কোরবানির ঈদের পর কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পশুর বর্জ্য এখনো পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। বৃষ্টির কারণে এসব বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ায় জনদুর্ভোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হিসাব অনুযায়ী এবার রাজধানীতে প্রায় ৫২ হাজার টন বর্জ্য অপসারণের দাবি করা হয়েছে।
এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন বর্জ্য অপসারণের কাজ চালিয়ে গেলেও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বর্জ্য অপসারণকাজের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে। এর ফলে রাজধানীর কিছু এলাকায় পশুর বর্জ্য অপসারণে ধীরগতি দেখা গেছে।
রাজধানীর শেওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের পাশে, অলিগলিতে, বর্জ্য স্থানান্তরের অস্থায়ী কেন্দ্র বা সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে (এসটিএস) কোরবানির বর্জ্যের স্তূপ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কিছু জায়গায় স্তূপাকারে জমে না থাকলেও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। বেশির ভাগ পশুর বর্জ্য পড়ে আছে সড়কে ও সড়কের পাশে। কোরবানির পশুর বর্জ্য ও বস্তা যেখানে-সেখানে দেখা গেছে। কোরবানির বর্জ্য মোহাম্মদপুরের রিং রোড, টিক্কাপাড়া, তাজমহল রোডের পাশে পড়ে আছে। কোনো কোনো এলাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছিলেন, কোথাও ছিলেন না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সব বর্জ্য এখন পর্যন্ত পরিষ্কার করেননি সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। এ ছাড়া ময়লার ব্যাগ ও ব্লিচিং পাউডার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেকে। রাস্তা থেকে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার না করায় এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সিটি করপোরেশনগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধি করা না হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশদূষণ বেড়ে যাবে।
এদিকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বলছেন, বাসা থেকে ময়লা তোলা হলেও মোড় বা খোলা জায়গায় আবর্জনা রয়ে গেছে। সিটি করপোরেশনের ময়লা অপসারণের বড় গাড়িগুলো ধীরগতিতে চলে, ফলে ময়লা আবর্জনাও অপসারিত হচ্ছে ধীরে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, এবার ঈদে উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রায় ২০ হাজার টন বর্জ্য তৈরি হয়েছে। এই বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করার জন্য সিটি করপোরেশনের প্রায় ১০ হাজার কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজে ২২৪টি ডাম্প ট্রাক, ৩৮১টি পিকআপ, ২৪টি পেলোডার সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করেছে। ব্যবহার করা হয়েছে ১২ লাখ ৫০ হাজার পলিব্যাগ, আড়াই হাজার বস্তা ব্লিচিং পাউডার, চার হাজার ক্যান স্যাভলন।
এ ছাড়া আমিন বাজার ল্যান্ডফিলে কোরবানির বর্জ্য ডাম্পিং করার জন্য আলাদা প্ল্যাটফর্ম রেডি রাখা হয়েছে এবং পরিবেশসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ২টি পরিখা খনন করা হয়েছে। সেখানেই বর্জ্য অপসারিত হচ্ছে।
এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। এ জন্য প্রায় ১৩ হাজার মাঠকর্মী কাজ করেছেন। বর্জ্য অপসারণে ৪৪টি কম্পেক্টর, ৩৯টি কনটেইনার ক্যারিয়ার, ১৬টি পেলোডারসহ ২০৭৯টি যানবাহন ব্যবহার করা হয়েছে।
এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত ৫৪টি ওয়ার্ডে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের কার্যক্রম চালু রাখা হলেও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডের বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে।
গত সোমবার সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, এ বছর ডিএনসিসির আওতাধীন এলাকায় গরু, মহিষসহ মোট ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৮০টি পশু কোরবানি করা হয়েছে। গত ৯ জুন ২০ হাজার ৮৮৯ টন বর্জ্য ল্যান্ডফিলে ডাম্পিং করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই বিপুল পরিমাণ বর্জ্য সুষ্ঠুভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য আগেই আমিন বাজার ল্যান্ডফিল প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। ফলে এবার কোরবানির বর্জ্য অপসারণের কাজ সহজে এবং সঠিকভাবে সম্পন্ন করা গেছে। তিনি বলেন, বছরজুড়ে শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়নের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হবে।
অন্যদিকে গত সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘোষণা করে রাজধানীর ওয়াসা ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, ঈদের পর থেকে তিন দিন ধরে মোট ৩১ হাজার ২২৬ মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। কোরবানি দেওয়া হয়েছে মোট ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৫৪টি পশু। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে ১২ হাজার ৮৫৩ জন সম্পৃক্ত ছিলেন। বর্জ্য অপসারণে ছোট-বড় ২ হাজার ৭৯টি যানবাহন ব্যবহার করা হয়েছে।