ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কক্সবাজারে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা মিসরকে হারিয়ে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি শেষ করল ব্রাজিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই নতুন উপ-উপাচার্য নিয়োগ দুই দিনেও সিদ্ধান্ত হলো না শূন্যরেখায় আটকে থাকা ১০ জনের পাটগ্রাম সীমান্তে পুশইন ঘিরে উত্তেজনা, লাঠিসোঁটা নিয়ে বিএসএফকে ধাওয়া নড়াইলে প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার নাগরপুরে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা রাসুল (সা.) যেভাবে চুল রাখতেন রামিসা হত্যাকাণ্ড: আদালতে আনা হলো আসামি সোহেল-স্বপ্নাকে যুক্তরাষ্ট্রে উৎসবের কাছে গোলাগুলি, আহত ১২ মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে আজ থেকে সোনারগাঁয় ফয়জুলের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার দাবিতে মানববন্ধন সক্ষমতা বাড়াতে সুপরিকল্পিত বাজেটের তাগিদ টেকনাফ দিয়ে মাছ ধরা নৌকায় মানবপাচার প্রাকৃতিকভাবেই এইচআইভি দমনে সক্ষম দুই নারীর গল্প ঝিনাইদহে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রাম্য চিকিৎসক আটক নিশ্চিহ্নের পথে শেরেবাংলার জন্মভিটা শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ আম পাড়া নিয়ে ব্যস্ত মৌসুমি শ্রমিকরা মিউচুয়াল ফান্ড ও মার্জিন ঋণ বিধিমালা বাতিলের দাবি খুলনায় ধারাবাহিক খুন-চাঁদাবাজিতে উদ্বেগ, কাজে আসছে না বিশেষ অভিযানও নারায়ণগঞ্জে এনসিপির অনুষ্ঠানের চেয়ার টেবিল ভাঙচুর, আহত ১০ জয়পুরহাটে দিনমজুরকে পিটিয়ে হত্যা গ্রাহকের ব্যানারে আন্দোলনে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তারা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয় ও কর্মদিবস কমানোর পরিকল্পনা ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা পুঁজিবাজারে লেনদেন বেড়েছে ৪৫ শতাংশ সাভারে তিন কারখানা থেকে ১৮৬৮ শ্রমিক অব্যাহতি এখনো উৎপাদনে আসেনি বন্ধ চিনিকল ৭ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল
Nagad desktop

বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে চাল ডাল ডিম ইলিশ

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:১২ এএম
আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:১৯ এএম
বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে চাল ডাল ডিম ইলিশ
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

নিত্যপণ্য কিনতে মধ্যবিত্ত এখন হিমশিম খাচ্ছে। চাল, ডাল, সবজি, ডিম, ইলিশ, মুরগির দাম এখনো অনেক বেশি। মৌসুম শেষ হতে চললেও ২ হাজার ২০০-এর নিচে মেলে না ইলিশ। ডিমের ডজন ১৪০ টাকা, চালের কেজি ৮৫ টাকা, ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজিতে। আলু, পেঁপে ছাড়া অধিকাংশ সবজির দামই ৮০ থেকে ১০০ টাকার ওপর। সোমবার (২৯   সেপ্টেম্বর)  রাজধানীর সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে।

চড়া দামেই চাল বিক্রি 
চালের দাম স্থিতিশীল রাখার জন্য সরকার আমদানির ঘোষণা দেয়। বিভিন্ন বন্দর দিয়ে চালও আসছে দেশে। কিন্তু এখনো মনজুর, রশিদ, সাগর, আকিজ, তীরসহ বিভিন্ন কোম্পানির মিনিকেট চাল কেজিপ্রতি ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে মজুমদার কোম্পানি, দাদা কোম্পানি, ডায়মন্ড, হরিণ, মোজাম্মেল কোম্পানির চাল আরও বেশি, ৮৫ টাকার কমে মেলে না। নাজিরশাইল ৯৪ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। এ ছাড়া আটাশ চাল ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা ও মোটা চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টাউন হল বাজারের চাল বিক্রেতা অহিদুর রহমান ও সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের চাল বিক্রেতা সুমন রহমান খবরের কাগজকে জানান, আগের চেয়ে দাম কিছুটা কমেছে। তবে এখনো ভালো মিনিকেট ৮৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। সেগুনবাগিচা বাজারে সুমন রহমানের দোকানে হেদায়েত নামে এক ক্রেতা খবরের কাগজকে বলেন, ‘সরকার বললেও কমছে না চালের দাম। ৮৫ টাকা মিনিকেট। অবাক লাগে।‘

বিভিন্ন বাজারের মুদি দোকানদাররা বলছেন, ডালের দামও কমেনি। ১২০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে অনেক দিন ধরেই বিক্রি হচ্ছে। টাউন হল বাজারের মনির স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. আনোয়ারসহ অন্যরা খবরের কাগজকে জানান, চিনি ১০৫ থেকে ১১০ টাকা কেজি, ছোলা ১১৫ টাকা, দুই কেজির আটার প্যাকেট ১২০ টাকা, পেঁয়াজের কেজি ৭৫ থেকে ৮০ টাকা ও আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ১৬০ টাকার কমে দেশি মসুর ডাল মেলে না। একই বাজারের রমজান আলী বলেন, আদার দাম কমে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, রসুন ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা মো. রনি ও হাতিরপুল বাজারের জসিম উদ্দিন বলেন, অধিকাংশ সবজির দামই সেঞ্চুরির ঘরে। তিন দিনের ব্যবধানে তাল বেগুনের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে। ১৬০ থেকে ১৮০ টাকার তাল বেগুন ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় ঠেকেছে। সবুজ বেগুন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা কেজি, বাঁধাকপি ও ফুলকপি ৮০ থেকে ১০০ টাকার কমে মেলে না। এ ছাড়া শিম, টমেটো ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি, পটোল, ধুন্দল, ঢ্যাঁড়স ৭০ থেকে ৮০ টাকা, শসা ৬০ থেকে ১০০ টাকা, করলা, ঝিঙে, বরবটি, কচুরলতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। লাউ ও চালকুমড়ার পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হয়। 

ইলিশের দামও নাগালের বাইরে
প্রথম থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে চড়া দামে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। ৪ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের জন্য ইলিশ ধরা ও বেচাকেনা বন্ধ হয়ে যাবে। শেষ সময়েও কমছে না দাম। এ বছর ইলিশ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরেই থেকে গেল। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলার পরও কমেনি ইলিশের দাম। গতকালও বিভিন্ন বাজারে এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা, এক কেজি ওজনেরটা ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা এমনকি জাটকাও ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। 

অন্য মাছও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। কাচকি মাছের কেজি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, কাজলি, ট্যাংরা, চিংড়ি, বাচা মাছ ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। তবে আকারভেদে চাষের রুই ও কাতলা মাছের কেজি ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, পাবদা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, গরিবের প্রিয় পাঙাশ, তেলাপিয়া, সিলভার কার্প ২২০ থেকে ২৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
 
আগের মতো গতকালও বিভিন্ন বাজারে সাদা ডিম ১৩০ টাকা ডজন ও লাল ডিম ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা ডজন বিক্রি হয়েছে। তবে প্যাকেট করা ডিমের ডজন আরও বেশি, ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। বিভিন্ন বাজারে গতকাল সোনালি মুরগির কেজি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৭০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। 

মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে আজ থেকে

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে আজ থেকে
আজ থেকে নতুন সময়সূচিতে চলাচল করবে মেট্রোরেল। ছবি: সংগৃহীত

নতুন সময়সূচিতে চলাচল করবে মেট্রোরেল। রবিবার (৭ জুন) থেকে রাজধানীর দুই প্রান্ত–উত্তরা ও মতিঝিল থেকে রাতে ট্রেন চলাচলের সময় ২০ মিনিট করে বাড়ানো হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাতে মতিঝিল থেকে উত্তরার উদ্দেশে সর্বশেষ ট্রেনটি ছেড়ে যাবে সাড়ে ১০টায়, যা গতকাল শনিবার পর্যন্ত রাত ১০টা ১০ মিনিটে ছেড়ে যেত। অন্যদিকে উত্তরা থেকে মতিঝিলের পথে রাতের শেষ ট্রেনটি ছাড়বে ৯টা ৫০ মিনিটে, যা গতকাল রাতে ছেড়েছে সাড়ে ৯টায়।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাতে সময় বাড়ানোর লক্ষ্যে এক মাস ধরে ট্রায়াল রান বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে। আজ রবিবার থেকে এই বর্ধিত সময়ে যাত্রী পরিবহন শুরু হবে। তবে প্রাথমিকভাবে এই বাড়তি ২০ মিনিটে মেট্রোরেল উভয় দিক থেকে একটি করে ট্রিপ দেবে। এর অর্থ একটি ট্রেন মতিঝিলমুখী ও অন্যটি উত্তরামুখী চলাচল করবে। এতে এই সময়ে একটি ট্রেনের সঙ্গে অন্য ট্রেনের মধ্যবর্তী বিরতি বা হেডওয়ে থাকবে ১০ মিনিট।

ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে মতিঝিল থেকে রাত ১১টা এবং উত্তরা থেকে রাত ১০টার পর শেষ ট্রেন ছাড়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে একসঙ্গে এত সময় বাড়ালে পর্যাপ্ত যাত্রী পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত হতে না পারায় আপাতত ২০ মিনিট করে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে রাতে চলাচল আরও আধা ঘণ্টা বাড়ানোর বিষয়টি ভাবা হচ্ছে।

এখন প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৬টায় উত্তরা থেকে মতিঝিলগামী দিনের প্রথম মেট্রোরেল ছাড়ে। আর মতিঝিল থেকে প্রথম ট্রেনটি ছাড়ে সকাল সোয়া ৭টায়। সকালের এই সূচিতে আপাতত কোনো পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

ডিএমটিসিএলের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) নজরুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘রাতে দুই দিক থেকেই মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ানোর সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, রবিবার থেকে বর্ধিত সময়ে ট্রেন চলাচল করবে। পর্যায়ক্রমে সময় আরও বাড়ানো হবে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে।’

এর আগে গত বছরের অক্টোবরে মেট্রোরেলের সময়সীমা উভয় দিকে আধা ঘণ্টা করে মোট ১ ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছিল। এখন সারা দিনে ২৯৭ বার (ট্রিপ) মেট্রোরেল যাতায়াত করে। রাতে সময় বাড়ায় এখন ট্রিপের সংখ্যা আরও বাড়বে।

এখন উত্তরা-মতিঝিল রুটে চলাচলের জন্য ২৪ সেট ট্রেন রয়েছে, যার প্রতিটিতে রয়েছে ছয়টি করে কোচ। পিক আওয়ারে (ব্যস্ত সময়) বর্তমানে ১২ সেট ট্রেন সার্বক্ষণিক চলাচল করে। ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, বাড়তি সময়ের চাহিদা মেটাতে এখন থেকে ১৪ সেট ট্রেন সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হবে।

ডিএমটিসিএলের অপারেশনস বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কারিগরিভাবে প্রতি সাড়ে ৩ মিনিট পরপর একটি ট্রেন চালানোর সক্ষমতা রয়েছে ডিএমটিসিএলের। প্রকল্প পরিকল্পনায় সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ট্রেন চালানোর প্রক্ষেপণ থাকলেও মূলত প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে পর্যায়ক্রমে সময় বাড়ানো হচ্ছে।

বর্তমানে মেট্রোরেলে দৈনিক গড়ে সোয়া চার লাখের মতো যাত্রী যাতায়াত করছেন, যেখানে দৈনিক পাঁচ লাখ যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তবে কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারিত অংশ আগামী বছর চালু হলে দৈনিক যাত্রীসংখ্যা পৌনে সাত লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় প্রথম মেট্রোরেল চালু হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালের শেষ দিনে মতিঝিল পর্যন্ত সব কয়টি স্টেশনে পুরোদমে যাত্রী পরিবহন শুরু হয়।

বাজেট অধিবেশন বসছে আজ

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১২:০৭ এএম
বাজেট অধিবেশন বসছে আজ
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ। ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় তথা বাজেট অধিবেশন বসছে আজ রবিবার। বেলা ৩টায় শুরু হবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন।

মূলত এই অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন ও পাসের কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

আগামী ১১ জুন সংসদে এবার ৯ লাখ কোটি টাকার বেশি বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

এদিকে বাজেট অধিবেশনকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি খবরের কাগজকে জানিয়েছেন, বাজেট অধিবেশন ঘিরে সংসদ সচিবালয়ের সব প্রস্তুতি তারা শেষ করেছেন। অধিবেশন কক্ষের সাউন্ড সিস্টেম আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে পুরো সাউন্ড সিস্টেম আধুনিকায়নের কাজ শেষ করতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। 

বাজেট অধিবেশন কতদিন চলবে, সে বিষয়ে অধিবেশন শুরুর আগে অনুষ্ঠিত আজকের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে এ অধিবেশন আহ্বান করেন। জাতীয় সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, শেরে বাংলা নগরের জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনেই নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট নিয়ে আলোচনা, মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দ অনুমোদন, অর্থবিল এবং সংশ্লিষ্ট আইন পাসের কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, বাজেট বক্তৃতা, অর্থবিল, বরাদ্দসংক্রান্ত নথি, সংসদ সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকাশনা ও তথ্যপত্র প্রস্তুতের কাজ ইতোমধ্যে শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অধিবেশন নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনিক, কারিগরি ও নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

শনিবার জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘বাজেট অধিবেশন সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন। সে অনুযায়ী সংসদ সচিবালয়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। সংসদের নিরাপত্তা, অধিবেশন কক্ষের অবকাঠামো, চেয়ার-টেবিল, লজিস্টিক সাপোর্ট থেকে শুরু করে সংসদ পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় তদারকি করা হচ্ছে।’ 

এ সময় গত অধিবেশনে সাউন্ড সিস্টেম বিভ্রাটের বিষয়টি স্বীকার করে চিফ হুইপ জানান, আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নে আরও সময় লাগবে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে চাহিদা জেনে প্রেজেন্টেশন নেওয়া হয়েছে এবং সম্ভাব্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বাস্তব প্রদর্শনী দেখার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাজেট অধিবেশনকে ঘিরে সংসদ ভবন এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করেছে প্রশাসন। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) শনিবার রাত ১২টা থেকে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে অস্ত্র, বিস্ফোরক ও অন্যান্য ক্ষতিকর দ্রব্য বহনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিধিনিষেধ বহাল থাকবে।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ হয়। ২৫ কার্যদিবসের ওই অধিবেশনে ৯৪টি বিল পাস এবং ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হয়। ৭টি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয় এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নেন ২৮০ জন সংসদ সদস্য। 

নতুন সংসদের কার্যক্রমের ভিত্তি স্থাপনকারী সেই অধিবেশনের পর প্রথমবারের মতো বাজেট অধিবেশনে বসছে বিএনপি সরকার। আর এই অধিবেশনে আগামী এক বছরের জন্য দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরা হবে।

দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ জনগণের একমাত্র আকাঙ্ক্ষা: সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ জনগণের একমাত্র আকাঙ্ক্ষা: সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী
বক্তব্য রাখেন দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমম্বয় কমিটির উদ্যোগে প্রতিবন্ধী, দুস্থ ও মজলুমদের মাঝে গোস্ত ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে ধানমন্ডি জাস্টিস আমিন আহমেদ ট্রাস্ট সংলগ্ন সড়কে এ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী। 

দুস্থ ও মজলুমদের মাঝে গোস্ত ও নগদ অর্থ বিতরণ। ছবি: সংগৃহীত

সুপ্রিমকোর্ট বার এসোসিয়েশনের সাবেক সম্পাদক গিয়াসউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ড. মো: আব্দুল হক তালুকদার, বীরমুক্তিযোদ্ধা ড. জমিরুল আকতার, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ আহমেদ, অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন ওমর ফারুক বিএন, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার শরীফ আজিজ, সিনিয়র এডভোকেট মঈনুদ্দিন, অবসরপ্রাপ্ত উইং কমাণ্ডার মীর আমিনুল ইসলাম, আফাজ উদ্দিন, ছাত্র প্রতিনিধি কবি সেজান খানসহ অনেকে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী বলেন, হাসিনা যা ক্ষতি করেছে, তার থেকে দেশের বেশি ক্ষতি করেছে ইউনূস। সরকারের প্রভাবমুক্ত সম্পূর্ণ স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যকর করতে হবে। দুদকে বাংলাদেশের নিঃস্বার্থ মজলুম জনগণের থেকে সৎ সাহসী, সত্যবাদী, দায়িত্বশীল, দেশপ্রেমিকদের চেয়ারম্যান, কমিশনার নিয়োগ করতে হবে। বাংলাদেশে অবস্থানরত যেসব লুটেরা-মাফিয়া ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাদেরকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক মজলুম জনগণ রুখে না দাঁড়ালে বাংলাদেশের দুর্নীতি বন্ধ হবে না।

সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী দুঃখ করে বলেন, তিন বছর চেষ্টা করেও সকল ধর্মের অনুশাসন-“দেশপ্রেম ইমানের অঙ্গ” দুর্নীতি অপরাধ, দুর্নীতিবাজদের ঘৃণা করুন এই কথাটি ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদ, বায়তুল আমান মসজিদের ইমামকে দিয়ে বলাতে পারিনি। মিথ্যাচার, স্বার্থপরতা ও উশৃঙ্খলতা পরিহার করে বাংলাদেশের ৮৭℅  মজলুম জনগণের একমাত্র আকাঙ্ক্ষা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ, জনগণের সামাজিক ও জাতীয় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য আমার জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত।

তিনি সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, আসুন সবার আগে নিজকে শুদ্ধ করি, নিজের পরিবারকে শুদ্ধ করুন, নিজের পাড়া-প্রতিবেশীদেরকে শুদ্ধ করুন, পরিচিত দুর্নীতিবাজদের ঘৃণা করে সহিহ নিয়তে দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি পেশার দেশপ্রেমিকগণ ঐক্যবদ্ধ হলে বাংলাদেশে দুর্নীতিবাজের ঠাঁই হবে না। 

দেশের মালিক জনগণ, আমরা সরকারের অংশীদার। তিনি সরকারের প্রতি জাপান, চায়না, সিঙ্গাপুরের ভূমি আইন প্রয়োগ করে ভূমিদস্যুদের থেকে জনগণের সম্পদ রক্ষা করার দাবি জানান। লাখ লাখ শহিদের রক্তের বিনিময়ে, রক্তরঞ্জিত বাংলাদেশে বায়ান্ন, উনসত্তর, একাত্তর, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায়, ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক  সকলের বাসযোগ্য, একটি নৈতিক মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি পেশার দেশপ্রেমিকদের জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান।

এসএন/

তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:২১ পিএম
তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

শনিবার (৬ জুন) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এ আমন্ত্রণ জানান বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এ সময় তারেক রহমান বাংলাদেশ সফরের জন্য তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

হাকান ফিদান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।

তিনি বলেন, তাঁর এ সফর বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ককে কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার প্রথম পদক্ষেপ।

এ লক্ষ্যে উভয় পক্ষ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বার্ষিক ফরেন অফিস কনসালটেশন আয়োজনের বিষয়ে একমত হয়েছে।

এ ছাড়া দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের অংশগ্রহণে প্রতিবছর ‘টু প্লাস টু’ (২+২) পরামর্শ বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অধীনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর অংশগ্রহণে একটি পরামর্শ কাঠামো বা কমিটি গঠন করা হবে।

বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষভাবে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, যৌথ উৎপাদন ও সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

এসএন/

শহিদ জিয়ার প্রস্তাবে যুদ্ধের নাম হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ’: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
শহিদ জিয়ার প্রস্তাবে যুদ্ধের নাম হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ’: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। ছবি: খবরের কাগজ

১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া সম্মেলনেই শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রস্তাবে যুদ্ধের নাম ‘মুক্তিযুদ্ধ’ নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

তিনি বলেন, ওই সম্মেলনেই জিয়াউর রহমানের প্রস্তাবে প্রাথমিকভাবে সেক্টরভিত্তিক যুদ্ধ পরিচালনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে সুসংগঠিত করতে বিশেষ ও ঐতিহাসিক অবদান রেখেছিল।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর মগবাজারে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।

একাত্তরের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে যে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে, তার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল ৮ নং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। মেজর জিয়াউর রহমানের সরাসরি নেতৃত্বে এই রেজিমেন্ট পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এক বিশাল প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পরবর্তীতে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর (বিএসএফ) পূর্বাঞ্চলীয় মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার পান্ডে তেলিয়াপাড়া হেডকোয়ার্টারে বাঙালি সামরিক অফিসারদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে মেজর জিয়ার এ সশস্ত্র প্রতিরোধের বার্তাটি পৌঁছে দেন। এই খবরটি মাঠপর্যায়ের বিদ্রোহীদের মনোবল বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয় এবং পরবর্তী সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে।

এরই ধারাবাহিকতায় একাত্তরের ৪ এপ্রিল সকাল ১০টায় তেলিয়াপাড়া হেডকোয়ার্টারে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম ঊর্ধ্বতন বাঙালি সামরিক কর্মকর্তাদের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মেজর জিয়াউর রহমান এই ঐতিহাসিক সম্মেলনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ওই সভায় বিচ্ছিন্ন প্রতিরোধ যুদ্ধকে একটি সুসংগঠিত জাতীয় মুক্তিযুদ্ধে রূপান্তরের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সর্বসম্মতিক্রমে কর্নেল মুহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানীকে প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়, যার অন্যতম অংশীদার ও নীতি-নির্ধারক ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের এক অবিস্মরণীয় রূপকার। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ একজন সাহসী সেনা কর্মকর্তা হিসেবে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা পর্বে জাতিকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত দেশের মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। 

তিনি আরও বলেন, জিয়ার আদর্শ ও রাষ্ট্রচিন্তা আজও বাংলাদেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র এবং জাতীয় ঐক্যের জন্য সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। 

মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পত্তি উদ্ধার ও ২০ তলা ভবনের পরিকল্পনা
বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কল্যাণমুখী কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী জানান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মিলনায়তন সংস্কার এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি ২০ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, অতীতে বেদখল হওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পত্তি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সভায় উপস্থিত অন্য বক্তারা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

জয়ন্ত সাহা/নাঈম