ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এবার প্রায় ৯ লাখ ২৫ হাজার ৬০৫ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে তফসিলের সাড়ে তিন মাস আগে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ নির্বাচন আয়োজনে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হতে পারে।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) এসব তথ্য জানিয়েছেন নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান আরজু।
তিনি বলেন, ‘একজন নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল প্রস্তুত ও প্রশিক্ষণ তদারকি নিয়ে আমাদের বৈঠক হয়েছে। আগস্টের শেষে কোর প্রশিক্ষক ও সেপ্টেম্বরের শুরুতে টিওটি শুরু হবে। ধাপে ধাপে মাঠ পর্যায়ে যথাসময়ে সব ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের কর্মপরিকল্পনা রয়েছে।’
তিনি জানান, 'চূড়ান্ত ভোটার, ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ নির্ধারণ হলেই ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের সংখ্যা নির্ধারণ হবে। এ সংখ্যা ৯-১০ লাখ দাঁড়াতে পারে। সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা (প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার) নিয়োগের প্যানেল প্রস্তুত ও অন্যান্য দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন অফিস/প্রতিষ্ঠান থেকে জরুরি ভিত্তিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীর তালিকা সংগ্রহ করার জন্য তফসিল ঘোষণার ইসি সচিবালয় মাস দেড়েক আগে মাঠ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা পাঠায়।'
তফসিল ঘোষণার তিন থেকে সাড়ে তিন মাস আগে থেকেই কোর ও প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করতে হয়। এবার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করবে নির্বাচন কমিশন। এতে ৩৬০০ জন কর্মকর্তা প্রশিক্ষক হিসেবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ও নির্বাচন পরিচালনা বিধি’র সংশোধন কাজ দ্রুত শেষ করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠালে সে অনুযায়ী ম্যানুয়েল, নির্দেশিকা মুদ্রণের কাজ শুরু হবে। যা প্রশিক্ষণের কাজে নিয়ামক হিসেবে থাকবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ভোটার দাঁড়াত প্রায় ১৩ কোটি। এসব ভোটারের জন্য মোট ৪৪ হাজার ৯৩৪টি ভোটকেন্দ্র এবং ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৬৫টি ভোটকক্ষ লাগতে পারে। প্রতিকেন্দ্রে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা একজন, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা দুজন এবং ভোটকক্ষ প্রতি দুজন পোলিং অফিসার মিলিয়ে কেন্দ্র প্রতি ৮/১০ জনের মতো পোলিং অফিসার প্রয়োজন হয়। তাই অতিরিক্ত লোকবল প্রস্তুত রাখতে হয়। সব মিলিয়ে ৯ লাখেরও বেশি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ দিতে হবে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগে যত সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকের প্রয়োজন হবে, তার চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি লোকবল বাছাই করে প্যানেল প্রস্তুত করতে হয়।
এবার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের তফসিলের আগে ও পরে বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, রিটার্নিং অফিসার, ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তা, নির্বাহী ও বিচারিক হাকিমসহ সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাদের ঢাকায় নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট প্রশিক্ষণ আয়োজন করবে।
ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোটের জন্য ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসি। ইসি কর্মকর্তারা জানান, সে অনুযায়ী চলতি মাসের ২৯ ও ৩০ তারিখ নির্ধারিত কর্মকর্তাদের দেওয়া হবে কোর প্রশিক্ষণ। এতে ইসি সচিবালয়ের নিজস্ব কর্মকর্তা অংশ নেবেন- যা ২টি ব্যাচে ২ দিনব্যাপী হবে। এর পর পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। যেখানে ইসির মাঠ পর্যায়ের ও অন্যান্য বিভাগের সম্ভাব্য ৩ হাজার ৬০০ জন কর্মকর্তাকে ১৪০-১৫০টি ব্যাচে ২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
ভোটকে সামনে রেখে দ্রুত ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল প্রস্তুত ও প্রবাসীদের ভোটদানের অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কাজ করছে ইসি। এক্ষেত্রে আগের নির্বাচনে (২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে) ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত রাখবে সংস্থাটি। গত ৬ আগস্ট প্যানেল প্রস্তুতি সংক্রান্ত সভায় বলা হয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তালিকা সংগ্রহের তাগিদ দেওয়া হয়।
২০০৯ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রায় ৮ লাখ ২৫ হাজার জন। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৪৭ আসনে ভোটগ্রহণ করা হয়। এ ১৪৭ আসনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ২ লাখ ৯১ হাজার ৮৪৭ জন। একাদশ জাতীয় ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন।
এলিস/মেহেদী/