ঢাকা ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, রোববার, ২৬ মে ২০২৪

ভয়ংকর পরিস্থিতি বাংলাদেশ ব্যাংকে : রিজভী

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৪, ০৯:৫২ পিএম
ভয়ংকর পরিস্থিতি বাংলাদেশ ব্যাংকে : রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকের থলের বিড়াল এখন আস্তে আস্তে বের হতে শুরু করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা হ্যাক করে অন্য দেশে নিয়ে গেছে- এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছিলেন, ‌‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে কোনো ঘটনা ঘটেছে।’ সেটা আস্তে আস্তে প্রতিদিন ফুটে উঠছে। ভয়ংকর পরিস্থিতি বাংলাদেশ ব্যাংকে।”

বুধবার (১৫ মে) বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচন বর্জনের সমর্থনে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ শেষে তিনি এসব কথা বলেন। 

রিজভী বলেন, ‘সাংবাদিকরা যেন জানতে না পারেন, সে জন্য তাদের ঢুকতে বিধিনিষেধ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন বোঝা যাচ্ছে কী ধরনের সর্বনাশ হয়েছে। যে ব্যাংকে দেশের মানুষের আমানত সঞ্চয় নিরাপত্তায় থাকে, আজ সেই ব্যাংকে কী ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশের ব্যাংকের রিজার্ভ এসে দাঁড়িয়েছে ১৩ বিলিয়ন ডলার। এসব গোপন করতেই বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ওবায়দুল কাদের সাহেবরা।’ 

আওয়ামী লীগ ভেতরে ভেতরে এক কাজ করে, আর জনগণকে অন্য কথা শোনায়- এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ডোনাল্ড লু মার্কিন কোম্পানিগুলোর ঋণ পরিশোধ করার জন্য চাপ দিয়েছেন। সুতরাং ডোনাল্ড লুর কাছে অনুনয়-বিনয় করছেন সরকারের লোকজন। এ ধরনের দ্বিচারিতা আর ভণ্ডামি করেই সরকার জোর করে ক্ষমতায় আছে।’ 

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, অর্থনৈতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম, হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও মিডিয়া সেলের সদস্য শাম্মী আক্তার, মৎস্যজীবী দলের সদস্যসচিব আব্দুর রহিম প্রমুখ।

ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবিলায় নেতা-কর্মীদের ৬ নির্দেশনা ছাত্রদলের

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৪:০১ পিএম
ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবিলায় নেতা-কর্মীদের ৬ নির্দেশনা ছাত্রদলের
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল

ঘূর্ণিঝড় রেমালের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি রোধে ও জানমালের নিরাপত্তায় নেতা-কর্মীদের ৬টি নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

রবিবার (২৬ মে) দলটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ নির্দেশনা দেন।

নির্দেশনাগুলো হলো- উপকূলীয় এলাকার সাধারণ মানুষকে রেমালের ধ্বংসাত্মক প্রবণতা সম্পর্কে জরুরিভাবে সতর্ক করার প্রয়োজনে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনার কাজে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে হবে, গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করতে হবে এবং বাঁধ সংস্কারের কাজে সহযোগিতা করতে হবে। শুকনো কিংবা রান্না করা খাবার, খাবার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রস্তুত রাখতে হবে। ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী উদ্ধারকাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে প্রতিটি ইউনিটে অন্তত এক‌টি রেসকিউ টিম প্রস্তুত রাখতে হবে। ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে হবে। নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।

ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের যেকোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাকে কিংবা সংকটে এক‌টি দায়িত্বশীল সংগঠন হিসেবে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সবসময়ই সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। রেমালের বিধ্বংসী প্রবণতা থেকে উপকূলের মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের প্রতি এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

ক্রমান্বয়ে আরও শক্তি সঞ্চয় করে উপকূলের দিক ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল। মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী এবং তাদের কাছের দ্বীপ ও চরগুলো ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৯ নম্বর বিপৎসংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শফিকুল ইসলাম/সালমান/

হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি নেতা দুলু

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০২:২৮ পিএম
হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি নেতা দুলু
অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু

হার্ট অ্যাটাক হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। 

শনিবার (২৫ মে) রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। 

দুলুর ব্যক্তিগত সহকারী শামসুল আলম রনি জানান, শনিবার রাতে বাসায় হার্ট অ্যাটাক করলে তাৎক্ষণিক তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
 
দুলুর রোগমুক্তির জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তার পরিবার।

শফিকুল ইসলাম/অমিয়/

ফেনীর ৩ উপজেলায় প্রচার আছে আমেজ নেই

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৯:৫১ এএম
ফেনীর ৩ উপজেলায় প্রচার আছে আমেজ নেই

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে ফেনীর তিনটি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট চেয়ে প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা নিজেকে বিজয়ী করতে ভোটারদের দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি। শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় নির্বাচনি মাঠে ভোটের আমেজ নেই। তবে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে নির্বাচন অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ফেনী সদর, দাগনভূঞা ও সোনাগাজী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আগামী ২৯ মে অনুষ্ঠিত হবে। তিন উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আটজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছয়জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে শক্তিশালী কেউ না থাকায় নির্বাচনে মাঠে শুধু দোয়াত-কলমের প্রার্থীরা ফুরফুরে মেজাজে আছেন। তারা বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিটের বর্ধিত সভা, মহিলা সমাবেশ ও পথসভা করে নির্বাচনকে সরগরম রাখার চেষ্টা করছেন। এ জন্য অনেকে বলছে নামমাত্র ভোট। মাঠপর্যায়ে নেতা-কর্মীদের মাঝে ভোটের আমেজ নেই।

তবু শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণায় প্রার্থীরা হাটবাজার থেকে শুরু করে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। প্রার্থীদের ব্যানার-ফেস্টুন ছেয়ে গেছে শহর ও গ্রাম। চলছে মাইকিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা। তবে নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের তেমন আগ্রহ নেই। সরকারদলীয় প্রার্থী ছাড়া অন্য প্রার্থীদের কোথাও গণসংযোগ বা নির্বাচনি প্রচার করতে দেখা যায়নি। শুধু শহরকেন্দ্রিক সামান্য কিছু পোস্টার ছাড়া আর কিছু নেই তাদের।

ফেনী সদর উপজেলার ভোটার আবুল কাশেম বলেন, ‘ভোট হলেও কি, না হলেও কি। এখানে সবাই জানে কে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন। নির্বাচন তো নামমাত্র। ভোট করে এত টাকা-পয়সা খরচ না করলেও হয়।’

দাগনভূঞা পৌরসভার ভোটার নুরুল আলম বলেন, ‘পুরো উপজেলায় বর্তমান চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতনের আধিপত্য। এখানে নির্বাচন করে অন্য কোনো প্রার্থী জয়ী হবে এটি কল্পনা ছাড়া আর কিছু না। তার সঙ্গে যে প্রার্থী রয়েছে তিনি ডামি প্রার্থী। এটি লোক দেখানো নির্বাচন ছাড়া আর কিছু না।’

ফেনী সদর উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দোয়াত-কলম প্রতীকের প্রার্থী শুসেন চন্দ্র শীল বলেন, ‘আমরা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনার জন্য গণসংযোগ, পথসভা ও মহিলা সমাবেশ করছি। আমি মনে করি ভোট একটি গণতন্ত্রের উৎসব। এই উৎসব আমরা সবাইকে নিয়ে করতে চাই। আমি গণসংযোগ ও পথসভায় ভোটারদের ব্যাপক সাড়া দেখছি। আমার বিশ্বাস আগামী ২৯ মে ফেনী সদর উপজেলায় একটি ভোটবিপ্লব ঘটবে। সেই ভোটবিপ্লবে আমার প্রতীক দোয়াত কলমে সর্বোচ্চ ভোট পড়বে।

ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান দোয়াত-কলম প্রতীকের প্রার্থী জহির উদ্দিন মাহমুদ লিটন জানান, বিগত পাঁচ বছর এই উপজেলার মানুষের সুখে দুঃখে বিপদে-আপদে সব সময় মানুষের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছি। উপজেলা পরিষদের বরাদ্দের বাইরেও এই উপজেলায় সরকারের অনেক বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। আমার প্রতি মানুষের আস্থা, বিশ্বাস তৈরি হয়েছে। সেই আস্থা এবং বিশ্বাস থেকে মানুষ আগামী ২৯ মে নির্বাচনে আমার প্রতীক দোয়াত-কলমে সর্বোচ্চ ভোট দেবে।

জেলা যুবলীগের সভাপতি ও বর্তমান দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দোয়াত-কলম প্রতীকে প্রার্থী দিদারুল কবির রতন জানান, বিগত ১৫ বছর এই উপজেলার মানুষের সেবা করছি। এই উপজেলার অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন যেমন রাস্তাঘাট ব্রিজ-কালভার্ট করছি। উপজেলার প্রতিটি মানুষের বাড়ির দরজায় আমার শ্রম-ঘাম রয়েছে। এ জন্য উপজেলার মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে আগামীতেও পাশে থাকার সুযোগ দেবে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান নির্বাচনের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোনো ধরনের সমস্যা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থী অন্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে আমাদের কাছে অভিযোগ করেনি। এতে বোঝা যাচ্ছে নির্বাচনি মাঠ ভালো রয়েছে।

জানা গেছে, ফেনী সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দোয়াত-কলম প্রতীকে বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল, মোটরসাইকেল প্রতীকে মনজুর আলম, ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুজন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

অন্যদিকে দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দোয়াত-কলম প্রতীকে বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগ সভাপতি দিদারুল কবির রতন, চিংড়ি মাছ প্রতীকে বিজন ভৌমিক, ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এ ছাড়া সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দোয়াত-কলম প্রতীকে বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপ্টন, ঘোড়া প্রতীকে পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নূর আলম মিস্টার, লাঙ্গল প্রতীকে উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মজিবুল হক, আনারস প্রতীকে মজলিশপুর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া দাগনভূঞা ও সোনাগাজীতে দুজন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে।

সেতুমন্ত্রীর ছোট ভাইয়ের দাবি : এই পরিবারে জন্ম হওয়াটাই ভুল

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৯:২৪ এএম
সেতুমন্ত্রীর ছোট ভাইয়ের দাবি : এই পরিবারে জন্ম হওয়াটাই ভুল
শাহাদাত হোসেন

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই শাহাদাত হোসেন ভাইদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘এই পরিবারে জন্ম হওয়াটাই আমার ভুল হয়েছে। আমি যদি এটা জানতাম, তাহলে আমার মাকে বলতাম, আমাকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলো।’

গত শুক্রবার রাতে কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাটে নির্বাচনি প্রচারের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি তৃতীয় ধাপে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে টেলিফোন প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ওবায়দুল কাদেরের আরেক ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বসুরহাট পৌরসভার মেয়র। তিনি এ নির্বাচনে গোলাম শরীফ চৌধুরী পিপুলকে আনারস প্রতীকে প্রার্থী দিয়ে আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে নেমেছেন।

শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমার প্রার্থিতা বাতিল করতে গোলাম শরীফকে দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টে আপিল করিয়েছেন আমার ভাই আবদুল কাদের মির্জা। আদালত তাদের নাকচ করে দিয়ে আমার প্রার্থিতা ফিরিয়ে দিয়েছেন। এরপর তারা এখন নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।’

শাহাদাত অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে পুলিশ। আমি হাইকোর্ট থেকে আটজনের জামিন এনেছি। এখন অজ্ঞাত আসামি বলে আমার লোকদের হয়রানি করা হচ্ছে। প্রতিরাতে পিপুলের হেলমেট বাহিনী আমার নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। আমার টেলিফোন প্রতীকের কোনো কর্মী বা এজেন্ট বাড়িতে ঘুমাতে পারছে না। মেয়রের নির্দেশে এসবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কাউন্সিলর রাসেল।’

দেশ লুটপাটকারীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে: প্রিন্স

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ১১:৫৮ পিএম
দেশ লুটপাটকারীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে: প্রিন্স
ছবি : খবরের কাগজ

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেছেন, ‘সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ড, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ আসায় দেশে দুর্বৃত্তায়ন ও লুটপাটের খবর ফুটে উঠেছে। এসব তথ্যই বলে দেয় দেশটা লুটপাটকারীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।’

শনিবার (২৫ মে) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে সিপিবির কেন্দ্রীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, একদিকে সরকার মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির গল্প শোনাচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমে গেছে। নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে জনজীবন অতিষ্ঠ। দেশ থেকে অবাধে টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। দিন দিন খেলাপিঋণ বেড়েই চলেছে। গত ১০ বছরে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি খেলাপিঋণ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন আজ নির্বাসনে চলে গেছে। লুটেরা দুর্বৃত্তরা আজ ক্ষমতাশ্রয়ী রাজনীতির চালকের আসনে বসে আছে। তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য সারা দেশে লোভ আর ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছে। ভোটাধিকার, গণতন্ত্র ও ব্যবস্থা বদলের সংগ্রামকে সামনে রেখে গণআন্দোলন-গণসংগ্রাম গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। 

সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য শাহীন রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য পরেশ কর, সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রেজা ও শ্রমিক নেতা আব্দুল কুদ্দুস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ ডা. ফজলুর রহমান, সদস্য কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষ, জলি তালুকদার, মানবেন্দ্র দেব, সাদেকুর রহমান শামীম, জাহিদ হোসেন প্রমুখ।

সমাবেশে অন্য নেতারা, উৎপাদিত ফসলের লাভজনক মূল্য নিশ্চিত করতে উৎপাদক সমবায় ও ক্রেতা সমবায় গড়ে তোলা এবং শ্রমিকের জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের দাবি জানান। 

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পার্টি কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। এদিকে বিক্ষোভ সপ্তাহের প্রথম দিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায়ও সভা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, রেশনব্যবস্থা চালু, পাচারের খেলাপিঋণের টাকা উদ্ধার, লুটপাট বন্ধ, মুক্তিযুদ্ধের অর্থনৈতিক দর্শনের ভিত্তিতে গণমানুষের বাজেট প্রণয়ন, কর্তৃত্ববাদী শাসন ও সাম্রাজ্যবাদ আধিপত্যবাদী শক্তিকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বানে সিপিবি শনিবার থেকে সপ্তাহব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছে।

জয়ন্ত/এমএ/