নির্বাচনের আগে জুলাইযোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের প্রয়াত মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবি জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। এদিকে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে শহিদী শপথ কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে তাদের।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এ কর্মসূচি ঘোষণা করে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।
তিনি বলেন, ‘এক মাসের মধ্যে হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে আর নির্বাচন- নির্বাচনের সময় হবে। হাদিকে হত্যার মধ্য দিয়ে নির্বাচন পেছানোর একটি ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। ভাইকে গুলি করার ১১ দিন হলো অথচ এখন পর্যন্ত কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। যদি হাদি ভাইকে হত্যার বিচার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে না করা হয়, এরপর বাংলাদেশে যদি কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়- এর দায় সরকারকে নিতে হবে। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে আগামীকাল শহিদী শপথ ঘোষণা করছি। বিকেল ৩টায় শহিদ হাদি চত্বরে সবাই সমবেত হব এবং হাদি ভাইকে সামনে রেখে দেশের জনগণ শহিদী শপথ কর্মসূচি পালন করবে।’
এর আগে ইনকিলাব মঞ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, ‘এক মাসের মধ্যে হাদি হত্যার বিচার করতে হবে, অবশ্যই সেটি নির্বাচনের আগে। এখন থেকে আমাদের লাগাতার কর্মসূচি থাকবে। এই হত্যাকাণ্ডের পুরো সিন্ডিকেটকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। আমরা আমার ভাইয়ের বিচার নিশ্চিত হওয়ার পরই রাজপথ ছাড়ব।’
এতে অন্যান্যের মধ্যে অভিনেতা ও মডেল আসাদুজ্জামান আসাদ, হাদির বড় ভাই ওমর হাদি বক্তব্য রাখেন। এর আগে বেলা ৩টা ২০ মিনিটে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা শাহবাগ থেকে শহিদ মিনারের উদ্দেশ্য বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় বিক্ষুব্ধরা বিচারের দাবিতে ‘জ্বালো রে, জ্বালো রে, আগুন জ্বালো’, ‘দিল্লির দালারেরা, আওয়ামী লীগের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘আমরা সবাই হাদি হবো, সুখে-দুখে কথা কবো’, ‘আমরা ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘দিল্লি না ঢাকা-ঢাকা, ঢাকা’সহ নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
বিক্ষোভের আগে দুপুরে ইনকিলাব মঞ্চের আয়োজনে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের আগে বিচারের দাবি জানিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের জন্য একটি দ্রুত বিচারিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক পেশাদার তদন্ত সংস্থার সহায়তা নিতে হবে। আমরা কোনো তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধ চাই না, আমরা চাই প্রকাশ্য বিচার।’
সংবাদ সম্মেলনে হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ৩ দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো- দ্রুত বিচারিক ট্রাইবুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করতে হবে। তদন্তের জন্য এফবিআই অথবা স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের মতো পেশাদারি এবং নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা সংস্থাকে যুক্ত করতে হবে; সিভিল-মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের মধ্যে ঘাপটি মেরে বসে থাকা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি করতে হবে এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী এবং আইন উপদেষ্টাকে জনগণের কাছে তাদের অপারগতার কারণ প্রকাশ করে এই খুনের সব দায় নিয়ে পদত্যাগ।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে শরিফ ওসমান হাদিকে শহিদ ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ, খুনিকে গ্রেপ্তারের দাবি ও প্রশাসনের কার্যক্রমসহ ৬ দাবি জানিয়েছে মঞ্চ ২৪।
তাদের দাবিগুলো হলো- শরিফ ওসমান বিন হাদিকে ‘শহিদ’ ঘোষণা করে গ্যাজেট প্রকাশ; অপরাধ ও আইন বিশেষজ্ঞ, সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা, সাবেক বিচারপতি, ইনকিলাব মঞ্চের একজন প্রতিনিধি, একজন মানবাধিকার কর্মী, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও বিদেশি দুজন বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে গণতদন্ত কমিশন গঠন; কথিত অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা; যে পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেল এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন ছাপিয়েছে, সে সব গণমাধ্যমের প্রতিবেদক ও বার্তা সম্পাদকদের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা; দেশের সব গোয়েন্দা সংস্থা প্রধানদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে এবং প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের পাঠ্যপুস্তকে শহিদ ওসমান বিন হাদির ভারতীয় আধিপত্যবাদের লড়াইকে অন্তর্ভুক্ত করা।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান হাদিকে মোটরসাইকেলআরোহী দুর্বৃত্তরা গুলি করে। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। তিনদিনের মাথায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান হাদি।
আরিফ/মেহেদী/