অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশি কোম্পানির স্বার্থে মাশুল বাড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালসহ (এনসিটি) কোনো কোনো স্থাপনা দেশি-বিদেশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার পাঁয়তারা বন্ধ এবং বিদেশি কোম্পানি মেয়ার্স্কের সঙ্গে লালদিয়া চর ও পানগাঁও ইজারা চুক্তি অবিলম্বে বাতিলের দাবিতে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সেখানে অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আনু মুহাম্মদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার তথ্য গোপন করছে। চট্টগ্রাম বন্দরের মাশুল বাড়িয়েছে। কারণ হিসেবে দেখাচ্ছে বন্দরের উন্নয়ন করা হবে এই মাশুলের অর্থ দিয়ে। প্রতিবছর চট্টগ্রাম বন্দরের দুই হাজার কোটি টাকা করে মুনাফা হচ্ছে। তার মানে বন্দরের সঞ্চিত তহবিল বিপুল হওয়ার কথা। এই টাকা দিয়ে বন্দরের উন্নয়ন করা হবে। সরকার সত্য লুকাচ্ছে। আসল কথা, যে বিদেশি কোম্পানি আসবে, তার মূল লক্ষ্য হবে মুনাফা অর্জন।
তিনি বলেন, ‘আমরা অন্তর্বর্তী সরকার, তাদের চুক্তি, যাদের সঙ্গে চুক্তি করা হচ্ছে, সব বিষয়ে প্রশ্ন তুলি। যে কাজই করা হোক না কেন, তার স্বচ্ছতা থাকতে হবে। কিন্তু আমরা এই অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি সবকিছুই অদৃশ্য। তারা চুক্তির বিষয়ে খুব কঠোর। প্রধান উপদেষ্টা বা সরকারের অন্যরা বলেন, আমাদের বিশ্বমানের হতে হবে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব এটা নয়, একটা প্রতিষ্ঠানকে বিশ্বমানের করার জন্য বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া। বিশ্বমানের হওয়ার জন্য জাতীয় সক্ষমতা, তরুণদের এগিয়ে আসার সুযোগ দেওয়া, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর যে সুযোগ-সুবিধা দরকার, সেটা দেওয়া–এগুলো হচ্ছে রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দিয়ে কোনো দেশ বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে পারে না। পাশাপাশি একটি দেশের জাতীয় সক্ষমতা না থাকলে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর মনিটরিং করার ক্ষমতা থাকে না।’
আনু মুহাম্মদ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের এটা করার কোনো অধিকারই নাই।
তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, সিন্ডিকেট চট্টগ্রাম বন্দরকে একেবারে শেষ করে ফেলেছে। সারা দুনিয়ায় এই অন্তর্বর্তী সরকার জানাচ্ছে, চট্টগ্রাম বন্দর হচ্ছে দুর্নীতির ঘাঁটি। আমাদের প্রশ্ন, চট্টগ্রাম বন্দর যদি দুর্নীতির ঘাঁটি হয়, সেখানে সিন্ডিকেট কারা করছে? তাদের নাম আপনারা (অন্তর্বর্তী সরকার) প্রকাশ করেন না কেন? দুর্নীতি দমন কমিশন কোথায়? কিসের ভিত্তিতে আপনারা (অন্তর্বর্তী সরকার) কথাগুলো বলছেন? তথ্য-প্রমাণ, কাগজপত্র কোথায়? অন্তর্বর্তী সরকার এই কাজটা করতে পারত। দুর্নীতিবাজ, সিন্ডিকেটকারীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালাতে পারত। সেটা কিন্তু করে নাই। অথচ দুর্নীতি হচ্ছে, সক্ষমতা বাড়াতে হবে দাবি করে বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। চুক্তিতে কী আছে, সেটা কেউ জানে না। আমি আশা করি, যে আন্দোলন হচ্ছে, কথাবার্তা হচ্ছে, এটা অব্যাহত থাকবে। সামনেও কর্মসূচি দেওয়া হবে।’
এ সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ। মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন স্কপ চট্টগ্রাম জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী শেখ নূরুল্লা বাহার।