ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র প্রয়াত শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দেশজুড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচির পালনের কথা রয়েছে ইনকিলাব মঞ্চের। সেই সঙ্গে হাদি হত্যা মামলায় দাখিল করা চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করে রাষ্ট্রের তদন্তে চরম অসহযোগিতা ও গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে প্ল্যাটফর্মটি।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট পর্যালোচনা ও পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই কর্মসূচি ঘোষণা করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।
তিনি বলেন, ‘শুক্রবার বাদ জুমা শাহবাগসহ সারা দেশে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করা হবে। হাদি হত্যার বিচার দৃশ্যমান না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথেই থাকব। এই হত্যার বিচার সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচারের মতো যুগের পর যুগ ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। আমরা আমার ভাইয়ের রক্তের বিচার নিয়েই রাজপথ ছাড়ব।’
এর আগে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘এই তদন্ত প্রতিবেদন পুরোপুরি অস্পষ্ট ও দুর্বল। মূল পরিকল্পনাকারীদের নাম এতে নেই। হত্যাকাণ্ডের পেছনে যে একটি সংঘবদ্ধ খুনি চক্র কাজ করেছে, তা চার্জশিটে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রের ধারাবাহিক অসহযোগিতার কারণে সন্দেহ জাগে, এই হত্যাকাণ্ডে রাষ্ট্রের কেউ জড়িত কি না। যদি এই হত্যাকাণ্ডে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, কিংবা সেনাপ্রধান, আওয়ামী লীগ, এমনকি শেখ হাসিনার সংশ্লিষ্টতাও থাকে সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
হাদিকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনারের মন্তব্য প্রসঙ্গে জাবের বলেন, ‘হাদি হত্যাকাণ্ডকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলা বর্তমান ইসির (নির্বাচন কমিশন) অধীনে নির্বাচন হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। আমরা নির্বাচনবিরোধী নই, কিন্তু এই ইসির বিরুদ্ধেই আমাদের অবস্থান।’
গত ১২ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান হাদিকে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা গুলি করে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। তিন দিনের মাথায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ইনকিলাব মঞ্চের এই মুখপাত্র। এর পরই বিচার দাবিতে সরব হয়ে ওঠে প্ল্যাটফর্মটি, সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও ইতোমধ্যে পালন করে ইনকিলাব মঞ্চ।