প্রেসিডেন্ট জিয়া সব সময় দেশের উন্নয়নের স্বপ্ন দেখতেন। তার স্বল্পকালীন শাসনামলে দেশের গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে বেড়িয়েছেন। তিনি হেঁটে সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা অনুধাবন করার চেষ্টা করেছেন। তিনি জানতেন, জমিতে যদি পানি সেচ দেওয়া না যায় তাহলে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ফসল উৎপাদন করা সম্ভব নয়। তাই তিনি খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। গ্রামীণ কৃষিব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।...

আজ বাংলাদেশের রাজনৈতিক গগনে সবচেয়ে সৎ এবং জনদরদি শাসক শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী। তিনি ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার বাগবাড়ি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভাগ্যাকাশে জেনারেল জিয়ার আবির্ভাব ঘটেছিল ধূমকেতুর মতো। স্বল্প সময়ের জন্য আলোক রশ্মির বিচ্ছুরণ ঘটিয়ে তিনি হারিয়ে গেছেন। অবশ্য জিয়া হারিয়ে গেছেন এমন বলাটা ঠিক হবে না। কারণ জিয়ার মতো মানুষ জাতির ইতিহাস থেকে কখনোই হারিয়ে যান না। বরং দিন দিন তাদের উজ্জ্বলতা বাড়তেই থাকে। যুগে যুগে লক্ষ করা গেছে, স্বৈরাচারী শাসকরা তাদের ব্যর্থতা বা সীমাবদ্ধতা ঢাকার জন্য জাতীয় বীরদের নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করে। কিন্তু এক সময় তারা নিজেরাই ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হন। বিগত সাড়ে ১৫ বছর রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে রাখা ভোটারবিহীন স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকার ইতিহাস থেকে জেনারেল জিয়ার নাম মুছে ফেলার কতই না চেষ্টা করেছে। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস আজ তারাই ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন। জেনারেল জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ বিধায় কেউ কেউ তাদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য কারণে-অকারণে সুযোগ পেলেই জেনারেল জিয়ার সমালোচনা করে থাকেন।
বিগত সরকার আমলে শেখ মুজিবকে মহিমান্বিত করার জন্য তাকে মুক্তিযুদ্ধের একক কৃতিত্বের দাবিদার হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। মনে রাখতে হবে, একটি জাতির স্বাধীনতা আন্দোলন কখনোই একব্যক্তির প্রচেষ্টায় অর্জিত হয় না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক, সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, জেনারেল জিয়ার অবদান কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবে না। ষাটের দশকে কাগমারিতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে মওলানা আব্দুর হামিদ খান ভাসানী পাকিস্তানিদের উদ্দেশে ‘আসসালামু আলাইকুম বলেছিলেন।’ এই বক্তব্যের মধ্যেই ইঙ্গিত পাওয়া যায় বাংলাদেশের মানুষ আর পাকিস্তানের অধীনে থাকতে রাজি নয়। তারা স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখছে। বিগত সরকারের আমলে শেখ মুজিবকে শ্রেষ্ঠত্ব দানের জন্য শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক, সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, জেনারেল জিয়ার গৌরবময় অবদানকে শুধু অস্বীকার করা হয়নি বরং তাদের নানাভাবে বিতর্কিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে সমালোচনা ও কুৎসার শিকার হয়েছেন স্বাধীনতার ঘোষক জেনারেল জিয়া। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে জেলারেল জিয়ার প্রতি মারাত্মক বিদ্বেষ পোষণ করতেন। তার এই মনোভাবের কারণ ছিল জেনারেল জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে মুজিব পরিবারের একক কৃতিত্বে ভাগ বসিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা জেনারেল জিয়াকে ‘পাকিস্তানি চর’ বলে আখ্যায়িত করতেও দ্বিধা করেননি। অথচ শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামালেই জিয়াকে মর্যাদাপূর্ণ ‘বীরউত্তম’ রাষ্ট্রীয় খেতাবে ভূষিত করা হয়েছিল। জেনারেল জিয়া মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নিয়েও যদি পাকিস্তানের গুপ্তচর হিসেবে আখ্যায়িত হন তাহলে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানি সরকারের ভাতাভোগী শেখ পরিবার কী হিসেবে আখ্যায়িত হতে পারেন?
১৯৭১ সালে মেজর জিয়া ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা। নিজস্ব পরিমণ্ডলের বাইরে তার তেমন কোনো পরিচিতি ছিল না। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মেজর জিয়া যদি অনুগত সামরিক কর্মকর্তার মতো পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে সেবা দিয়ে যেতেন তাহলে জাতি তাকে চিনতে পারত না। কিন্তু মেজর জিয়া ছিলেন অন্য ধাঁচের মানুষ। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত অবস্থাতে তিনি বাঙালি সেনাদের প্রতি পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তাদের বৈষম্যমূলক আচরণ প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তাই তিনি মনে মনে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখতেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানি বাহিনী দেশব্যাপী সামরিক অভিযান শুরু করলে পুরো জাতি হতভম্ভ হয়ে পড়ে। তারা তাদের করণীয় সম্পর্কে বুঝতে পারছিল না। মাঝ নদীতে মাঝিবিহীন হালভাঙা নৌকার যাত্রীদের যে অবস্থা হয় পুরো জাতি সেদিন তেমনি অবস্থার মধ্যে পতিত হয়েছিল। এ অবস্থায় চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ২৬ ও ২৭ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, আমি মেজর জিয়া বলছি। আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি। ‘আমি মেজর জিয়া বলছি’ এই সম্মোহনী শব্দটি এখনো আমার কানে বাজে। এই একটি মাত্র উচ্চারণ পুরো জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে। আগের রাতে মেজর জিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং তার কমান্ডিং অফিসার জানজুয়াকে হত্যা করেন। গণআন্দোলন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছিল, তাই আমি আমি ফেনীতে অবস্থান করছিলাম। এমন অবস্থায় রেডিওতে মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা শ্রবণ করি। রেডিওতে মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা শুনে আমি যে কতটা উল্লসিত হয়েছিলাম তা এখন ব্যাখ্যা করে বোঝানো যাবে না। মেজার জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা শুনে আমি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।
জেনারেল জিয়া একজন সেনা কর্মকর্তা হলেও তিনি ছিলেন আজীবন গণতন্ত্রের পূজারি। তিনি মনে করতেন, সত্যিকার উদার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা না গেলে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। জেনারেল জিয়া যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন তার আগে দেশে বাকশালি রাজনীতি চালু ছিল। জেনারেল জিয়া রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন। একজন সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার নজির পৃথিবীতে বিরল। শেখ মুজিবের আমলে চারটি পত্রিকা রেখে অবশিষ্ট পত্রিকাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বন্ধ পত্রিকাগুলো পুনঃপ্রকাশের অনুমতি দেওয়া হলে সে পত্রিকাগুলো জেনারেল জিয়ার সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করেছে। কিন্তু কোনো পত্রিকার বিরুদ্ধেই দমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
জেনালের জিয়া ছিলেন অত্যন্ত দূরদর্শী একজন রাষ্ট্রনায়ক। তার উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে দ্বিপক্ষীয় সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন সাধন করা। ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশের (বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, ভুটান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা) রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের শীর্ষ সম্মেলনের মাধ্যমে ‘সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কোঅপারেশন’ (সার্ক) গঠন করা হয়। এই সার্কের মূল স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে প্রাথমিক যোগাযোগ শুরু করেছিলেন। কিন্তু ঘাতকের হাতে নির্মমভাবে নিহত হওয়ার কারণে সেই প্রচেষ্টা স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে এরশাদ আমলে সার্ক গঠন করা হলেও একটি দেশের আপত্তির কারণে সার্ক একটি অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে দুর্বল দেশে পরিণত হয়। জেনারেল জিয়া সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে দেশকে অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যান। তিনি চীন এবং সৌদি আরবের স্বীকৃতি আদায় করতে সমর্থ হন। সৌদি বাদশাহর সঙ্গে জেনারেল জিয়ার অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। অনেকেই হয়তো জানেন, জিয়াউর রহমান সৌদি বাদশাহ আমন্ত্রণে সৌদি আরব সফরকালে নিমগাছের চারা নিয়ে গিয়েছিলেন। জিয়ার দেওয়া সেই নিমগাছ এখনো সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে শোভা পাচ্ছে। সৌদিরা নিমগাছকে ‘জিয়া ট্রি’ নাম দিয়েছে। জেনালের জিয়া মুসলিম বিশ্বের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ ছিলেন। তিনি মুসলিম দেশগুলোর মাঝে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতেন। ফলে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট জিয়ার উজ্জ্বল ইমেজ তৈরি হয়েছিল।
জিয়া তার স্বল্পকালীন শাসনামলে দেশের গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে বেড়িয়েছেন। তিনি হেঁটে সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা অনুধাবন করার চেষ্টা করেছেন। তিনি জানতেন, জমিতে যদি পানি সেচ দেওয়া না যায় তাহলে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ফসল উৎপাদন করা সম্ভব নয়। তাই তিনি খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। গ্রামীণ কৃষিব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট জিয়াই একমাত্র ব্যক্তি যিনি কৃষিজমিতে ‘আইল’ তুলে দেওয়ার চিন্তা করেছিলেন। সেই সময় পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছিল, যদি বাংলাদেশের জমি থেকে ‘আইল’ তুলে দেওয়া যায় তাহলে বগুড়া জেলার আয়তনের সমান কৃষিজমি পাওয়া সম্ভব। তার সময়ে পল্লী বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। গ্রামীণ জনপদে রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করা হয়েছিল। জিয়া ঠিকই বুঝেছিলেন একটি গ্রামে যদি রাস্তা নির্মাণ করা যায় এবং বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা যায় তাহলে সেই গ্রামে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগবেই।
জিয়া দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় রাখতেন। প্রেসিডেন্ট জিয়া সেই ব্যক্তি যিনি বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানির পরিকল্পিত উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বর্তমানে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত হচ্ছে জনশক্তি রপ্তানি খাত। বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ গঠনে জনশক্তি খাত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। প্রায় দেড় কোটি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থান করছে। প্রেসিডেন্ট জিয়ার শাসনামলেই বাংলাদেশ থেকে সীমিত পরিসরে তৈরি পোশাক রপ্তানি শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানি করা সম্ভব এটা আগে কেউ কল্পনাও করেনি। বর্তমানে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাত হচ্ছে তৈরি পোশাক। শুধু তাই নয় বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট জিয়ার একটি বিরল গুণ ছিল, তিনি কখনোই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হননি এবং পরিবারের কাউকে দুর্নীতির ধারে-কাছে আসতে দেননি। বিগত সরকার আমলে আমরা প্রত্যক্ষ করলাম কীভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে দেশের সম্পদ লুটে নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। জিয়া তার কোনো আত্মীয়স্বজনকে তার অফিসে আসতে দিতেন না। এমনকি বাসাতেও তাদের যাতায়াত ছিল খুবই সীমিত। জিয়া অত্যন্ত সহজ-সরল জীবনযাপন করতেন। কোনো ধরনের বিলাসিতা তার মাঝে ছিল না। প্রেসিডেন্ট জিয়ার সততা আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃতি ছিল। নিউইয়র্ক টাইমস একবার লিখেছিল, ‘জিয়া ছিলেন একজন মৃদুভাষী সামরিক ব্যক্তি, কঠোর পরিশ্রমী এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে দুর্নীতির ঊর্ধ্বে। আর নতুন জাতিকে নিজের পায়ে দাঁড় করাতে প্রয়োজনীয় কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি ছিলেন পারঙ্গম।’ বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আলেকজান্ডার স্টোরার সৈয়দ কামালউদ্দিনকে বলেছিলেন, ‘তোমাদের প্রেসিডেন্টকে দেখো। তাকে কোনোভাবেই ঘুষ দেওয়া যায় না। তিনি কঠিন টাস্কমাস্টার যা দুর্নীতিকে নিরুৎসাহিত করে।’ (তথ্যসূত্র মাহফুজ উল্লাহ সম্পাদিত প্রেসিডেন্ট জিয়া: রাজনৈতিক জীবন, পৃষ্ঠা নম্বর-৪১)।
জেনারেল জিয়ার একটি বিরল গুণ ছিল। তিনি সচরাচর মেজাজ হারাতেন না। তিনি অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে সবার কথা শুনতেন। তিনি স্বভাবে ছিলেন কোমল কিন্তু দেশের স্বার্থের প্রশ্নে ছিলেন কঠোর এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। জিয়া সম্পর্কে একটি প্রবাদ আছে, তিনি কথা বলতেন কম, শুনতেন বেশি। জিয়াউর রহমান অত্যন্ত গোছানো প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। কোনো কাজই তিনি অপরিকল্পিতভাবে করতেন না। তিনি প্রতিপক্ষের প্রতিও উপযুক্ত সম্মান প্রদর্শন করতেন। কেউ বলতে পারবেন না জিয়াউর রহমান কাউকে গালি দিয়েছেন অথবা কটু কথা বলেছেন। জিয়া চারিত্রিক দৃঢ়তার অধিকারী ছিলেন কিন্তু আত্মঅহংকার ছিল না। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে খুব সহজেই মিশে যেতে পারতেন। বেগম জিয়ার মাঝেও কাউকে গালি না দেওয়া বা বিদ্রুপ না করার মানসিকতা বিদ্যমান ছিল।
প্রেসিডেন্ট জিয়া দেশের মাটি ও মানুষকে ভালোবেসেছিলেন। তিনি সব সময় দেশের উন্নয়নের স্বপ্ন দেখতেন। ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ, জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ।’ এই গানটি ছিল প্রেসিডেন্ট জিয়ার অত্যন্ত প্রিয় একটি গান। এই গানের মতোই তিনি জীবন দিয়ে দেশের প্রতি তার দায় পরিশোধ করেছেন। বাংলাদেশ যতদিন টিকে থাকবে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম ততদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হবে।
লেখক: সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও
বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত


.jpg)