অন্যদিনের মতো সোমবারও (৪ জুলাই) সকাল থেকে রাজধানীতে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ায় বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি কম ছিল। তার পরও অধিকাংশ পণ্যের দাম চড়েছে। গত সপ্তাহে পেঁয়াজের কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা ছিল। গত বৃহস্পতিবার তা ৮০ টাকায় বিক্রি হয়। সোমবার আরও দাম বেড়ে ৯০ টাকায় ঠেকেছে। এভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে ১৮০ টাকার আদার দাম এক লাফে আড়াই শ টাকা ছাড়িয়েছে। ডালের দামও কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা ও ডিমের ডজন ১৪০ টাকা ছুঁয়েছে। চাল, মাছ ও মাংস চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের কেজি আড়াই থেকে ৩ হাজারের কমে মিলছে না।
সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
বর্ষাকালে প্রায় দিন বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি কমে গেছে। তার পরও বাজারে অধিকাংশ পণ্যের দাম চড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ৬০ টাকার পেঁয়াজ ৯০ টাকা হয়েছে। বিভিন্ন বাজারের খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারিতে দর বাড়ছে। কম দামে বিক্রি করা সম্ভব না।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারের আল-আমিন, মো. অলিসহ অন্য খুচরা বিক্রেতারা বলেন, ‘গত সপ্তাহ থেকে প্রায় দিন পেঁয়াজ, আদার দাম বাড়ছে। এ জন্য আমাদেরও বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।’ গতকাল পেঁয়াজ ৮০ থেকে ৯০ টাকা, আদা ২৪০ থেকে ২৬০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে আগের মতোই আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা ও রসুনের কেজি ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়।
তবে পাইকারিতে অত বাড়েনি এই দুই পণ্যের দর। কারওয়ান বাজারের বিক্রমপুর বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী মো. সবুজ মিয়া খবরের কাগজকে বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে পেঁয়াজের দর বাড়ছেই। সোমবারও পাইকারিতে ৬৫ থেকে ৭২ টাকা কেজি বিক্রি করা হয়েছে।’
বেশি দরেই চাল বিক্রি
সোমবারও বাড়তি দরে বিভিন্ন বাজারে চাল বিক্রি করতে দেখা গেছে। খুচরা পর্যায়ে মনজুর, রশিদ, সাগর, তীরসহ অন্য কোম্পানির মিনিকেট চাল কেজিপ্রতি ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়। ডায়মন্ড, হরিণ, মোজাম্মেল কোম্পানির চালের দাম আরও বেশি, ৮৩ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হয়। আটাশ চাল ৬২ থেকে ৬৫ টাকা এবং মোটা চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়। কারওয়ান বাজারের খুচরা চাল বিক্রেতা জসিম উদ্দিনসহ অন্যরাও খবরের কাগজকে বলেন, ‘কমেনি চালের দর।’
স্থিতিশীল মুরগির দাম
আগের সপ্তাহের মতো সোমবারও বিভিন্ন বাজারে সোনালি মুরগির কেজি ৩১০ থেকে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে ব্রয়লার মুরগি কিছুটা কম, ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, দেশি মুরগি ৬৩০ থেকে ৬৫০, গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০, খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা যায়। গত সপ্তাহে কম দামে বিক্রি হলেও সোমবার ডিমের ডজন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়। আগের মতো গতকালও ইলিশ কেজিতে ২ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। ছোট ইলিশও দেড় থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।
সবজির দামও স্থিতিশীল
আগের সপ্তাহের মতো সোমবারও বিভিন্ন বাজারে বেগুন ৮০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি, করলা ৭০ থেকে ১০০, পটোল, ঝিঙে, ধুন্দল ৬০ থেকে ৮০, শসা ৬০ থেকে ১২০ , কচুরমুখী ও কাঁকরোল ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়। ঢ্যাঁড়শ ৫০ থেকে ৬০, কাঁচা পেঁপে ৪০ থেকে ৫০, কাঁচা মরিচ ২০০ থেকে ২৬০ টাকায় বিক্রি হয়। পুঁইশাক ৪০ টাকা, পাট, লালশাক ২০ টাকা আঁটি বিক্রি হয়। তবে বাজারভেদে একই পণ্য ১০ থেকে ২০ টাকা কমবেশি দামে বিক্রি হতে দেখা যায়।