ঢাকা ১ আষাঢ় ১৪৩১, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪

ঋণনির্ভর বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব নয়: জামায়াত

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৪, ০৮:৩৬ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৪, ০৮:৩৬ পিএম
ঋণনির্ভর বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব নয়: জামায়াত
ছবি : সংগৃহীত

বিশাল ঋণ নির্ভর বাজেট বাস্তবায়ন করা সরকারের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বাজেটে মূল্যস্ফীতি, কর-জিডিপির অনুপাত এবং জিডিপির অনুপাতে বাজেট ঘাটতির যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, সেটি অর্জন করা কঠিন হবে। 

সোমবার (১০ জুন) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে প্রস্তাবিত বাজেটের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এসব কথা বলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। 

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বাজেটে সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিদিনের জীবন-যাপনে অপরিহার্য নানা পণ্যের সেবার ওপর বাড়তি কর চাপানো হয়েছে। মুঠোফোনে কথা বলার ওপর অতিরিক্ত কর বসানো হয়েছে। পানিশোধন যন্ত্র, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র বা এসি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি দ্রব্যের ওপর শুল্ক কর বাড়ানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের কষ্ট ও দুর্ভোগ বাড়াবে। 

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা নেই। আছে কিছু বাস্তবতা বর্জিত উচ্চাকাঙ্খী লক্ষ্যমাত্রা। বাজেটে ১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নৈতিক ও অর্থনৈতিক কোনো দিক থেকেই গ্রহণযোগ্য নয়। অর্থমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ সামাজিক ন্যায্যতার দিক থেকে বৈষম্যমূলক। বাজেটে সর্বোচ্চ কর হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ শতাংশ। কিন্তু ১৫ শতাংশ কর দিয়েই কালো টাকা বৈধ করা যাবে, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে কর ফাঁকিবাজদের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। পক্ষান্তরে নিয়মিত ও সৎ করদাতাদের তিরষ্কৃত করা হয়েছে। সরকারের রাজস্ব নীতি ব্যক্তি ও গোষ্ঠীনির্ভর হয়ে পড়েছে। বাজেটে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণের কোনো কৌশল রাখা হয়নি। প্রস্তাবিত বাজেটে ঋণ খেলাপি ও হুন্ডির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার কোনো কথা বলা হয়নি।

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষাখাতে মোট বরাদ্দ বেশি দেখিয়ে অনেকটা শুভঙ্করের ফাঁকির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। কৃষির উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও কৃষকদের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে উল্লেখযোগ্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনে কোনো দিকনির্দেশনা রাখা হয়নি। প্রস্তাবিত বাজেটে বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের বিকাশে কোনো সহায়তার কথা উল্লেখ নেই। বরং পুরুষ ও বাচ্চাদের আমদানি করা পোশাকের শুল্ক কমানো হয়েছে। এতে দেশীয় শিল্পখাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ২০০টিরও বেশি চিকিৎসা যন্ত্র ও সরঞ্জাম আমদানির ক্ষেত্রে ১ শতাংশের শুল্ক বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করায় চিকিৎসা সেবার মূল্য অনেক বেড়ে যেতে পারে। জনগণ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হবে। এবারের বাজেটে বেকারদের জন্য কোনো পদক্ষেপ নেই। 

তিনি বলেন, মেগা প্রকল্পের ঋণ ও সুদ পরিশোধের দায়-এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ আরও বাড়বে। ডলারের সরবরাহ আরও কমে যেতে পারে। প্রয়োজনীয় ডলারের অভাবে বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ যেমন বাধাগ্রস্ত হবে, তেমনি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের সংকট আরও তীব্র হবে। মূলত দেশকে ঋণমুক্ত করার বিষয়ে বাজেটে কোনো কার্যকর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ নেই। প্রকৃতপক্ষে অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবিত বাজেট জনগণের ওপর বাড়তি কর আরোপের একটি বাজেট মাত্র। এই বাজেট দেশ ও দেশের জনগণের জন্য কোনো কল্যাণ বয়ে আনবে না। 

জামায়াতের শীর্ষ নেতা বলেন,সরকার ও সরকারের মদদপুষ্টদের আখের গোছানোর জন্যই এই বাজেট পেশ করা হয়েছে। এই সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেশকে একটি ঋণনির্ভর দেশে পরিণত করবে। 
সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ-এর সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর জনাব নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মো. সেলিম উদ্দিন প্রমুখ। 

সবুজ/এমএ/

গাজীপুরে ফজিলাতুন্নেছা হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রীর রুটিন চেকআপ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৪, ০৯:৫৮ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৪, ০৯:৫৮ পিএম
গাজীপুরে ফজিলাতুন্নেছা হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রীর রুটিন চেকআপ
ছবি : বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার (১৪ জুন) গাজীপুরের কাশিমপুরের তেতুইবাড়িতে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন এবং সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব মো. নাঈমুল ইসলাম খান শুক্রবার সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার সকালে হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন এবং সেখানে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছেন।

হাসপাতালে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. দীন মোহাম্মদ নূরুল হক।

প্রধানমন্ত্রী রেজিস্ট্রেশনের জন্য নিজে হাসপাতালের কাউন্টারে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন ও চেকআপ ফি পরিশোধ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দেশের প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর তত্ত্বাবধানে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। অধ্যাপক আবদুল্লাহ এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও নার্সদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি রোগীদের সঠিকভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন।

সড়কে গাড়ির চাপ থাকলেও যানজট নেই : ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৪, ০৪:২১ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৪, ০৪:২১ পিএম
সড়কে গাড়ির চাপ থাকলেও যানজট নেই : ওবায়দুল কাদের
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন ওবায়দুল কাদের। ছবি : খবরের কাগজ

ঈদযাত্রায় সড়কে গাড়ির চাপ থাকলেও যানজট নেই বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শুক্রবার (১৪ জুন) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন। 

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘রাস্তার কারণে যানজট হবে এমন পরিস্থিতি নেই। দেশে সর্বকালের সবচেয়ে ভালো সড়ক এখন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সরকারের আমলে হয়েছে। পশুর গাড়ি ও হাটের কারণে কিছু যানজট হয়। পশুবাহী গাড়ি ও হাট যত্রতত্র বসিয়ে যেন জনদুর্ভোগ না বাড়ানো হয় সে ব্যাপারে যারা দায়িত্বে রয়েছে তারা যথাযথভাবে সেই দায়িত্ব পালন করবেন। বৃষ্টি হলে দুর্ভোগ এড়ানো কঠিন। দায়িত্ব পালনে মনোযোগ দিতে হবে ও অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানি না ঘটে সেজন্য মনিটরিং বাড়াতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের দেশে দেশে মূল্যস্ফীতি। দেশেও উদ্বেগের কারণ এই মূল্যস্ফীতি। সরকার কোনো কিছু চাপা দিয়ে সত্যকে আড়াল করে কিছুই করেনি। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে এক সময় ইউরোপেও উদ্বেগ ছিল। প্রায় ১০ শতাংশ ছিল মুদ্রাস্ফীতি। আর্জেন্টিনার মতো দেশে মুদ্রাস্ফীতি ৩০০ শতাংশ। বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাবশালী দেশ তুরস্কে ৭৩ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি। শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানসহ আশপাশের দেশেও মুদ্রাস্ফীতির অবস্থা ভালো নয়।’

এ সময় বিএনপির দুর্নীতি প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দুর্নীতিবাজরাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে আজকে কথা বলে। বিএনপি টপ টু বটম দুর্নীতিবাজ। দুর্নীতির বরপুত্র দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাকে ভালো মানুষ সাজাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম একটি বিবৃতি দিয়েছেন। মির্জা ফখরুল তার হুমকিতে অনেক কিছুই করেন। এখন বলছে তাকে সাজা দেওয়া যাবে না।’ 

এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের রিমান্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মামলা হওয়ার আগে, শাস্তি ঘোষণার আগে কাউকে অপরাধী বলা ঠিক নয়- এটাই নিয়ম। জেলা সেক্রেটারি রিমান্ডে এমন উদাহরণ কি বিএনপি এবং জেনারেল এরশাদের আমলে আছে? আওয়ামী লীগের বিচার করার সৎ সাহস আছে।’

‘বর্তমান সরকার বিএনপির শত্রু’-মির্জা ফখরুলের এমন মন্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এদেশে বিএনপির বন্ধু হতে পারে সেই সরকার যে সরকার নির্বাচনে বিএনপিকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজয়ের নিশ্চয়তা দেবে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, আফজাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দি, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, শিক্ষা ও মানব সম্পদ সম্পাদক শামসুন্নাহার চাপা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপদপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট সায়েম খানসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

রাজু/সাদিয়া নাহার/

ঘোষণার অপেক্ষায় যুবদলের নতুন কমিটি

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৪, ০৩:১৬ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৪, ০৯:০৬ পিএম
ঘোষণার অপেক্ষায় যুবদলের নতুন কমিটি

ঘোষণার অপেক্ষায় আছে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি। শুক্রবার (১৪ জুন) যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। 

এ ছাড়াও শিগগিরই ঢাকা মহানগরসহ অন্যান্য মহানগরীর কমিটিও ঘোষণা করা হবে। বিএনপির দায়িত্বশীল এক সূত্র এমনটা জানিয়েছে।

জানা যায়, নতুন কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্না, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুন হাসান, সহ-সভাপতি নূরুল ইসলাম নয়ন, যুগ্ম সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহিন, সাবেক সদস্য (যুগ্ম সম্পাদক মর্যাদা) সাঈদ ইকবাল টিটু। তবে মুন্না ও নয়নকে দিয়ে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

অন্যদিকে যুবদলের সদ্য সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন- দক্ষিণের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব, সাবেক সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম মজনু এবং ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন।

অপরদিকে, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির শীর্ষ দুই পদে আলোচনায় রয়েছে- বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক সদস্য সচিব আমিনুল হক, বিএনপি নেতা তাবিথ আউয়াল ও যুবদলের সাবেক সহসভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর।

২০২২ সালের ২২ মে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সভাপতি ও মোনায়েম মুন্নাকে সাধারণ সম্পাদক করে ৮ সদস্যের আংশিক কমিটি দিয়েছিল বিএনপি। ৯ মাস পর ২০২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জাতীয়তাবাদী যুবদলের ২৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হয়।

বিএনপির চারটি মহানগর ও যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

এ ছাড়া ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম শাখার কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ছাত্রদলের পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর ও বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে। উল্লিখিত বিলুপ্ত কমিটিগুলোর নতুন কমিটি পরে ঘোষণা করা হবে।

২০২১ সালের ২ আগস্ট আবদুস সালামকে আহ্বায়ক ও রফিকুল আলম মজনুকে সদস্য সচিব করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার ৪৯ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। অন্যদিকে ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমানকে আহ্বায়ক ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হককে সদস্য সচিব করে ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার ৪৭ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

এদিকে ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এখন বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঢাকা মহানগর উত্তর, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, ঢাকা মহানগর পূর্ব ও ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো। শিগগির উক্ত ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির আজ এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

শফিকুল ইসলাম/ইসরাত চৈতী/

ঢাকাসহ ৩ মহানগর বিএনপি ও যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৪, ০১:১৩ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৪, ০১:১৩ এএম
ঢাকাসহ ৩ মহানগর বিএনপি ও যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত
ছবি : খবরের কাগজ গ্রাফিকস

ঢাকা মহানগর, চট্টগ্রাম মহানগর ও বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি এবং জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা করেছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) মধ্যরাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর ও বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে।

এতে আরও জানানো হয়, সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্নার নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে। উল্লিখিত বিলুপ্তকৃত কমিটিসমূহের নতুন কমিটি পরবর্তী সময়ে ঘোষণা করা হবে।

দলীয় সূত্রমতে, দল পুনর্গঠন-প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তিন মহানগর ও যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। মূলত এক দফার চূড়ান্ত আন্দোলনে মহানগর বিএনপি ও যুবদলের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই নতুন কমিটি দেওয়া হবে।

অপরদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম শাখা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক শিগগিরই ওই ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির গতকাল এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

প্রসঙ্গ, ২০২১ সালের ২ আগস্ট আবদুস সালামকে আহ্বায়ক ও রফিকুল আলম মজনুকে সদস্যসচিব করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার ৪৯ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্যদিকে আমান উল্লাহ আমানকে আহ্বায়ক ও আমিনুল হককে সদস্যসচিব করে ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার ৪৭ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ২০২২ সালের ২২ মে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সভাপতি ও মোনায়েম মুন্নাকে সাধারণ সম্পাদক করে ৮ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে বিএনপি। ৯ মাস পর ২০২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জাতীয়তাবাদী যুবদলের ২৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হয়েছে।

সবুজ/শফিক/এমএ/

 

এবি পার্টিতে নবাগতদের সংবর্ধনা সরকার দেশকে দেউলিয়া করতে বেপরোয়া: এবি পার্টি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ১০:৫১ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ১০:৫৫ পিএম
সরকার দেশকে দেউলিয়া করতে বেপরোয়া: এবি পার্টি
ছবি : সংগৃহীত

দেশকে দেউলিয়া করতে আওয়ামী সরকার বেপরোয়া লুটপাটনীতি চালাচ্ছে এবং তা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি-এবি পার্টি। এবি পার্টিতে যোগ দেওয়া কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তার সম্মানে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ অভিযোগ করেন দলের আহ্বায়ক এএফএম সোলায়মান চৌধুরী। 

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যা ৭টায় বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। 

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা লে.কর্ণেল (অব.) দিদারুল আলম, লে. কর্ণেল (অব.) হেলাল উদ্দিন ও অবসরপ্রাপ্ত যুগ্মসচিব এম এম সুলতান মাহমুদ সম্প্রতি এবি পার্টিতে যোগদান করেন। আজ তাদের যোগদানোত্তর সংবর্ধনার আয়োজন করে দলটি। 

দলের আহ্বায়ক এএফএম সোলায়মান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু'র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় নবাগতদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রফেসর ডা. মেজর অব. আব্দুল ওহাব মিনার, সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, জননেতা বিএম নাজমুল হক ও যুগ্ম সদস্যসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। এসময় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ যোগদানকৃতদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।

যোগদানকারিদের স্বাগত জানিয়ে পার্টির আহ্বায়ক সোলায়মান চৌধুরী বলেন, সরকারের দুর্নীতি ও দু:শাসনের কারণে দেশের সকল প্রতিষ্ঠান আজ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের বিরাট একটা অংশ এই অনৈতিক কর্মযজ্ঞে জড়িয়ে পড়েছে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে যারা সৎ, নিষ্ঠাবান ও দেশপ্রেমিক তারা বঞ্চিত, অবহেলিত ও অপমানিত হয়ে নিরুৎসাহ বোধ করছেন। 

দেশের ভবিষ্যৎ ক্রমশ: গভীর অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশকে দেউলিয়া করতে আওয়ামী সরকার বেপরোয়া লুটপাটনীতি চালাচ্ছে এবং তা অব্যাহত রাখার জন্য আরও নির্লজ্জ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। 

সাবেক সেনা ও প্রশাসন কর্মকর্তাদের এবি পার্টিতে যোগদানের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন সততা ও অভিজ্ঞতার গতিশীলতা দিয়ে রাজনীতি পুণর্গঠন করতে পারলে দেশকে নতুন করে মেরামত করা সম্ভব। নবাগতরা সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মেজর (অব.) মিনার বলেন, ডামি প্রহসনমূলক সংসদ নির্বাচনের পর উপজেলা নির্বাচনও জনগণ প্রত্যাখ্যান করে এই সরকারকে চুড়ান্ত বার্তা জানিয়ে দিয়েছে। কোন বিবেকবান নাগরিক এই সরকারকে নৈতিকভাবে সমর্থন জানাতে পারে না। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা হচ্ছেন দেশ ও বিদেশে প্রশিক্ষিত শারীরিক ও মানসিকভাবে সর্বাধিক সক্ষম নেতা যারা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই জাতিকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন। অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কাছ থেকে দেশ আজ এই ক্রান্তিলগ্নে অনেক কিছু প্রত্যাশা করে। তিনি নবাগত নেতৃবৃন্দকে দলে স্বাগত জানান। 

অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, নতুন দল তৈরি করতে গিয়ে নানা মানুষের নানা কথা আমরা শুনেছি। বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার হাতছানি থাকার পরও যারা এবি পার্টির এই কঠিন সংগ্রামে অংশ নেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটা আমাদের জন্য বিরাট আশার ব্যাপার। আমরা তাদের স্বাগত জানাই। আশাকরি নবাগত ভাইয়েরা আমাদের সংগ্রামকে বিজয়ের লক্ষ্য পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ। 

দলে নবাগত সাবেক সেনা কর্মকর্তা লে.কর্ণেল (অব.) দিদারুল আলম, লে. কর্ণেল (অব.) হেলাল উদ্দিন ও সরকারের অবসরপ্রাপ্ত যুগ্মসচিব এম.এম সুলতান মাহমুদ সংবর্ধনার জবাবে এবি পার্টি নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তারা দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের মহান অঙ্গীকার সমুন্নত করার লক্ষ্যে নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগ্রামের উপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশকে একটি সুখী সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে দেশপ্রেমিক সাহসী জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য তারা দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। 

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভুইয়া, দফতর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, প্রচার সম্পাদক আনোয়ার সাদাত টুটুল, সিনিয়র সহকারী সদস্যসচিব এবিএম খালিদ হাসান, অর্থ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম এফসিএ, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আলতাফ হোসাইন, সহকারী সদস্যসচিব শাহ আব্দুর রহমান, এম আমজাদ খান, মাসুদ জমাদ্দার রানা, যুবপার্টির আহ্বায়ক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী নাসির, উত্তরের সদস্যসচিব সেলিম খানসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি