দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সম্ভাব্য উগ্রবাদী হামলার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বাড়তি নিরাপত্তা ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ বাড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা মোকাবিলায় নজরদারি বাড়িয়েছেন গোয়েন্দারা। তবে গতকাল শনিবার ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন বলেছেন, আতঙ্কের কিছু নেই, পরিস্থিতি মোকাবিলায় পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সম্ভাব্য উগ্রবাদী হামলার আশঙ্কায় সম্প্রতি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় সংসদ ভবন, সচিবালয়, ধর্মীয় উপাসনালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বা তাদের কর্মস্থলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সতর্কতামূলক নির্দেশনার তথ্য খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেন পুলিশ সদর দপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল সন্ধ্যায় ওই কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেওয়া ওই বার্তায় সব মেট্রোপলিটন কমিশনার, রেঞ্জের ডিআইজি ও সব জেলা পুলিশ সুপারসহ পুলিশের সব ইউনিটকে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ-কালের মধ্যে আইজিপি নিজেই এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারেন বলেও জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া উগ্রবাদী একটি সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পান গোয়েন্দারা। ইসতিয়াকের দেওয়া তথ্য অনুসারে বেশ কয়েক দিন ধরেই নিবিড়ভাবে কাজ করছিল বিভিন্ন বাহিনী বা সংস্থা। সেখান থেকেই সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার বিষয়টি সামনে আসে। এ বিষয়ে কেবল পুলিশ বা র্যাব নয়, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অন্য সংস্থাগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে।
অন্যদিকে গতকাল রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস-সম্পর্কিত অনলাইন প্রতারণার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে সম্ভাব্য ওই হামলার আশঙ্কা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সম্মুখীন হন সন্ত্রাস-উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কাজ করা ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিএমপির সিটিটিসি ইউনিটের যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন। এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে এবং সিটিটিসির সাইবার ইন্টেলিজেন্স টিম বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব-সহকারে দেখছি। আমরা এটিকে মোকাবিলা করতে পারব।’
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন বা অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের কারাবন্দি থাকা অনেক নেতা ও সদস্য জামিনে মুক্তি পান। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন দুর্ধর্ষ উগ্রবাদী বন্দি কারাগার ভেঙে পালিয়েও যান, যারা এখনো ধরা পড়েননি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন, দীর্ঘ এই দেড় বছরের বেশি সময় ধরে উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর তৎপরতার বিষয়গুলো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে উগ্রবাদী সংগঠনের তৎপরতাকে খুবই হালকাভাবে নেওয়া হয়। উল্টো তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে গণমাধ্যমেও কথা বলেন স্বয়ং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একশ্রেণির কর্মকর্তাও। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ‘দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই’ বলে মন্তব্য করেছিলেন তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। এমনকি ‘আওয়ামী লীগের সময় জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ছেলেপেলেদের মারছে, কিসের জঙ্গি’–এমন ধরনের মন্তব্যও করেছিলেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী।