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন মামলার কারণে ২ লাখ ১২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা সরকারের অনাদায়ী হয়ে আছে। সারাদেশে আদালতে আটকে থাকা মামলা রয়েছে ২ লাখ ৮২ হাজার ৯৬টি। এ মামলা কীভাবে নিষ্পত্তি হবে জানা নেই। যে ঋণ দেওয়া হয়েছে তার ২৫ শতাংশ আমরা পাচ্ছি না। এটা আমাদের অর্থনীতির জন্য বড় দায়।’

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) সংসদে বাজেট আলোচনায় এসব কথা বলেন ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী মহুল। 

এ সময় তিনি কৃষিতে ভুর্তকির কমানোর সমালোচনা করে বলেন, মূল্যস্ফীতির জন্য যে ৭৪৯টি পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় এর মধ্যে ৫০০টির বেশি কৃষিজাত পণ্য। তাই মূল্যস্ফীতি কমাতে হলে কৃষির উৎপাদন বাড়াতে হবে এবং কৃষককে ভুর্তকি দিতে হবে। কৃষির ভুর্তকির ক্ষেত্রে ৩২.৭ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কৃষিনির্ভর দেশে কৃষিতে ভুর্তকি না কমিয়ে বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। ২০২৩-২৪ সংশোধিত বাজেটে কৃষিতে ভুর্তকি ছিলো ২৫ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা টাকা। আগামীবছর কৃষিতে বরাদ্দ একলাফে ১৭ হাজার কোটিতে নেমে গেছে। তাই কৃষিতে ভুর্তকি যদি বাড়ানো না যায় তাহলে গত বছর যা ছিল তা রাখার সুপারিশ করেন তিনি।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়ে এমপি জাহেদী বলেন, ওএমএস, খাদ্য ভুর্তকি, ভিজিএফ, মাতৃ ও শিশু উন্নয়ন কর্মসূচি- প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া অত্যন্ত যুগোপযোগী ও কল্যাণকর একটি কর্মসূচি। এর মধ্যে ওএমএসে মাত্র ৪ শতাংশ বাজেট বাড়োনো হয়েছে। এটা অত্যন্ত অপ্রতুল। অন্যদিকে, খাদ্য ভুর্তকিতে ২০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেবামূলক খাতে ২০ শতাংশ কমানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেন তিনি। ভিজিএফে মাত্র ৭ শতাংশ বরাদ্দ বেড়ে ৫৬৩ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। এখানে বরাদ্দ ১ হাজার কোটি টাকা করার পরামর্শ দেন তিনি। মাতৃ শিশু উন্নয়ন ও পেনশন কর্মসূচিতে বরাদ্দ বাড়ানোয় ধন্যবাদ জানান তিনি।

শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, ক্যাডেট কলেজগুলো দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ার সত্ত্বেও সবসময় বাজেট সংকটে থাকে। আগামী অর্থবছরে ক্যাডেট কলেজ শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে এবং সঠিকভাবে পরিচালনা করতে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন তা ব্যবস্থা করার সুপারিশ করেন তিনি।

হাসপাতালে ফার্মাসিস্ট নিয়োগের ব্যাপারে ইতিবাচক সম্মতি দেওয়ায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে এমপি জাহেদী বলেন, হাসপাতালগুলোতে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথম বছরে ছয়শ ফার্মাসিস্ট নিয়োগ হতে পারে। তাই দেশের স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে জনবল নিয়োগে প্রয়োজনীয় অর্থ প্রদানে অর্থমন্ত্রণালয়ের প্রতি সুপারিশ করেন তিনি।

এ সময় তিনি ঝিনাইদহে মেডিকেল কলেজ ও আড়াইশ শয্যা হাসপাতালে ক্যান্সার রোগীদের কেমোথেরাপি, কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস ও হার্টের রোগীদের সিসিওর ব্যবস্থা করতে বিশেষায়িত ইউনিট চালু করার সুপারিশ করেন। এছাড়া ঝিনাইদহে কৃষি ফার্মকে কেন্দ্র করে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সুপারিশ করেন তিনি।

ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৮:৪৮ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৮:৪৮ পিএম
ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের
ছবি : খবরের কাগজ

গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে ও ফিলিস্তিনের নিপীড়িত মুসলমানদের পাশে মানবিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ। পাশাপাশি কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী এ দাবি জানান। 

তিনি বলেন, ১৯৪৮ সালে সম্পূর্ণ অন্যায় ও অবৈধভাবে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ৭৭ ভাগ ভূমি দখল করে ইসরায়েল নামক একটি রাষ্ট্র গঠিত হয়। অবৈধভাবে গঠিত রাষ্ট্রটি ৭৬ বছর ধরে হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যা, গুম, ধর্ষণ, কারাগারে বন্দি করে আসছে। ফিলিস্তিনি জনগণ যেন ‘নিজ ভূমে পরবাসী’।

লিখিত বক্তব্যে ৭ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো- গাজার মুসলমানদের জন্য কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদদের আর্থিক সহায়তা বৈধ উপায়ে রাফায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা, সব ভেদাভেদ ভুলে ইসরায়েলি বর্বরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখা, সংবাদ মাধ্যমের প্রচার অব্যাহত রাখা, পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনে সহায়তার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় ও সংস্থাভিত্তিক সহায়তা প্রদান করা, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতির জন্য কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা, ইসরায়েলি পণ্য বর্জন করা এবং ফিলিস্তিনি মুসলমানদের হেফাজত ও বিজয়ের জন্য দোয়া করা।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি মাওলানা জুবায়ের আহমদ, মুফতি ইকবাল, মহাসচিব মাওলানা মুস্তাকিম বিল্লাহ হামিদী, মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, মাওলানা শুয়াইব আহমদ আশরাফী, মাওলানা মাজহারুল ইসলাম, মাওলানা ফয়জুল্লাহ, এনামুল হক আইয়ুবী, মাওলানা জালাল আহমদ, মাওলানা নাসির উদ্দিন, মাওলানা নজরুল ইসলাম, মাওলানা আবুল খায়ের ভৈরবী, শায়েখ ইসমাইল হোসাইন সাইফী, মুফতি মুয়াবিয়া আল হাবিবী প্রমুখ।

প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা বিধিমালা নিবর্তনমূলক: টিআইবি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৭:৫০ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৭:৫০ পিএম
প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা বিধিমালা নিবর্তনমূলক: টিআইবি
ছবি : সংগৃহীত

২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের (ডিএসএ) নামমাত্র পরিবর্তন এনে ২০২৩ সালে সাইবার নিরাপত্তা আইন (সিএসএ) প্রণয়ন করা হয়েছে। অর্থাৎ পুরনো আইনটিই নতুন নামে আসছে। যা অনেকাংশে অগণতান্ত্রিক এবং মত প্রকাশের অন্তরায়। প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা বিধিমালা ২০২৪ পর্যালোচনা ও সুপারিশে বলা হয়, বাস্তবে সিএসএ নতুন মোড়কে নতুন নামে ডিএসএর মতোই নিবর্তনমূলক। এর অনেক পরিবর্তন দরকার। সেসব পরিবর্তন না করে এ ধরনের অপূর্ণাঙ্গ বিধিমালা ক্ষমতার অপব্যবহার, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি ও জটিলতা বাড়াবে বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। 

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি ও আর্টিকেল নাইনটিন-এর যৌথ উদ্যোগে ‘প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা বিধিমালা, ২০২৪: পর্যালোচনা ও সুপারিশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যে নিবর্তনমূলক ধারাগুলো ছিল সেগুলো সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টেও রয়ে গেছে। সে কারণে এ দেশের মানুষের অধিকার লঙ্ঘন বিশেষ করে বাক স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকতার স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে এটিকে দেখা গেছে। এবারের প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা বিধিমালায়ও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত বিধিমালায় মূল আইনের দুর্বলতা প্রতিফলিত হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা আইন ঢেলে সাজাতে হবে বিধিমালা করার আগে। বিধিমালায় দেখা যাচ্ছে, এ ধরনের কিছু করতে গেলে যে ধরনের দক্ষতা, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা থাকা দরকার, তা প্রতিফলিত হয়নি। তার মতে, সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি নামে যেটি থাকবে, তাকে অনেক বেশি ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে এর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো অস্পষ্ট হওয়ায় এটি একটি অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে। 

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল হক প্রস্তাবিত বিধিমালা নিয়ে পর্যালোচনা ও সুপারিশ তুলে ধরে বলেন, প্রস্তাবিত বিধিমালা পূর্ণাঙ্গ না। এর পরিসর ক্ষুদ্র ও সংকীর্ণ। এর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোর সংজ্ঞা সংকীর্ণ। এই সংজ্ঞায় শুধু সরকারি স্থাপনাকেই বোঝানো হয়েছে। বেসরকারি খাত, যেমন—টেলিকম, যাদের কাছে মানুষের অনেক তথ্য রয়েছে, সেগুলোকে এই কাঠামোর আওতায় আনা হয়নি। আবার সাইবার নিরাপত্তার সংজ্ঞাও অসম্পূর্ণ। কম্পিউটার সিস্টেমের ওপর ভৌত আক্রমণ যে হতে পারে, তার উল্লেখ প্রস্তাবিত বিধিমালায় নেই। এটা বড় ধরনের অস্পষ্টতা।

তিনি বলেন, একটি এজেন্সির (সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি) ছয়টি পরিচালক পদ। কিন্তু তাদের আওতায় কারা, কীভাবে থাকবেন, কী দায়িত্ব হবে, তার উল্লেখ প্রস্তাবিত বিধিমালায় নেই। ফলে এটি হতে যাচ্ছে একটি মাথাভারী প্রতিষ্ঠান। দেশে বেশির ভাগ সাইবার আক্রমণ আসে বাইরে থেকে আসে উল্লেখ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, বিদেশ থেকে কাউকে আইনের আওতায় আনতে গেলে যে আইনি কাঠামো দরকার, তা দেশে নেই। বিদেশি কেউ যদি আক্রমণ করে, তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রস্তুতি নেই।

সকল অংশীজনের মতামত ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই বিধিমালা সংশোধনের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল সাক্ষ্যের জন্য নতুন জব্দ তালিকা থাকার দরকার ছিল বিধিমালায়। ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের মানদণ্ড ঠিক করে ল্যাব করতে হবে। ল্যাব থেকে মামলার আলামত যেন কোনোভাবেই ফাঁস না হয়, সে বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। সাইবার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিমকে খেয়াল রাখতে হবে, সাইবার সুরক্ষার নামে যেন মানবাধিকার লঙ্ঘন না হয়।

আর্টিকেল নাইনটিনের আঞ্চলিক পরিচালক (বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়া) শেখ মনজুর-ই-আলম বলেন, দেশে আইন করার খুব তাড়া। আইনের মূল উদ্দেশ্য সাইবার জগতের নিরাপত্তার বিষয়টি থেকে সরে গিয়ে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণের দিকে মনোযোগ বেশি।

সবুজ/এমএ/

সিট ফাঁকা থাকলেও টিকিট না পাওয়ার অভিযোগ সত্য নয়, সংসদে বিমানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৭:৩৫ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৭:৩৫ পিএম
সিট ফাঁকা থাকলেও টিকিট না পাওয়ার অভিযোগ সত্য নয়, সংসদে বিমানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান জানিয়েছেন, সিট ফাঁকা থাকলেও বিমানের টিকিট পাওয়া যায় না। বেশির ভাগ সময় সিট ফাঁকা রেখে বিমান উড্ডয়ন করে থাকে বিমান; এমন অভিযোগ সত্য নয়।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মুজিবুল হক চুন্নুর লিখিত প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সংসদে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

বিমানমন্ত্রী বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিট যাত্রীরা বিমানের নিজস্ব ওয়েবসাইট, জিডিএস, মোবাইল অ্যাপ, কল সেন্টার এবং বিমানের নিজস্ব বিক্রয় কেন্দ্র ছাড়াও যে কোনো অনুমোদিত দেশি-বিদেশি ট্র্যাভেল এজেন্ট থেকে ক্রয় করতে পারেন। বিমানের কোনো টিকিট যাত্রীর তথ্য ছাড়া বুকিং করা সম্ভব নয়। ফলে কারোর পক্ষে একসঙ্গে অনেক টিকিট যাত্রীর তথ্য ছাড়া বুকিং করে রাখার কোনো সুযোগ নেই। কোনো এজেন্সি চাইলেই যাত্রীর তথ্য ছাড়া কোনো টিকিট বুকিং করতে পারবে না। সেই সঙ্গে কোনো এজেন্সি মিথ্যা বা ভুয়া তথ্য দিয়ে বুকিং করলে সেটি ধরে জরিমানাসহ অন্যান্য পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়। এছাড়া প্রতিটি টিকিটে বুকিং সময়সীমা দেওয়া থাকে যার মধ্যে টিকিট ক্রয় সম্পন্ন না হলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।

মন্ত্রী জানান, যেকোনো এয়ারলাইন্স ব্যবসায় ভরা মৌসুম ও মন্দা মৌসুম থাকে। যখন ফ্লাইটে চাপ কম থাকবে, তখন কিছু সিট খালি থাকতে পারে যা সারা বছরের চিত্র নয়। আসন খালি থাকা সত্ত্বেও টিকিট কিনতে গেলে বলে টিকিট নেই, এটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একটা ঢালাও অভিযোগ। এছাড়া যাত্রীরা কনফার্ম টিকিট করেও যথাসময়ে এয়ারপোর্টে উপস্থিত হতে না পারা, যাত্রীদের অনেকের ভুয়া ভিসা এবং ডকুমেন্টস থাকায় এবং ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আইনি জটিলতার কারণেও অনেক সময় আসন ফাঁকা থাকে। 

প্রসঙ্গত কিছু রুটে লোড প্যানাল্টি থাকায় কিছু সংখ্যক সিট অবিক্রিত রাখা হয় বিধায় সিট ফাঁকা থাকে। সুতরাং “সিট ফাঁকা থাকলেও বিমানের টিকিট পাওয়া যায় না; বেশির ভাগ সময় সিট ফাঁকা রেখে বিমান উড্ডয়ন করে থাকে” ওই কথাটি সত্য নয় মর্মে প্রতীয়মান হচ্ছে।

এমপি এ বি এম আনিছুজ্জামানের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন রুট বা গন্তব্যভেদে টিকিট মূল্য বিভিন্ন হয় থাকে। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন এয়ারলাইন্সসমূহ তাদের বিদ্যমান যোগান ও চাহিদা, প্রতিযোগিতামূলক বাজার, ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ নীতি, পরিষেবা প্রদান প্রভৃতির ওপর ভিত্তি করে টিকিট মূল্য নির্ধারণ করে থাকে।

এমপি মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদীর এক প্রশ্নের জবাবে ফারুক খান বলেন, বাংলাদেশের আকাশপথ ব্যবহারকারী বিভিন্ন দেশের বিমানগুলো বাংলাদেশকে সঠিক পরিমাণ রাজস্ব দিয়ে থাকে। বাংলাদেশের আকাশ পথ ব্যবহাকারী বিভিন্ন দেশের বিমানগুলো বিমানবন্দরের এরিয়া কন্ট্রোল সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলাদেশের আকাশসীমা অতিক্রম করে থাকে। ফলে এরিয়া কন্ট্রোল সেন্টার হতে দাবি করা বিল অনুসারে সব এয়ারলাইন্সের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়ে থাকে।

এলিস/এমএ/

ঈদের পর নতুন সূচিতে চলবে মেট্রোরেল

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৭:১১ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৭:১১ পিএম
ঈদের পর নতুন সূচিতে চলবে মেট্রোরেল
ছবি : সংগৃহীত

ঈদুল আজহার পর নতুন সূচিতে চলাচল করবে মেট্রোরেল। সরকার নির্ধারিত নতুন অফিস সময়সূচির জন্য মেট্রোরেলের পিক ও অফ পিক আওয়ারের সময় বদলে যাচ্ছে। 

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ভবনে মেট্রোরেলের কার্যালয়ে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক এ তথ্য জানান। 

তিনি বলেন, ‘গত ৬ জুন সরকার থেকে অফিসের সময়সূচি ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত করা হয়েছে। এই সময়সূচি ঈদের পর ১৯ জুন থেকে কার্যকর হবে। এজন্য মেট্রোরেলের পিক ও অফ পিক আওয়ারের সময়েও পরিবর্তন আনা হয়েছে।’

এমএএন ছিদ্দিক জানান, উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে মতিঝিল স্টেশন পর্যন্ত সকাল ৭টা ১০ মিনিট থেকে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত আগের মতোই স্পেশাল অফ পিক থাকবে। এই সময় হেডওয়ে হবে ১০ মিনিট। আর সকাল ৭টা ৩১ মিনিট থেকে বেলা ১১টা ৩৬ মিনিট পর্যন্ত পিক আওয়ার। এই সময় হেডওয়ে হবে ৮ মিনিট। আবার বেলা ১১টা ৩৭ মিনিট থেকে দুপুর ২টা ২৪ মিনিট পর্যন্ত অফ পিক আওয়ার। এ সময় হেডওয়ে ১২ মিনিটের। আবার দুপুর ২টা ২৫ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৩২ মিনিট পিক আওয়ার। এ সময় হেডওয়ে ৮ মিনিট। আবার রাত ৮টা ৩৩ মিনিট থেকে ৯টা পর্যন্ত স্পেশাল অফ পিক। এ সময় হেডওয়ে হবে ১০ মিনিট। 

তিনি জানান, মতিঝিল থেকে উত্তরা উত্তর পর্যন্ত সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত স্পেশাল অফ পিক। এই সময় হেডওয়ে ১০ মিনিট। সকাল ৮টা ১ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৮ মিনিট পর্যন্ত পিক আওয়ার। এ সময় হেডওয়ে ৮ মিনিট। দুপুর ১২টা ৯ মিনিট থেকে দুপুর ৩টা ৪ মিনিট পর্যন্ত স্পেশাল অফ পিক। এই সময় হেডওয়ে ১২ মিনিট। আবার দুপুর ৩টা ৫ মিনিট থেকে রাত ৯টা ১২ মিনিট পর্যন্ত পিক আওয়ার। এই সময় হেডওয়ে ৮ মিনিট। রাত ৯টা ১৩ মিনিট থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত স্পেশাল অফ পিক। এই সময় হেডওয়ে ১০ মিনিট।

এমএএন ছিদ্দিক বলেন, ‘আগের মতো মেট্রোরেলের সাপ্তাহিক বন্ধ শুক্রবার। শনিবার ব্যতীত সব সরকারি ছুটির দিন মেট্রোরেলের হেডওয়ে ১২ মিনিটের পরিবর্তে ১৫ মিনিট করা হয়েছে।’ 

তিনি জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১৭ জুন মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ থাকবে। ঈদের দিনের পর কোরবানির পশুর চামড়া, কাঁচা বা রান্না করা মাংস মেট্রোরেলে বহন করা যাবে না। 

মেট্রোরেলের ভাড়া বৃদ্ধির প্রসঙ্গে ডিএমটিসিএল এমডি বলেন, ‘ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ভাড়া বাড়বে। এটা ৩০ জুনের আগে বলা যাচ্ছে না।’

তিনি জানান, ২ হাজার ২২০ জন যাত্রী ধারণক্ষমতা সম্পন্ন একেকটি মেট্রোরেলে গড়ে ১৬০০-১৭০০ যাত্রী যাতায়াত করে। এখন দিনে ৩ লাখ ২৫ হাজার যাত্রী মেট্রোরেলে যাতায়াত করে। দিনে ১৯৪ বার মেট্রোরেল যাওয়া আসা করলেও ১৯ জুন থেকে ১৯৬ বার করবে।

জয়ন্ত সাহা/সালমান/