ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

আখের গোছাতে ব্যস্ত তাঁতী দলের নেতারা

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ১০:১৪ এএম
আপডেট: ২৪ মে ২০২৪, ১০:২১ এএম
আখের গোছাতে ব্যস্ত তাঁতী দলের নেতারা
তাঁতী দল

দলীয় পদ-পদবি এবং কমিটি বাণিজ্যের মাধ্যমে আখের গোছাতে ব্যস্ত তাঁতী দলের শীর্ষ নেতারা। বিস্তৃত করার পরিবর্তে তারা সংগঠনকে আরও সংকুচিত করেছেন। ৯০ দিনের আহ্বায়ক কমিটির ‘বয়স’ এখন ছয় বছর। দীর্ঘ এই সময়ে তাঁতী দলের শীর্ষ নেতারা নিজেদের বলয়কে আরও প্রসারিত করেছেন, পদ বাণিজ্য চালিয়েছেন প্রকাশ্যেই।

সংগঠনের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, শীর্ষ নেতারা তাঁতী দলকে নিজের ‘টাকা কামানোর’ দোকান হিসেবে ব্যবহার করছেন। অভিযোগকারীরা বলেছেন, দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ও সদস্যসচিব মজিবুর রহমানকে টাকা দিলে পদ মেলে, না দিলে পদ নেই। পদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন আবুল কালাম আজাদ। অর্থ গ্রহণকারীদের অনেককেই তিনি পদ দেননি, তবে কারও টাকা ফেরতও দেননি। উৎকোচের বিনিময়ে জেলা কমিটি অনুমোদন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অর্থের লোভে এক জেলায় দুই-তিনবার আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করেছেন। অভিযোগ পাওয়া গেছে, আজাদ ও মজিবুর ‘মাইম্যান’ দিয়ে জেলা ও মহানগরের পকেট কমিটি গঠন করেছেন। বিএনপি থেকে বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠান আয়োজনের খরচ দেওয়া হলে সেই টাকাও আত্মসাৎ করেছেন এই শীর্ষ নেতারা।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী খবরের কাগজকে বলেছেন, ‘অভিযোগের তদন্ত হচ্ছে। সংগঠন পুনর্গঠন হলে নতুন নেতৃত্ব আসবে।’ তিনি বলেন, ‘নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বা প্রতিহিংসার কারণে তারা একে অন্যের বিরুদ্ধে বদনাম ছড়াচ্ছেন।’

তাঁতী দলের নিয়ন্ত্রণে আছেন গুটিকয়েক নেতা। তাদের মধ্যে আছেন আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক শামছুন্নাহার বেগম, সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হান্নান খান এবং আব্দুল মতিন। তাদের সঙ্গে আছেন আরও সাত-আটজন। এদের অনিয়ম-দুর্নীতি, কমিটি বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে বিভিন্ন সময়ে লিখিত আকারে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এসব লিখিত অভিযোগের কপি খবরের কাগজের হাতে রয়েছে।

চিঠি থেকে জানা যায়, পিরোজপুর জেলা তাঁতী দলের আহ্বায়ক মারা যাওয়ার পর দলের নেতাদের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা পরিবারের কাছে ইচ্ছাকৃতভাবে হস্তান্তর না করে নিজের কাছে রেখেছেন আহ্বায়ক আজাদ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর সমাবেশের ১ লাখ টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন। ১০ লাখ টাকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজি মজিবুর রহমানকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। এর আগে একই পদের জন্য টাইলস ব্যবসায়ী মতিন চৌধুরীর কাছ থেকে ১৪ লাখ টাকা, সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন সরদার ও যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার হেলাল উদ্দিনের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা করে নেন তাঁতী দলের আহ্বায়ক আজাদ। যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম মঞ্জুরের কাছে ৩ লাখ টাকা চান আজাদ। ২০১৭ সালে যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মনিরুজ্জামান মনির একটি সমিতি থেকে ৮ লাখ টাকা তুলে ধার দেন। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালে মূল টাকা ফেরত দিলেও সমিতির সুদ দেননি আজাদ। 

চিঠি থেকে আরও জানা যায়, ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ডামি কাউন্সিলের মাধ্যমে আহ্বায়ক মোস্তফা কামালের স্বাক্ষর ছাড়াই ঢাকা মহানগর উত্তরে কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ময়মনসিংহ জেলা কমিটির জন্য সাধারণ সম্পাদক শহীদ আনোয়ারুল ইসলাম উজ্জ্বলের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা নেন আজাদ। গাজীপুর কমিটির সাবেক সহ-তথ্য গবেষণা সম্পাদক আসাদুল আলম সরকারের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন এই শীর্ষ নেতা। 

অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাঁতী দল ছেড়ে গাজীপুর স্বেচ্ছাসেবক দলে যোগ দিয়েছেন আসাদুল আলম সরকার এবং ময়মনসিংহ মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক আনোয়ারুল ইসলাম উজ্জ্বল। তারা বলেন, তাঁতী দল ব্যবসায়ী সংগঠনে পরিণত হয়েছে। 

জানা গেছে, নীলফামারী, ফরিদপুর, রাজশাহী মহানগর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, সাতক্ষীরা, কিশোরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জসহ অনেক জেলায় দু-তিনবার আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হয়েছে। অর্থের বিনিময়ে কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়কের তালিকা ওলটপালট করে জুনিয়রদের সামনে আনা এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে পদ-পদবি ‘বিলিবণ্টন’ করা হয়েছে। ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলার আসামি মোশারফ হোসেন কাজলকে রাজশাহী মহানগরের সভাপতি করা হয়েছে। শীর্ষ নেতাদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে সংগঠন থেকে পদত্যাগ করেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ বাহার উদ্দিন বাহার, নীলফামারীর সদস্যসচিব এনামুল হকসহ বেশ কয়েকজন।

সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তফা কামাল খবরের কাগজকে বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিলেমিশে কাজ করার তাগিদ দিলেও তারা কোনো কিছুর তোয়াক্কা করেন না। টাকার বিনিময়ে কমিটি দিচ্ছেন, আবার পছন্দ না হলেই ভেঙে দিচ্ছেন। দুটি গ্রুপ সৃষ্টি করে সংগঠনকে সামনের দিকে এগোতে দিচ্ছেন না।’

যুগ্ম আহ্বায়ক জে এম আনিছুর রহমান বলেন, ‘প্রোগ্রামের কথা বলে তারা সারা দেশে চাঁদাবাজি করেন। প্রোগ্রাম সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা- সবই একা করেন। তার বিরুদ্ধে কথা বললেই বহিরাগত দিয়ে অনুষ্ঠানে হামলা চালানো হয়, পরে টার্গেট করে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তাই দুর্নীতিমুক্ত তাঁতী দল গড়ে তুলতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের জরুরি হস্তক্ষেপ দরকার।’

অভিযোগের বিষয়ে আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘অভিযোগ দিলেও তারা শক্ত কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। পদ-কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগও সর্ম্পূণ মিথ্যা। আমার টাকার প্রয়োজন নেই, নিজের টাকায় দল চালাই।’ তিনি বলেন, ‘কেউ তাঁতী দল করতে চায় না। সেখানে কেন পদ-পদবি কিনবে? প্রতিটি জেলায় সাংগঠনিক টিমের রিপোর্ট অনুযায়ী কমিটি দেওয়া হয়।’

সদস্যসচিব মজিবুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘কারও কাছ থেকে টাকা নেওয়ার দরকার নেই, নিজের টাকায় দল করি। কমিটি না থাকলেও ভালোবেসে দল করে যাব।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির তাঁতীবিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম খান বলেন, ‘বিভিন্ন অভিযোগ আছে, তবে শক্ত প্রমাণ নেই। তাই ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন। নেতৃত্বে প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু প্রতিহিংসা যেন না থাকে। যত দ্রুত সম্ভব কাউন্সিল করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে হবে।’

নেই গঠনতন্ত্র-কার্যালয়
১৯৮০ সালে তাঁতী দলের প্রতিষ্ঠা হলেও ৪৪ বছরে গঠনতন্ত্র তৈরি করতে পারেননি নেতারা। বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরিচালিত হয়ে আসছে তাঁতী দল। রাজধানীসহ সারা দেশে কোনো কার্যালয় নেই। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে সংগঠনের ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করে। কিন্তু সেখানে তাদের কোনো কক্ষও নেই।

‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা ব্যবস্থা নিলেও বিএনপিতে নজির নেই’

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৭:৩৮ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৭:৪০ পিএম
‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা ব্যবস্থা নিলেও বিএনপিতে নজির নেই’
আলোচনা সভায় কথা বলছেন জাহাঙ্গীর কবির নানক। ছবি : খবরের কাগজ

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, ‘যেই দুর্নীতি করুক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নজির সৃষ্টি করতে পারেনি।’

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আয়োজিত ‘ইতিহাসের গতিধারায় বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা’ শীর্ষক সংবাদচিত্র প্রদর্শন ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য বাস্তবায়নের যারা লক্ষ্য বিচ্যুত হয়ে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন- যেই দুর্নীতি করবেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শেখ হাসিনা কোনো আপস করবেন না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। দুর্নীতিকে না বলে এগিয়ে যেতে হবে। যিনি দুর্নীতি করেছেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন।’

নানক বলেন, ‘হাওয়া ভবনের তারেক রহমান হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন। লন্ডনে বসে রাজপ্রাসাদ থেকে দেশের টাকা লুটপাট করে উপভোগ করছেন। আর বিএনপি নেতা-কর্মীদের ভুলভ্রান্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।’ এ সময় তিনি তারেক রহমানকে তালাক দিয়ে বিএনপিকে রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানান। 

‘এ সরকার আমাদের প্রধান শত্রু’ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘ফখরুল সাহেবের ভেতরের কথা বের হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপির প্রধান শত্রু। কারণ এই সরকার জনগণের সরকার, এই সরকার অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের সরকার, এ সরকার দেশের উন্নয়নের সরকার, কারণ এই সরকার আপনাদের (বিএনপি) বন্ধু একাত্তরের মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছে।’

দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের শুধু ঢেঁকুর দিলে চলবে না। আমরা পঞ্চমবারের মতো সরকার গঠন করেছি। সতর্ক থাকতে হবে। বিএনপি-জামায়াত জনগণের সমর্থন না পেয়ে আন্দোলনে ব্যর্থ হয়েছে। এখন তারা নতুন করে ষড়যন্ত্রের পথ খুঁজছে।’ 

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, ‘ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো থেমে নেই। বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা পর্যন্ত- সেই পরাজিত শক্তি দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তাদের মোকাবিলা করতে গেলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’ 

ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ। এ সময় ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

হরিজনদের অধিকার নিয়ে অনেকে ব্যবসা ফেঁদে বসছেন: জি এম কাদের

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৫:৪৭ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৫:৪৭ পিএম
হরিজনদের অধিকার নিয়ে অনেকে ব্যবসা ফেঁদে বসছেন: জি এম কাদের
বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জি এম কাদের। ছবি : সংগৃহীত

সমাজের দলিত সম্প্রদায় বলে পরিচিত হরিজনদের অধিকার নিয়ে অনেকে ব্যবসা ফেঁদে বসছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) রাজধানীর বংশালের মিরনজিল্লার হরিজন কলোনি পরিদর্শনে যান জি এম কাদের। এসময় জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

জি এম কাদের বলেন, ‘আজ হরিজনদের পাশে থাকার লোক নেই, এদের দিয়ে ব্যবসা করা বা ভালো থাকার লোকের অভাব নেই। এটা দেশের জন্য ও সরকারের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। এই গরীব মানুষদের উচ্ছেদ করে বিল্ডিং করে ভাগবাটোয়ারা করলে তা হবে সবচেয়ে অন্যায় এবং লজ্জার। হরিজনদের উচ্ছেদ করা হবে সবচেয়ে বড় ডাকাতি। এটা যেকোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৩নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভূক্ত বংশালের মিরনজিল্লায় নতুন করে কাঁচাবাজার নির্মাণ করার উদ্যোগে গত ৩ জুন থেকে হরিজন কলোনিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে ডিএসসিসি। এতে ২ শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করছেন বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের নেতারা। সংখ্যালঘু অধিকার বিষয়ক সংগঠনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোও এখন এই ইস্যুতে সোচ্চার হয়েছে।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জি এম কাদের বৃহস্পতিবার দুপুরে এ এলাকায় এসে হরিজনদের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সংহতি জানান। এসময় তিনি বলেন, ‘সরকার এখন অনেক শক্তিশালী, তাদের সঙ্গে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে। তাদের পেশিশক্তি, অর্থশক্তি ও মাস্তানদের সামনে সাধারণ মানুষ অসহায়। সাধারণ মানুষ সংখ্যায় বেশি হলেও দানবীয় শক্তির কাছে পরাজিত হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

হরিজনদের উচ্ছেদের হুমকির সমালোচনায় জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই মানুষগুলোকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে কিসের উন্নয়ন? কিছু মানুষ হয়তো দোকান-পাট করে বা ইজারা নিয়ে লাভবান হবে। এই মানুষগুলো অত্যন্ত অসহায়। তারা দোকান দিতে পারে না, তাদের হাতে কিছু খেতে চায় না... অথচ তাদের সার্ভিস ছাড়া আমাদের জীবন অচল। মানবিক দৃষ্টি দিয়ে বিষয়টি দেখা উচিত।’

এসময় বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের সভাপতি কৃষ্ণলাল, পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি কৃষ্ণচরণ কুঞ্জমাল, হরিজন নেতা বায়জুলাল, জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্মল দাস, জাতীয় পার্টি নেতা সাধন কুমার মিশ্র, হুমায়ুন কবির কালা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

জয়ন্ত/এমএ/  

বাজেটের এক তৃতীয়াংশ সুদ দিতেই চলে যাবে: ফয়জুল করীম

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৫:৩৩ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৫:৩৩ পিএম
বাজেটের এক তৃতীয়াংশ সুদ দিতেই চলে যাবে: ফয়জুল করীম
মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই

বাজেটে রাজস্ব আয়ের প্রায় এক তৃতীয়াংশ ঋণের সুদ পরিশোধ করতেই চলে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই।

তিনি বলেন, ‘এবারের বাজেটের সবচেয়ে বড় ব্যয়ের খাত হচ্ছে ঋণের সুদ পরিশোধ। ঋণনির্ভর বাজেটের সর্বোচ্চ বরাদ্দ ঋণের সুদ প্রদানেই চলে যাবে। অর্থাৎ এ বছর আগের ১২ বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধ করতে হবে, যা মোট রাজস্ব আয়ের প্রায় এক তৃতীয়াংশ।’

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ফয়জুল করিম বলেন, ‘দেশ আজ ভয়াবহ সংকটে নিপতিত। ঋণ করে ঋণ পরিশোধ করার পরিকল্পনাকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের বড় দুর্বলতা। ঋণ করে মেগা প্রকল্প চালু এবং দফায় দফায় তার খরচ বাড়িয়ে দেশকে ঋণগ্রস্ত করে ফেলেছে সরকার।’

তিনি বলেন, ‘দেশ যে একটা বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের মুখে, তা প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে। এ সংকট আসলে এ বছর বা এক দিনে তৈরি হয়নি, বহুদিন থেকেই এ সংকট তৈরি হচ্ছে। সেই সংকট অস্বীকার করে যেভাবে অর্থনীতি চালানো হয়েছে, তার পরিণামে সংকট আরও গভীর হয়েছে।’

ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমীর বলেন, ‘অর্থনৈতিক সংকোচনের কথা বলে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণপত্র খোলায় যত বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে, তাতে অর্থনীতির গতি কমবে। আর সরকার যে হারে ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ করার পরিকল্পনা করেছে, তাতে বেসরকারি খাত, বিশেষ করে ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোক্তারা ঋণ পাবে না। সরকার বিদেশ থেকে ঋণ করে যেভাবে রিজার্ভ সংকট কাটানোর চেষ্টা করছে, তা নতুন ঋণের ফাঁদে ফেলে দেশকে আরও গভীর সংকটের দিকে নিয়ে যাবে।’

মুফতী ফয়জুল করীম বলেন, ‘১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালোটাকা সাদা করার বিধান রাখার কারণে দুর্নীতিবাজরা আরও উৎসাহিত হবে। এই শর্ত না থাকা প্রমাণ করে সরকার অবৈধ অর্থ উপার্জনকে উৎসাহিত করছে এবং তাদের বিশেষ সুযোগ দিচ্ছে। এভাবে দেশ আরও দুর্নীতিগ্রস্ত দেশে পরিণত হবে। যা জাতি হিসেবে আমাদেরকে ভাবিয়ে তুলেছে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক কেএম আতিকুর রহমান, প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম, দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, আলহাজ্ব আব্দুর রহমান, মুফতী মোস্তফা কামাল।

শফিকুল ইসলাম/অমিয়/

ঐক্যবদ্ধ লড়াই চালালে সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না: দুদু

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৩:৫৯ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৪:১৫ পিএম
ঐক্যবদ্ধ লড়াই চালালে সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না: দুদু
আলোচনা সভায় কথা বলছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। ছবি : খবরের কাগজ

ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই চালালে সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। 

তিনি বলেন, ‘দেশ আমাদের রক্ষা করতে হবে। গণতন্ত্র আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। লড়াইটা আমাদেরই করতে হবে। আমরা ১৫-১৬ বছর ধরে যে লড়াইটা করছি, ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াইটা চালিয়ে যেতে হবে। তা হলে আমার বিশ্বাস, আমি নিশ্চিত এ সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।’

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী জনতা দলের উদ্যোগে জিয়াউর রহমানের ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনাসভায় এ কথা বলেন দুদু।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘পৃথিবীতে কিছু কিছু মানুষ আসে পৃথিবীকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য, সমৃদ্ধ করার জন্য। তেমনি জিয়াউর রহমান এসেছিলেন। তাকে মহানায়ক, মহাপুরুষ বললে কম হবে। জিয়াউর রহমান নিরহংকার মানুষ ছিলেন। তিনি কখনো কারও বিরুদ্ধে কটূক্তি করেননি। আজ যারা শাসক আছে তারা যেভাবে তার বিরুদ্ধে সমালোচনা করে, যে ভাষায় সমালোচনা করে- এটা দুঃখজনক।’

তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান যখনই দেশের মাটিতে পা দেবেন, তখনই এ দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ শুধু দূরই হবে না; নিশ্চিহ্ন হবে। তিনি ফ্যাসিবাদকে কবরে পাঠানোর জন্য আসবেন। তিনি তৈরি হয়ে আছেন। যেকোনো মুহূর্তে আসতে পারেন।’

দুদু বলেন, ‘বেগম জিয়া আমাদের সম্মানিত করেছেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি শিক্ষার অগ্রদূত। তিনি কথা দিয়েছিলেন ক্ষমতায় এলে কৃষকদের পাঁচ হাজার টাকা সুদ, ঋণ মওকুফ করবেন। তিনি তা করেছিলেন। তিনি সারের দাম কমিয়ে ছিলেন। দেশকে রক্ষা করেছিলেন। আর বর্তমানে যারা ক্ষমতায় আছে তারা দেশের সর্বভৌমত্বকে রক্ষা করতে পারছেন না। ভাবা যায়, মায়ানমার আমাদের ওপর আক্রমণ করে।’

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘এ সরকার আর বেশিদিন ক্ষমতায় নেই। সরকার নিজেই তার কার্যক্রমে প্রমাণ করেছে। তিনি (শেখ হাসিনা) ভারতে গিয়েছিলেন। তিস্তার পানি আনতে পারতেন, সীমান্তে হত্যার কথা বলতে পারতেন। কিন্তু তিনি বলেননি। তিনি ভুলে গেছেন। তিনি আসলে ভ্রমণ করতে গিয়েছিলেন।’

জনতা দলের সভাপতি রায়হানুল ইসলাম রাজুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক রহমান, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

শফিকুল ইসলাম/সালমান/অমিয়/

বেনজীর-আজিজের মতো আরও দুর্নীতিবাজ রয়েছে: ফারুক

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০২:৩৮ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৫:৩৮ পিএম
বেনজীর-আজিজের মতো আরও দুর্নীতিবাজ রয়েছে: ফারুক
মানববন্ধনে বক্তব্য দিচ্ছেন জয়নুল আবদিন ফারুক। ছবি: খবরের কাগজ

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের মতো দেশে আরও দুর্নীতিবাজ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক। 

তিনি বলেন, আজিজ-বেনজীরের মতো যেসব দুর্নীতিবাজ আছে, কেন তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে না তা জনগণ জানতে চায়।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গণতন্ত্র ফোরামের উদ্যোগে দুর্নীতিবাজ আজিজ আহমেদ ও বেনজীর আহমেদসহ ক্ষমতাসীন দলের দুর্নীতিবাজদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। 

পুলিশের সাবেক প্রধান বেনজীর আহমেদের দেশত্যাগ সরকারের সহযোগিতায় মন্তব্য করে ফারুক বলেন, ‘বেনজীর চোরের রাজা, দুর্নীতির রাজা কী করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পার হন। যদি সরকার গণতান্ত্রিক হতো, যদি সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতো, যদি সরকার বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনের সরকার হতো তাহলে বেনজীরকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পার হতে সরকার সহযোগিতা করত না। সেজন্য জনগণ বলা শুরু করেছে; এই সরকার চোরের রাজা, এই সরকার দুর্নীতির রাজা। এই সরকার জনগণের সরকার না।’

তিনি বলেন, ‘আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিনা কারণে মিথ্যা মামলায় জেলে বন্দি করে রাখা হয়, যেই কারণে আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিতে পারে সেই সরকার এ দেশের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। এই সরকারের প্রতি জনগণের কোনো সমর্থন নেই। তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই। তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে জোর করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। কোনো কলাকৌশলে কাজ হবে না, অবিলম্বে হলেও আপনাদের জনগণ বিতাড়িত করবে, আপনারা পদত্যাগ করতে বাধ্য হবেন।’ 

গণতন্ত্র ফোরামের সভাপতি ভিপি ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির সাংগঠনকি সম্পাদক আবদুস সালাম, শিশুবিষয়ক সম্পাদক আবদুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা শাহ নেসারুল হক, তাঁতী দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মনিরুজ্জামান মনির, উলামা দলের মাওলানা আলমগীর হোসেন, কৃষক দলের জাহাঙ্গীর হোসেন, কাদের সিদ্দিকী, মৎস্যজীবী দলের ইসমাইল হোসেন সিরাজী, সাবেক ছাত্র নেতা আজমল হোসেন পাইলট প্রমুখ। 

শফিকুল ইসলাম/ইসরাত চৈতী/অমিয়/