স্বাধীনতার ইতিহাস সংরক্ষণকে জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার পূর্বশর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, ‘যে জাতি তার ইতিহাস ভুলে যায়, সে জাতির অস্তিত্ব টিকে থাকতে পারে না।’
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) চট্টগ্রামের কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি সর্বজনীন জনযুদ্ধ, যার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা অর্জন করে। এই স্বাধীনতার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতা। ছিল ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ৭০-এর নির্বাচন। এসব ঘটনার সম্মিলিত পরিণতিই স্বাধীনতা অর্জনের পথ প্রশস্ত করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যার পর সারা দেশে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এতে মুক্তিযুদ্ধে নতুন গতি আসে এবং জনগণের মধ্যে সাহস জাগে।’
কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র ও জিয়াউর রহমানের স্মৃতি সংরক্ষণে নানা পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট জাদুঘরকে সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এখানে আধুনিক স্মৃতি জাদুঘর স্থাপন, প্রয়োজনে ভাস্কর্য নির্মাণ এবং ঐতিহাসিক সম্প্রচারের সরঞ্জাম সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দর্শনার্থীদের জন্য সমন্বিত পরিদর্শন পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, দর্শনার্থীরা প্রথমে বেতারকেন্দ্র পরিদর্শন করে পরে জাদুঘরে যেতে পারবেন।
সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড যেমন বেদনাদায়ক অধ্যায়, তেমনি মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান জাতির গৌরবের অংশ। এই দুই দিকই যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও উপস্থাপনে কাজ করছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।
এ সময় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জয়ন্ত সাহা/অমিয়/