তাজউদ্দীন আহমদ আওয়ামী লীগে থাকলেও তিনি মনেপ্রাণে ছিলেন সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী। তিনি মনে করতেন সব মানুষ সমান হবে না, কিন্তু সব মানুষের থাকবে সমান অধিকার। তাজউদ্দীন আহমদ সম্পর্কে এসব মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট চিন্তক, লেখক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।
তিনি আরও বলেন, ‘তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন সেই বিরল রাজনৈতিক নেতা, যিনি নীরবে প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে আত্মনিয়োগ করেছিলেন।’
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের শততম জন্মদিন ছিল বুধবার (২৩ জুলাই)। এ উপলক্ষে বুধবার বিকেলে সাহিত্য পত্রিকা কালের ধ্বনি রাজধানীর বাংলামোটরের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘মুক্তিযুদ্ধের অনিবার্য সারথী: শতবর্ষে তাজউদ্দীন আহমদ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সভাপতির হিসেবে এসব কথা বলেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।
তিনি আরও বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমানের অসাধারণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পেছনে তাজউদ্দীন আহমদের দৃশ্যমান কিন্তু অবমূল্যায়িত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাজউদ্দীন আহমদ শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, ব্যক্তিগত গুণাবলিতেও ছিলেন অসাধারণ একজন মানুষ। কিন্তু তিনি কখনো নিজেকে জাহির করতে চাইতেন না। তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও অ্যাকাডেমিকভাবে কৃতী ছাত্র। ছাত্রজীবন থেকেই মানবিক চেতনায় দরিদ্র মানুষদের প্রতি ছিল তার গভীর সহানুভূতি ও মমত্ববোধ। তিনি নিজে তাদের সহযোগিতা করতেন। এ কারণেই শুধু লেখাপড়া নয়, ছাত্রজীবনেই রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনসহ সাম্রাজ্যবাদ, শোষণ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানে বন্দি থাকাকালে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন তাজউদ্দীন আহমদ। যুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকার গঠন করে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের কৌশলগত দিকগুলো দক্ষভাবে পরিচালনা করেন। স্বাধীনতার পরও তিনি দেশের পুনর্গঠন ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।’
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন সেই বিরল রাজনৈতিক নেতা, যিনি নীরবে কিন্তু প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে আত্মনিয়োগ করেছিলেন।’
অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক মোরশেদ শফিউল হাসান, কথাসাহিত্যিক আহমাদ মোস্তফা কামাল, সাংবাদিক কাজল রশীদ শাহীন, গবেষক আলমগীর খান, সংবিধান বিশেষজ্ঞ আরিফ খান প্রমুখ। স্বাগত কথা বলেন সংগঠক আলমগীর কবির এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সাংবাদিক শুভ কিবরিয়া। অতিথি হিসেবে ছিলেন লেখক গওহার নঈম ওয়ারা, গীতিকার শহীদুল্লাহ ফরায়জী, কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদার, অধ্যাপক মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে প্রকাশিত স্মরণিকা ‘অনিবার্য তাজউদ্দীন আহমদ’ সংকলনের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এতে ২১ জনের লেখা এবং তাজউদ্দীনের দুটি ভাষণ ছাপা হয়েছে। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।