নিত্যপণ্য কিনতে মধ্যবিত্ত এখন হিমশিম খাচ্ছে। চাল, ডাল, সবজি, ডিম, ইলিশ, মুরগির দাম এখনো অনেক বেশি। মৌসুম শেষ হতে চললেও ২ হাজার ২০০-এর নিচে মেলে না ইলিশ। ডিমের ডজন ১৪০ টাকা, চালের কেজি ৮৫ টাকা, ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজিতে। আলু, পেঁপে ছাড়া অধিকাংশ সবজির দামই ৮০ থেকে ১০০ টাকার ওপর। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে।
চড়া দামেই চাল বিক্রি
চালের দাম স্থিতিশীল রাখার জন্য সরকার আমদানির ঘোষণা দেয়। বিভিন্ন বন্দর দিয়ে চালও আসছে দেশে। কিন্তু এখনো মনজুর, রশিদ, সাগর, আকিজ, তীরসহ বিভিন্ন কোম্পানির মিনিকেট চাল কেজিপ্রতি ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে মজুমদার কোম্পানি, দাদা কোম্পানি, ডায়মন্ড, হরিণ, মোজাম্মেল কোম্পানির চাল আরও বেশি, ৮৫ টাকার কমে মেলে না। নাজিরশাইল ৯৪ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। এ ছাড়া আটাশ চাল ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা ও মোটা চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টাউন হল বাজারের চাল বিক্রেতা অহিদুর রহমান ও সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের চাল বিক্রেতা সুমন রহমান খবরের কাগজকে জানান, আগের চেয়ে দাম কিছুটা কমেছে। তবে এখনো ভালো মিনিকেট ৮৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। সেগুনবাগিচা বাজারে সুমন রহমানের দোকানে হেদায়েত নামে এক ক্রেতা খবরের কাগজকে বলেন, ‘সরকার বললেও কমছে না চালের দাম। ৮৫ টাকা মিনিকেট। অবাক লাগে।‘
বিভিন্ন বাজারের মুদি দোকানদাররা বলছেন, ডালের দামও কমেনি। ১২০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে অনেক দিন ধরেই বিক্রি হচ্ছে। টাউন হল বাজারের মনির স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. আনোয়ারসহ অন্যরা খবরের কাগজকে জানান, চিনি ১০৫ থেকে ১১০ টাকা কেজি, ছোলা ১১৫ টাকা, দুই কেজির আটার প্যাকেট ১২০ টাকা, পেঁয়াজের কেজি ৭৫ থেকে ৮০ টাকা ও আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ১৬০ টাকার কমে দেশি মসুর ডাল মেলে না। একই বাজারের রমজান আলী বলেন, আদার দাম কমে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, রসুন ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা মো. রনি ও হাতিরপুল বাজারের জসিম উদ্দিন বলেন, অধিকাংশ সবজির দামই সেঞ্চুরির ঘরে। তিন দিনের ব্যবধানে তাল বেগুনের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে। ১৬০ থেকে ১৮০ টাকার তাল বেগুন ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় ঠেকেছে। সবুজ বেগুন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা কেজি, বাঁধাকপি ও ফুলকপি ৮০ থেকে ১০০ টাকার কমে মেলে না। এ ছাড়া শিম, টমেটো ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি, পটোল, ধুন্দল, ঢ্যাঁড়স ৭০ থেকে ৮০ টাকা, শসা ৬০ থেকে ১০০ টাকা, করলা, ঝিঙে, বরবটি, কচুরলতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। লাউ ও চালকুমড়ার পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হয়।
ইলিশের দামও নাগালের বাইরে
প্রথম থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে চড়া দামে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। ৪ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের জন্য ইলিশ ধরা ও বেচাকেনা বন্ধ হয়ে যাবে। শেষ সময়েও কমছে না দাম। এ বছর ইলিশ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরেই থেকে গেল। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলার পরও কমেনি ইলিশের দাম। গতকালও বিভিন্ন বাজারে এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা, এক কেজি ওজনেরটা ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা এমনকি জাটকাও ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
অন্য মাছও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। কাচকি মাছের কেজি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, কাজলি, ট্যাংরা, চিংড়ি, বাচা মাছ ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। তবে আকারভেদে চাষের রুই ও কাতলা মাছের কেজি ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, পাবদা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, গরিবের প্রিয় পাঙাশ, তেলাপিয়া, সিলভার কার্প ২২০ থেকে ২৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
আগের মতো গতকালও বিভিন্ন বাজারে সাদা ডিম ১৩০ টাকা ডজন ও লাল ডিম ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা ডজন বিক্রি হয়েছে। তবে প্যাকেট করা ডিমের ডজন আরও বেশি, ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। বিভিন্ন বাজারে গতকাল সোনালি মুরগির কেজি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৭০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।