জনগণ যদি আচরণ পরিবর্তন না করে তাহলে সরকার একা পলিথিন ও প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয় লাভ করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের বন, পরিবেশ ও জলাবায়ু এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
বিকল্প হিসেবে চটের ব্যাগ, কাপড়ের ব্যাগ ইত্যাদির ব্যবহার বাড়াতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পলিথিন-প্লাস্টিক সস্তা নয় বরং পলিথিন-প্লাস্টিক জনজীবনকে হুমকির মুখে ফেলছে।
রবিবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় নগরের থিয়েটার ইন্সটিটিউটে পলিথিন বিরোধী ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
এরপর তিনি নগরের কাজির দেউড়িস্থ সিডিএ কাঁচাবাজার পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিবসহ পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ।
দোকানে থাকা পলিপ্রোপাইলিনের ব্যাগগুলো আলাদা করে রেখে এগুলো সরবরাহকারী কোম্পানিকে ফেরত দিতে বিক্রেতাদের নির্দেশনা দেন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, পলিপ্রোপাইলিনও প্লাস্টিক। এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া কোম্পানির দায়িত্ব।
পলিথিন ব্যবহারকারীদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জলাবদ্ধতার জন্য আপনারা সরকারকে দায়ী করেন, কিন্তু এর জন্য আপনারা দায়ী। আপনারা নিজেরা পলিথিন-প্লাস্টিক ব্যবহার করবেন, এখানে সেখানে ফেলবেন, আর সরকারকে বলবেন সাফ করে দাও তাই কি হয়?
জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারের ৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'আপনাদের জন্য আমরা ৮ হাজার কোটি টাকা আনছি। এই টাকা অলরেডি পানিতে চলে গেছে। আমরা যদি এই টাকাটা নদী ভাঙনের এলাকার মানুষকে দিতাম তাদেরকে আমরা বাঁচাতে পারতাম। পলিথিন-প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতে পারলে চট্টগ্রামের মানুষ আর কোনদিন সরকারকে জলাবদ্ধতার কথা বলবে না।'
বিক্রেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'আপনাদের তিনটি কাজ। চটের ব্যাগ ব্যবহার করবেন, রাখবেন এবং ক্রেতাদের দিয়ে দেবেন। বলবেন, অনেকবার ব্যবহার করা যাবে। আর এই নাইলন, পলিথিন, পলিপ্রোপাইলিন, নেট ব্যবহার করা যাবে না। আইন হয় জনগণের স্বার্থে। এটা দেশের আইন। মানতে হবে।'
তিনি আরও বলেন, ' পলিথিন, প্লাস্টিক মাটিতে মেশে না। একটা পলিথিন ব্যাগ ১০০ বছরেও নষ্ট হবে না। এর জন্য গোটা চট্টগ্রামের মানুষ পানির নিচে থাকবে। আমাদের লবণের মধ্যে, মাছের মধ্যে, মায়ের দুধে, ব্রেইনে, রক্তে প্লাস্টিক পাওয়া গেছে। খাবারে মাধ্যমে প্লাস্টিক আপনার শরীরে ঢুকছে। আপনি পলিথিন না নিলে কোম্পানি আর বানাবে না। আপনি নেন বলেই তারা বানায়।'
পলিথিন বিষয়ে সবার প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, 'প্রথম এক মাস আমরা মনিটরিং করব, সচেতনতার মধ্য দিয়ে নিব। আমাদের পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন আসবেন। দেখবেন, আপনারা কী করছেন। এরপর আগামী মাসের মাঝামাঝি থেকে আমরা জরিমানাও করব, জব্দও করব।'
মনির/সিফাত/