জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা এবং নির্বাচনকে টাকা-পেশিশক্তিমুক্ত করার দাবি নিয়ে শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির ত্রয়োদশ কংগ্রেস।
শুক্রবার বেলা ৩টায় রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন-বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে এই কংগ্রেস শুরু হবে। জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের কার্যক্রম শুরু হবে।
বেলা ৩টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে সারা দেশ থেকে আগত প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষকদের নিয়ে কংগ্রেসের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। শুরুতেই ত্রয়োদশ কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটির সাংস্কৃতিক উপ-পরিষদ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করবে। জাতীয় পতাকা ও কাস্তে-হাতুড়ি খচিত পার্টির লাল পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কংগ্রেসের উদ্বোধন ঘোষিত হবে। পার্টির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স যথাক্রমে জাতীয় পতাকা ও পার্টির পতাকা উত্তোলন করবেন।
উদ্বোধনী সমাবেশের পর সন্ধ্যা ৬টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে প্রথম দিনের সাংগঠনিক অধিবেশন শুরু হবে। তবে শনিবার সাংগঠনিক অধিবেশন চলবে তোপখানা রোডের বিএমএ মিলনায়তনে। এ অধিবেশন চলবে ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা পর্যন্ত। কংগ্রেসের শেষ অধিবেশনে আগামী ৪ বছরের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটি ও কন্ট্রোল কমিশন নির্বাচন করা হবে।
সিপিবি জানিয়েছে, কংগ্রেসে গত চার বছরে সিপিবির দলীয় কর্মকাণ্ডের ওপর কেন্দ্রীয় কমিটির রিপোর্ট উত্থাপন করা হবে। পাশাপাশি পার্টির রণকৌশলগত দলিল অর্থাৎ কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক প্রণীত খসড়া ‘রাজনৈতিক প্রস্তাব’ নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।
গঠনতন্ত্র অনুসারে কংগ্রেসের তিন মাস আগে কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে মতামত প্রদানের জন্য খসড়া ‘রাজনৈতিক প্রস্তাব’ পার্টির অভ্যন্তরে বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি শাখা সম্মেলন, উপজেলা/থানা কমিটি সম্মেলন, জেলা কমিটি সম্মেলনে খসড়া ‘রাজনৈতিক প্রস্তাব’ আলোচনা করা হয়।
এ বিষয়ে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘কমিউনিস্ট পার্টির রণনীতি বা রণকৌশল হচ্ছে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে গেলে দেশের আর্থসামাজিক পরিস্থিতি, দেশের শিল্প খাতের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। আমাদের মূল লক্ষ্য সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। সে লক্ষ্যে আমরা একটা সমাজ বিপ্লব রচনা করতে চাই।’
‘রাজনৈতিক প্রস্তাবনায়’ চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেছেন সিপিবি নেতারা। প্রিন্স বলেন, ‘গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে; এটা হচ্ছে প্রধান বিষয়। একটা বাম গণতান্ত্রিক সরকার গড়ে শোষণ বৈষম্য উচ্ছেদ করতে হবে। এ লক্ষ্যে শুধু কমিউনিস্ট পার্টি একা না, বাম জোটকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল শক্তিকেও একসঙ্গে নিয়ে একটা বৃহত্তর বলয় তৈরি করতে হবে। এ বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা হবে কংগ্রেসে।’
গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার লক্ষ্যে প্রকৃতপক্ষে বাম গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া বিকল্প নেই বলেই মনে করেন সিপিবি নেতারা। সে লক্ষ্যে বাম নেতাদের করণীয় কী হবে তা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হবে এই কংগ্রেসে।
দেশে ‘সাম্প্রদায়িক শক্তির’ বিস্তার ঘটেছে উল্লেখ করে সিপিবি নেতা প্রিন্স বলেন, ‘সাম্রাজ্যবাদী, আধিপত্যবাদী শক্তি আমাদের নানাভাবে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। এ ব্যাপারে কী করণীয় তা কংগ্রেস নির্ধারণ করবে।’
সিপিবি কংগ্রেসে দলের গঠনতন্ত্রের সংশোধনী, অডিট কমিটির রিপোর্ট, কন্ট্রোল কমিশনের রিপোর্ট, ক্রেডেনশিয়াল কমিটির রিপোর্ট উত্থাপন করা হবে। দলের নেতা-কর্মীদের মতামত নিয়ে তা অনুমোদিত হবে।
জয়ন্ত/রিফাত/