ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
অবসর ভাবনায় কর্তোয়া ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু কানাডার কাতারের সামনে সুইজারল্যান্ড চ্যালেঞ্জ লুকিচের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে বসনিয়া কানাডার বিশ্বকাপ বরণ অনুষ্ঠান মাতালেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সঞ্জয় ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ, ভাঙা হৃদয়ে অবসর ঘোষণা মৃত্যুকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হিরো গিমেনেজ আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় সুসংবাদ হঠাৎই অবসরে উইলিয়ামসন সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি সনকে নিয়ে অস্বস্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি নাটকীয় সমাপ্তিতে ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান মন্তব্য ঘিরে আইনি জটিলতা, মমতার বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান: আরাঘচি সিলেটে ফাহিমা হত্যার ১ মাস পর চার্জশিট দিল পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়, ছয় লেন সড়ক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন; প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারবাসীর যত প্রত্যাশা হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৬৪৩ আক্রান্ত ৮৪২৬৬ স্থায়ী নিয়োগসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহীতে কর্মচারীদের সমাবেশ সোনারগাঁওয়ে আইফোনসহ ১৪৬ মোবাইল চুরি, প্রায় কোটি টাকা ক্ষতি শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৬৪৭ কার্টুন সিগারেট জব্দ প্রথম ম্যাচে খেলা হচ্ছে না ডেভিসের নওগাঁয় দুইদিন মাইকিং করেও মেলেনি ব্রাজিল সমর্থক বর্তমান বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন শেষ ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের ছয় হাসপাতালকে আদ্‌-দ্বীনের রোগী ভর্তি নিতে নির্দেশ
Nagad desktop

আমাদের মধ্যকার বিতর্ক-বিরোধ যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
আমাদের মধ্যকার বিতর্ক-বিরোধ যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়: প্রধানমন্ত্রী
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী চক্র কিন্তু এখনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। দেশের স্বার্থে আমাদের সবার সতর্ক থাকা জরুরি।’ ‘জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা’, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের এমন উক্তি তুলে  ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের মত-পথ ভিন্ন হতে পারে, আমাদের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্ক-বিরোধ থাকতে পারে, তবে আমাদের মধ্যকার বিতর্ক-বিরোধ যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়।’

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ বছর ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ এর জন্য মনোনীতদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের জন্ম-যুদ্ধে বীর শহিদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের আত্মত্যাগে আমাদের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধে যারা আহত হয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন, সেই সব আহত, পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধার প্রতি আমাদের গভীর ভালোবাসা। তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, আপনাদের সাহসী ভূমিকা এখনো বাংলাদেশের স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষের জন্য প্রেরণা।’ 

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ– এভাবে দেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে যারা জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন, নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।’

বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবময় ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এটি দেশের সবচেয়ে গৌরবজনক রাষ্ট্রীয় সম্মান। স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা দেশ এবং জনগণের জন্য স্মরণীয় অবদান রেখেছেন কিংবা রাখবেন, তাদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় ভূষিত করতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ প্রবর্তন করেছিলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানসহ স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সব জাতীয় নেতার অবদানকে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। 

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি হীন দলীয় স্বার্থে আমাদের ইতিহাসের জাতীয় নেতাদের ভূমিকাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে কার্পণ্য করি, তাহলে ভবিষ্যতের ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না। আমি বিশ্বাস করি, ঐতিহাসিক সত্য মেনে নিতে দ্বিধাচিত্ত থাকা হীনম্মন্যতার পরিচায়ক।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, চিকিৎসাবিদ্যা, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, পল্লী উন্নয়ন, সমাজসেবা, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, জনপ্রশাসন, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ এবং অন্য কোনো ক্ষেত্রেও যারা গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন– এমন ব্যক্তি, গোষ্ঠী, প্রতিষ্ঠান এবং সংস্থাকে প্রতিবছর দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় পুরস্কার ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’-এ ভূষিত করা হয়। 

তিনি আরও বলেন, চলতি বছর নিজ নিজ ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার ১৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক এবং পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করেছে। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে অসামান্য অবদানের জন্য আমার মরহুমা মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এ বছর মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন। 

স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত সব গুণীজন এবং প্রতিষ্ঠানকে আন্তরিক অভিনন্দন এবং মোবারকবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ এবং জনগণের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে আপনাদের এই অবিস্মরণীয় অবদান বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করবে। আজ এবং আগামীর বাংলাদেশে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আপনাদের এসব অবদান প্রেরণার উৎস হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে নিজ নিজ ক্ষেত্রে আপনাদের অবদান এবং সফল কর্মগুলো অদূর ভবিষ্যতে বিশ্ব দরবারেও সমাদৃত হবে।’

তিনি বলেন, ‘অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে আমরা একটি স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছিলাম। সেই বাংলাদেশটি এখন ৫৫ বছর পার করে ফেলেছে। এত বছরে আমাদের যেমন অনেক প্রাপ্তি রয়েছে, অপ্রাপ্তিও কম নয়। সুতরাং আমাদের প্রত্যাশিত স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রতিশোধ-প্রতিহিংসা কিংবা আর অযথা বিতর্ক নয়।’ 

সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি, দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনজীবনে শান্তি, নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে আমাদের সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।’ 

প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও কর্মমুখী করা জরুরি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমানে এক বড়সংখ্যক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে। কর্মক্ষম এই জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করাই এই মুহূর্তের এক বড় চ্যালেঞ্জ।’

তিনি বলেন, শুধু অর্থনীতিই নয়, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায়ও বিপর্যয় নেমে এসেছিল। ইন্টেরিম সরকারের সময়ও শিক্ষাব্যবস্থায় দুঃখজনকভাবে শৃঙ্খলা ফেরেনি। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে দেশে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক এবং কর্মমুখী করতেই হবে। শিক্ষাব্যবস্থাকে বাস্তবমুখী করার কাজটিও আমরা ইতোমধ্যেই শুরু করে দিয়েছি। 

নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে অর্ধেকের বেশি নারী। নারীদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে না পারলে আমাদের কোনো উদ্যোগই সহজে সফল হবে না। এভাবে প্রতি সেক্টরকে চিহ্নিত করে সরকার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার আগেই আমরা বিস্তারিতভাবে দেশের জনগণের সামনে দলীয় ইশতেহার ঘোষণা করেছিলাম। রাষ্ট্র মেরামতের অঙ্গীকার নিয়ে আমরা প্রকাশ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য স্বাক্ষর করেছিলাম। জনগণ আমাদের প্রতিটি অঙ্গীকারের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, এবার জনগণকে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পালা। আমরা ইতোমধ্যেই জনগণের সামনে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছি। আমরা দলীয় ইশতেহার এবং স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা, প্রতি অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব ইনশাআল্লাহ। 

বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার সব কিছু স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সব দেশে তেল-ডিজেলের দাম বাড়ানো হলেও জনদুর্ভোগ বিবেচনায় বর্তমান সরকার দাম বাড়ায়নি। এই খাতে প্রতিদিন শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে হলেও সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে।

বক্তব্য শেষে পুরস্কারপ্রাপ্তদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এদিকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের নিজ দপ্তর থেকে হেঁটে ওসমানী মিলনায়তনে যান। এ সময় রাস্তার দুই ধারে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। বেলা ৩টা ৫৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান, ব্যাকগ্রাউন্ডে তখন বেজে ওঠে জাতীয় সংগীত। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সবাই দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীতের প্রতি সম্মান জানান। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন হাফেজ কারী হাবিবুর রহমান। এরপর একে একে অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান এবং খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। সূত্র: বাসস

হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৬৪৩ আক্রান্ত ৮৪২৬৬

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১১:১৪ পিএম
হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৬৪৩ আক্রান্ত ৮৪২৬৬
ছবি: সংগৃহীত

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১৫৩ জনের।

শুক্রবার (১২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৫৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া নিশ্চিত হামে মারা গেছে আরও ৯২ শিশু। ফলে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪৩ জনে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ২৭ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ৮৪ হাজার ২৬৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম শনাক্ত হয়েছে ১২৬ জনের শরীরে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১০ হাজার ১৮৫ জনের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৮ হাজার ৯৩৪ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৬৫ হাজার ২৭৫ জন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে খুলনায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

হজ পালন শেষে দেশে ফিরলেন ৫২, ৪৯১ হাজি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
হজ পালন শেষে দেশে ফিরলেন ৫২, ৪৯১ হাজি
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালন শেষে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৫২৪৯১ জন বাংলাদেশি হাজি দেশে ফিরেছেন।

 শুক্রবার (১২ জুন) হজ অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, তিনটি নির্ধারিত বিমান সংস্থার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত মোট ১২৩টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৫৫টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ৪৭টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২১টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

হজ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১২৩টি ফ্লাইটের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ২৮৯ জন এবং বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবস্থাপনায় ৪৮ হাজার ২০২ জন হাজি দেশে ফিরেছেন।

এবার হজ পালন করতে গিয়ে ৩৩ জন পুরুষ ও ১৬ জন নারীসহ মোট ৪৯ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে মক্কায় ৩৫ জন, মদিনায় ১৩ জন এবং জেদ্দায় একজন মারা গেছেন।

হজ বুলেটিন অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৪১০ জন বাংলাদেশি হাজি চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ২৪ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সৌদি আরবের মেডিকেল সেন্টারগুলো ৬২ হাজার ২৪৩ জনকে এবং আইটি হেল্প ডেস্ক মক্কা ও মদিনায় ২৭ হাজার ৪১০ জন হাজিকে সেবা প্রদান করেছে।

এর আগে, গত ১৭ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪১৮ জন হজযাত্রী নিয়ে প্রথম হজ ফ্লাইট (বিজি৩০০১) জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ২১ মে প্রাক হজ ফ্লাইট সম্পন্ন হয়। চলতি বছরের ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। হজ শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়, যা আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত চলবে।

এসএন/

সরকার ব্যাংকমুখী নয় গণমানুষের বাজেট ঘোষণা করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১০:২১ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
সরকার ব্যাংকমুখী নয় গণমানুষের বাজেট ঘোষণা করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ । ছবি: সংগৃহীত

‘গণমানুষের বাজেট’ আখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘বিএনপি সরকার ব্যাংকমুখী নয় গণমানুষের বাজেট ঘোষণা করেছে। যারা দলীয়করণ বলছে, তারা খুবই নিকৃষ্ট লোক।’

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে কক্সবাজার পৌঁছে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত অনুষ্ঠানস্থল এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর উদ্যোগ কী বিএনপির জন্য নেওয়া হয়েছে। অবশ্যই নয়, এটি বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ের নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্তসহ সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। মানুষের চাহিদা হলো— নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকা। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। তাহলে প্রশ্ন হলো, এই বাজেট কি গণমুখী নয়? এটি কি দরিদ্রবান্ধব নয়? এটি কি জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন নয়? নিঃসন্দেহে এই বাজেট গণমুখী, দরিদ্রবান্ধব এবং জনআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এছাড়া আমাদের যে অঙ্গীকারগুলো ছিল— কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং তরুণ প্রজন্মের চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, সেসব বিষয়ও এই বাজেটে গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে যোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, এই বাজেটে একদিকে জনগণের ওপর করের চাপ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে রাজস্ব আয়ের পরিধি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেলে উন্নয়ন বাজেটে দেশীয় আয়ের অবদানও বাড়বে। আমরা যদি উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সবসময় ব্যাংক ঋণ ও বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল থাকি, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে নির্ভরশীলতার চক্র থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে না। সেই লক্ষ্য থেকেই আমরা রাজস্বভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে ক্ষতিগ্রস্ত আর্থিক ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাস্তবতার মধ্যে দাঁড়িয়ে মাত্র সাড়ে তিন মাসের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ বাজেট প্রণয়ন করা সম্ভব হয়েছে। এটিই আমাদের সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং নির্বাচনী জোটের সমর্থনে গঠিত সরকারের বাজেট। কেউ যদি এটিকে ‘দলীয় বাজেট’ বলে আখ্যায়িত করেন, তাহলে আমি বলব— গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি সরকারের বাজেটকে শুধুমাত্র দলীয় বাজেট হিসেবে চিহ্নিত করা একটি অযৌক্তিক ও অনভিপ্রেত মন্তব্য।

এসএন/

ঘণ্টাব্যাপী বিভ্রাটের পর স্বাভাবিক ফেসবুক

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১০:১২ পিএম
ঘণ্টাব্যাপী বিভ্রাটের পর স্বাভাবিক ফেসবুক
ছবি: সংগৃহীত

প্রায় এক ঘণ্টা বিভ্রাটের পর স্বাভাবিক হয়েছে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামসহ মেটার বেশির ভাগ প্ল্যাটফর্ম।

এর আগে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে বড় ধরনের বিভ্রাটের খবর আসে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। আর সচল হওয়ার খবর পাওয়া যায় রাত সোয়া ৮টার দিকে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেবা পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম— ডাউনডিটেক্টরে জমা হওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ২১ মিনিটের পর থেকে ফেসবুকের বিভিন্ন সেবা ব্যবহারে সমস্যা নিয়ে অভিযোগ বাড়তে থাকে। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ আসে অ্যাপ ব্যবহারে।

ডাউনডিটেক্টরের পরিসংখ্যান বলছে, মোট অভিযোগের ৫৬ শতাংশই ছিল অ্যাপ-সংক্রান্ত। এছাড়া ২৬ শতাংশ ব্যবহারকারী লগইন সমস্যার কথা জানান। ওয়েবসাইট ব্যবহারে সমস্যার অভিযোগ আসে ১১ শতাংশ প্রতিবেদনে।

ব্যবহারকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, রোমানিয়া, মিয়ানমার, মধ্যপ্রাচ্য ও ফিলিপিন্সসহ বিশ্বের নানা অংশে সেবা বন্ধ থাকে।

সমস্যার কারণে কিছু ব্যবহারকারী ফেসবুক অ্যাপ চালু করতে, অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে কিংবা স্বাভাবিকভাবে সেবা ব্যবহার করতে বাধার মুখে পড়েন।

এসএন/

দেশের ভঙ্গুর অবস্থায় ভালো বাজেট হয়েছে: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
দেশের ভঙ্গুর অবস্থায় ভালো বাজেট হয়েছে:  সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। ছবি: সংগৃহতি

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ভঙ্গুর অবস্থায় যে বাজেট দেওয়া হয়েছে তা বেস্ট বাজেট। কেননা, কৈ এর তেল দিয়ে কৈ ভাজার মতো করে কাজগুলো করার চেষ্টা করা হয়েছে। যাতে মূল্যস্ফীতি না ঘটে। প্রত্যেকটা টাকা যেন মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য পৌঁছায় সেভাবেই কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল।

শুক্রবার( ১২ জুন)  দুপুরে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় দুঃস্থ মানুষদের মাঝে হুইলচের ও চেক বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে উপজেলা চত্বরে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

বাজেট নিয়ে বিরোধীদলের সমালোচনা বিষয়ে তিনি বলেন, বাজেট নিয়ে জামায়াতের অবজারভেশন থাকতেই পারে। বিষয়গুলো তারা সরকারকে জানাতে পারেন। 

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা প্রশাসনে কর্মকর্তাসহ স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

কামাল মৃধা/এসএন