শহিদ শরিফ ওসমান হাদির স্বপ্ন ছিল এ দেশের রাজনীতি হবে পরিষ্কার ও কলুষমুক্ত, বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, ‘আমরাও চাই দেশে একটি পরিচ্ছন্ন রাজনীতির ধারা ফিরে আসুক। ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসবেন, তারা যদি জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে জনগণের জন্য সততার সঙ্গে কাজ না করেন, তবে এই শহিদদের আত্মা কাউকে ক্ষমা করবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাদি এখন শুধু বাংলাদেশের নয়, তার নাম সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে। জুলাই বিপ্লবে তার সাহসী ভূমিকা এ জাতি সারাজীবন স্মরণ রাখবে।’
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঝালকাঠির নলছিটিতে শহিদ শরিফ ওসমান হাদি লঞ্চঘাট উদ্বোধনের সময় এসব কথা বলেন তিনি।
নৌ পরিবহন উপদেষ্টা বলেন, ‘আমার মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান হাদির স্মরণে নলছিটির সাবেক লঞ্চঘাটটির নাম পরিবর্তন করে তার নামে নামকরণ করা হয়েছে। এটি আমার কাছে একটি নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে হয়েছে।’
এ সময় তিনি শহিদ শরিফ ওসমান হাদির ছোট বোন মাসুমা হাদি ও ভগ্নিপতি আমির হোসেনের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. রফিকুল করিম, ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক মো. আমজাদ হোসেন, নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হাবিব ও নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুল আলমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এর আগে বিআইডব্লিউটিএর অধীনে লঞ্চঘাটটির সংস্কার ও রংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়। গত ২৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের কথা থাকলেও ঘন কুয়াশার কারণে নৌ পরিবহন উপদেষ্টার সফর বাতিল হওয়ায় সেদিন উদ্বোধন সম্ভব হয়নি।
এদিকে নলছিটির কৃতী সন্তান শহিদ শরিফ ওসমান হাদির নামে লঞ্চঘাটের নামকরণে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ দেখা গেছে।
স্থানীয়রা বলেন, ‘এটি নলছিটির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এতে তরুণ প্রজন্ম ন্যায়বোধ, প্রতিবাদ ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আরও সচেতন হবে।’
উল্লেখ্য, ঝালকাঠির নলছিটি পৌর এলাকার খাস মহল এলাকার বাসিন্দা মরহুম শরিফ আব্দুল হাদির ছোট ছেলে শরিফ ওসমান হাদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে তিনি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসেন। পরবর্তীতে তিনি ইনকিলাব মঞ্চ প্রতিষ্ঠা করে সংগঠনটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ভারতীয় আগ্রাসনবিরোধী বক্তব্যে সোচ্চার ছিলেন।
কামরুজ্জামান/রিফাত/