ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্যারাগুয়েকে উড়িয়ে বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা যুক্তরাষ্ট্রের দুপুরের মধ্যে ১১ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা ময়মনসিংহে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের ঢল বরগুনায় প্যানেল চেয়ারম্যানের ওপর হামলা, গণপিটুনিতে যুবক নিহত শান্তিচুক্তির ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের, বিজয় দাবি তেহরানের কক্সবাজার পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী বৃষ্টিতে ভিজে প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় কক্সবাজারবাসী কক্সবাজারের পথে প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার যাচ্ছেন আজ মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ উদ্বোধনীর মুগ্ধতা ছড়ানো ৭ ছবি সুস্বাস্থ্যের বার্তা নিয়ে সাইকেলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় শাহেদ রোকনপুর সীমান্তে নদীপথে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি মানামায় বাংলাদেশ দূতাবাসে গণশুনানি অনুষ্ঠিত পাবনায় ছেলের সামনে বাবাকে হত্যা, আরও একজন গ্রেপ্তার শিবগঞ্জে পুশইনের প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ বরিশালে ইজিবাইক ও অটোরিকশার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গণমুখী বাজেট উপস্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ফিনল্যান্ড বিএনপির অভিনন্দন রাঙ্গুনিয়ায় বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভ্যানগাড়ি ও নগদ অর্থ বিতরণ সাম্বার ছন্দে থেমে যাবে আটলাসের গর্জন? লাইসেন্স বাতিলে আদ্-দ্বীন ছাড়ছেন রোগীরা রাজশাহী ফুটবলপ্রেমীদের রঙিন শোভাযাত্রা ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্কে ‘জলপরী’ প্রদর্শনী নিয়ে বিতর্ক চা শ্রমিকের সন্তানদের মধ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ চট্টগ্রামে সরকারি খামারে প্রাণীর খাদ্য সরবরাহ বিশেষ চক্রের কাছে জিম্মি রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার গৌরীপুর ও মুক্তাগাছায় পানির প্রকল্প: ২ বছরে অগ্রগতি মাত্র ২০ শতাংশ রাশিয়ার দখলকৃত ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের দাবি ইউক্রেনের সাম্বার অপেক্ষায় বিশ্ব
Nagad desktop

তেলসংকট: বন্ধ থাকছে অনেক ফিলিং স্টেশন

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫১ এএম
তেলসংকট: বন্ধ থাকছে অনেক ফিলিং স্টেশন
ছবি: খবরের কাগজ

সরকার বলছে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। তারপরও রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে চালকদের লাইন ছোট হচ্ছে না। কেউ কেউ তেল পেলেও অনেকেই তা পাচ্ছেন না। অনেক ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। চলমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে বলে গুঞ্জন উঠলেও আপাতত সরকার দাম বাড়াচ্ছে না। এপ্রিল মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এপ্রিল মাসেও ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকায় বিক্রি হবে। 

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে দেশে মজুত থাকা জ্বালানি তেলের পরিমাণ ১ লাখ ৯৩ হাজার মেট্রিক টন। তবে সংকট মোকাবিলায় আরও ২ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, বহুদিন ধরেই বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে নেই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়। এটি বহুজাতিক কোম্পানি নিয়ন্ত্রণ করে। 

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘জ্বালানি খাত সংস্কার ও ক্যাবের ১৩ দফা দাবি’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দেখা যায় তেল না থাকায় সেগুলো বন্ধ। কল্যাণপুরের সোহরাব ফিলিং স্টেশন, কমফোর্ট ফিলিং স্টেশন, খালেক ফিলিং স্টেশনের সংশ্লিস্টরা জানান, ডিপো থেকে যে তেল দিচ্ছে তা ৩/৪ ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাই পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

সোহরাব ফিলিং স্টেশনের পাম্প অপারেটর সুমন খবরের কাগজকে বলেন, ‘তিন দিন ধরে অকটেন নেই। ডিজেল কিছু পাওয়া গেলেও তা বিক্রি হয়ে গেছে। তাই পাম্প বন্ধ।’ 

এ সময় দেখা যায় অনেক মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের চালক মন খারাপ করে চলে যাচ্ছেন। এর পাশে খালেক ফিলিং স্টেশনেও দেখা যায় একই দৃশ্য। ‘অকটেন নেই’ লেখা প্ল্যাকার্ড। এ সময় অনেক চালক জড়ো হয়ে জানতে চান তেল নেই কেন? 

মো. মানিক নামে এক চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে খবরের কাগজকে বলেন, ‘৪ থেকে ৫টা ফিলিং স্টেশন ঘুরে এখানে এসেছি। দেখি অকটেন নেই লেখা। দেখে মন আরও খারাপ হয়ে গেছে। যাব কোথায়?

প্রাইভেটকারের মালিক খলিলও অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যে পাম্পেই যাচ্ছি দেখছি তেল নেই। তাহলে আমরা কিভাবে গাড়ি চালাব।’ 

খালেক ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. তোফাজ্জাল হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, কিভাবে তেল থাকবে। চাহিদার ধারেকাছে নেই সরবরাহ। দিনে যা তেল পাচ্ছি ৩ থেকে ৪ ঘণ্টায় শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ জন্য পাম্প বন্ধ থাকছে। দিনে অকটেন পাচ্ছি মাত্র ৪ হাজার লিটার, ডিজেল ৯ হাজার লিটার। কিন্তু চাহিদা অনেক বেশি। 

অন্য ফিলিং স্টেশনের সংশ্লিষ্টরা একই তথ্য জানান। এ জন্য চালকরা তেল পাচ্ছেন না। চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। 

বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম
সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে গতকাল মঙ্গলবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে দুই টাকা কমানো হয়েছিল। তখন ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১০২ টাকা থেকে দুই টাকা কমে হয় ১০০ টাকা। এ ছাড়া দুই টাকা কমে প্রতি লিটার অকটেন ১২২ টাকা থেকে ১২০ টাকা এবং পেট্রল ১১৮ টাকা থেকে ১১৬ টাকা হয়। 

কেরোসিনের দাম প্রতি লিটার ১১৪ টাকা থেকে ২ টাকা কমে হয় ১১২ টাকা। মার্চ মাসেও সেই দাম বহাল থাকে। এখন এপ্রিল মাসও একই দামে জ্বালানি তেল বিক্রি হবে। ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকায় বিক্রি হবে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমা-বাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

কয়েকজন উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী লবিস্ট ছিলেন
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কিছু কাজ করবে, কিছু গণতান্ত্রিক সংস্কার করবে বলে সবার ধারণা ছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করাতে লবিস্টদের আরও বেশি তৎপরতা দেখা গেছে। কয়েক জন উপদেষ্টা এবং বিশেষ সহকারী ছিলেন নামে। কিন্তু কাজে তারা করপোরেট লবিস্ট ছিলেন। জ্বালানি নিয়ে যে সংকট তৈরি হচ্ছে, সেটি নীতির কারণে। আমদানিনির্ভর, বিদেশি ঋণনির্ভর, বিদেশি কোম্পানিমুখী যেসব চুক্তি বিগত সময়ে হয়েছে এবং তার পেছনে যেসব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তাদের ওপর নির্ভরশীলতা থাকলে এখান থেকে বের হওয়া যাবে না।

দুপুরের মধ্যে ১১ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
দুপুরের মধ্যে ১১ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের ১১ অঞ্চলে দুপুরের মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। সেইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কাও রয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পূর্ব/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। 

এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

অন্তরা/

কক্সবাজার পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:০৮ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৪২ এএম
কক্সবাজার পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী হয়ে প্রথমবারের মতো কক্সবাজার সফরে গেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শনিবার (১৩ জুন) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বেসরকারি বিমান ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সে সকাল সাড়ে ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।  

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানিয়েছে

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে শনিবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান।

এরপর একে একে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান পানি সম্পদমন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

তার আগে সকাল পৌনে ৯টায় সরকার প্রধান গুলশানের বাসা থেকে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছান বলে জানিয়েছেন তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

আমান/

 

কক্সবাজারের পথে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:৪৬ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:১২ এএম
কক্সবাজারের পথে প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

একদিনের সফরে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১৩ জুন) সকাল পৌনে ৯টায় সরকার প্রধান গুলশানের বাসা থেকে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছান বলে জানিয়েছেন তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান কক্সবাজারে যাচ্ছেন বিমানে। গুলশানের বাসা থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

“বৃক্ষরোপণ, খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি শেষ করে রাতে ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।”

কক্সবাজার পৌঁছে সকাল সাড়ে ১০টায় পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার কর্মসূচি শুরু করবেন এবং সেখানে একটি সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।

আমান/

লাইসেন্স বাতিলে আদ্-দ্বীন ছাড়ছেন রোগীরা

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
লাইসেন্স বাতিলে আদ্-দ্বীন ছাড়ছেন রোগীরা
কিডনি জটিলতায় কালিপদ দত্ত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসা না পেয়ে স্বজনরা গতকাল তাকে রাজধানীর অন্য একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। ছবি: খবরের কাগজ

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার জেরে লাইসেন্স বাতিলের পর রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ছেড়ে যাচ্ছেন রোগীরা।একই সঙ্গে যারা এখনো চিকিৎসাধীন, তাদের স্বজনরা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত হাসপাতাল খালি করার নির্দেশনা থাকলেও জটিল রোগীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্বজনরা।

গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার পর গতকাল শুক্রবার দুপুরের মধ্যেই ১৭৬ জন রোগী হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন। আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স) তারিকুল ইসলাম মুকুল জানান, লাইসেন্স বাতিলের সময় ৪২৬ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। এখন সেখানে প্রায় ২৫০ জন রোগী চিকিৎসাধীন।

অনিশ্চয়তায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা রোগীরা

হাসপাতালের জরুরি বিভাগ বর্তমানে বন্ধ থাকলেও ভর্তি থাকা রোগীদের চিকিৎসা চলছে। তবে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের অন্য কোথাও স্থানান্তর করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন স্বজনরা।

রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকার বাসিন্দা নুরুল আলম এন্ডোস্কোপিক স্পাইন সার্জারির পর ১৫ দিন ধরে এখানে ভর্তি। তার বোনজামাই মো. আশরাফ আলী বলেন, ‘শ্যালককে আইসিইউ থেকে এইচডিইউতে শিফট করা হয়েছে। এখানে চিকিৎসা অব্যাহত থাকবে কি না, তা নিশ্চিত নই। তাকে অন্য কোথাও নেওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ।’

মধুবাগের বাসিন্দা আব্দুল্লাহর নবজাতক এনআইসিইউতে ভর্তি। তিনি বলেন, ‘এই অবস্থায় বাচ্চাকে অন্যত্র স্থানান্তর করা সম্ভব নয়। আমরা চাই দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হোক। কিন্তু হাসপাতাল বন্ধ করে দিলে সাধারণ রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হবে।’

অন্যত্র ছুটছেন রোগী

গতকাল সকাল থেকেই হাসপাতালের করিডরে রোগীদের তাড়াহুড়ো দেখা গেছে। বাড্ডার বাসিন্দা সেলিনা আক্তার সন্তান প্রসবের জন্য এখানে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। কিন্তু হাসপাতাল বন্ধের খবর পেয়ে তাকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মালিবাগ থেকে আসা কিডনি রোগী কালিপদ দত্তকেও গতকাল দুপুরে সিরাজ উদ্দিন মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়েছে।

চিকিৎসা পাওয়ার আশায় এখনো অনেকে

হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবার ওপর আস্থা রেখে এখনো অনেকেই এটি ছাড়তে চাইছেন না। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা সেলিনা বেগম বলেন, ‘আমার শিশুসন্তানের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। সরকারি সিদ্ধান্ত থাকলেও আমি হাসপাতাল ছাড়তে চাই না।’ ফেনীর আলী হায়দার তার ৪০ দিন বয়সী শিশুকন্যার চিকিৎসার জন্য উচ্চ আদালতের ওপর ভরসা করে আছেন। তার আশা, কর্তৃপক্ষ আপিলের মাধ্যমে হাসপাতাল পরিচালনার সুযোগ পাবে।

কর্তৃপক্ষের অবস্থান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দ্রুত রোগীদের অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিলেও আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ বলছে, চাইলেই সব রোগীকে এত দ্রুত স্থানান্তর করা সম্ভব নয়। আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক তারিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আগামী রবিবারের মধ্যে আমরা আপিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করব। আপিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে।’

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে ঈদুল আজহার আগের দিন আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি ও এসি বন্ধ থাকাসহ কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।

সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জামায়াত আমিরের

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় লাইসেন্স বাতিলের পর আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ছেড়ে যাচ্ছেন চিকিৎসাধীন রোগীরা। এ পরিস্থিতিতে হাসপাতালটি বন্ধের সিদ্ধান্তকে সঠিক হয়নিবলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি শিক্ষার্থী ও জনগণের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সম্প্রতি আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয়জন নবজাতকের মৃত্যুতে আমরা সবাই গভীর দুঃখ ও সমবেদনা প্রকাশ করি। ঘটনাটি অবশ্যই অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকার আজ হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করেছে। এটি মোটেই সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি। জামায়াত আমির বলেন, তদন্তের মাধ্যমে কোনো অবহেলা, ত্রুটি কিংবা অপরাধ চিহ্নিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। তা না করে যে হাসপাতালটি ‘গরিবের হাসপাতাল’ নামে পরিচিত এবং মানসম্মত সেবার মাধ্যমে জনগণের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল, আজ তারই লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হলো। শেষ পর্যন্ত এর ক্ষতি জনগণেরই হলো।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এটি একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, যেখানে শত শত শিক্ষার্থী ও নার্সিং শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছে। হাসপাতাল বন্ধ হলে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তাই ব্যক্তির অপরাধের জন্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ না করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৬৪৩ আক্রান্ত ৮৪২৬৬

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১১:১৪ পিএম
হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৬৪৩ আক্রান্ত ৮৪২৬৬
ছবি: সংগৃহীত

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১৫৩ জনের।

শুক্রবার (১২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৫৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া নিশ্চিত হামে মারা গেছে আরও ৯২ শিশু। ফলে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪৩ জনে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ২৭ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ৮৪ হাজার ২৬৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম শনাক্ত হয়েছে ১২৬ জনের শরীরে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১০ হাজার ১৮৫ জনের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৮ হাজার ৯৩৪ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৬৫ হাজার ২৭৫ জন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে খুলনায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।