ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের দুঃশাসনে দেশের শিক্ষাঙ্গন ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ। একই সঙ্গে তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অ্যাকাডেমিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
রবিবার (১ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. অহিদুজ্জামান এ আহ্বান জানান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে দেশে চরম অরাজকতা, প্রতিহিংসা, মব সন্ত্রাস ও নিপীড়নের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। এ সময়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, গ্রেপ্তার, সাময়িক ও স্থায়ী বহিষ্কার, অ্যাকাডেমিক বয়কট, পদাবনমন, বাধ্যতামূলক অবসর এবং প্রশাসনিক পদ থেকে অপসারণের ঘটনা ঘটেছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়সহ পুরো শিক্ষাব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া অসংখ্য শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল, ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সনদ বাতিল, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতি এবং প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কলেজ পর্যন্ত বহু শিক্ষককে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার, অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল এবং গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের ঘটনাও একই সময়ে ঘটেছে, যা জাতির বাক-স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে।’
সংবাদ সম্মেলনে বহিষ্কৃত শিক্ষকদের দ্রুত বহিষ্কারাদেশ ও সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে শ্রেণিকক্ষে ফেরানোর দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া শিক্ষকদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং কারাবন্দি শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, সাহিত্যিক, শিল্পী, প্রকৌশলীসহ সব পেশাজীবীদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এ ছাড়া মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে শিক্ষকদের অ্যাকাডেমিকসহ সব কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা ও তাদের বিরুদ্ধে তথাকথিত তদন্ত পরিচালনার আদেশ প্রত্যাহার করা এবং অ্যাকাডেমিক বয়কট প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা, পিআইবির সাবেক মহাপরিচালক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ।