ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। একই আসনে একাধিক প্রভাবশালী বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে থাকায় বেকায়দায় পড়েছে দলটি। এর ফলে তৃণমূলে তৈরি হয়েছে ভিন্ন হিসাব-নিকাশ, যা ভোটের সমীকরণকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
পুঠিয়া ও দুর্গাপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন পুঠিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বিএনপির দুই সাবেক নেতা— যুক্তরাজ্য জিয়া পরিষদের সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার রেজাউল করিম এবং পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও শিল্পপতি ইসফা খায়রুল হক শিমুল।
নির্বাচনি মাঠে ব্যারিস্টার রেজাউল করিম ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে এবং ইসফা খায়রুল হক শিমুল ‘ঘোড়া’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে দুজনই পরিচিত মুখ ও প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে গণ্য। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাদের বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হলেও ভোটের মাঠ ছাড়ার কোনো ইঙ্গিত নেই। বরং নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রচার জোরদার করেছেন তারা।
ব্যারিস্টার রেজাউল করিম বলেন, ‘জনগণ ও নেতা-কর্মীদের চাপেই তিনি নির্বাচনে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। তার দাবি, এলাকায় ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন এবং মানুষের প্রত্যাশা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছেন।’ বহিষ্কারের আদেশ তার নির্বাচনি প্রচারে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘মাঠে এখনো ধানের শীষের তেমন প্রভাব চোখে পড়ছে না।’
অন্যদিকে ইসফা খায়রুল হক শিমুল জানান, গত ১৭ বছর তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। সেই সময় অনেক নেতা-কর্মী মামলা-মোকদ্দমার কারণে ঘর থেকে বের হতে না পারলেও তিনি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সেই মানুষগুলোর অনুরোধেই তিনি নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছেন না। তিনি দাবি করেন, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেই থাকবেন এবং জনগণের আহ্বানে সাড়া দিয়েই মাঠে আছেন।
তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপস্থিতি ধানের শীষের ভোটে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে দাবি করেছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বিএনপির বিদ্রোহী বলে কিছু নেই। দল একজনকেই মনোনয়ন দিয়েছে। যারা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গেছেন, তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। ফলে তিনিই বিএনপির একমাত্র প্রার্থী এবং ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে ভোটারদের মধ্যে শোনা যাচ্ছে ভিন্ন সুর। অনেক ভোটারের মতে, দলীয় প্রতীকের চেয়ে এবার ব্যক্তির ভূমিকা ও সংকটে পাশে থাকার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। অতীতে যারা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে পাশে ছিলেন না, তাদের আর দেখতে চান না বলেও মন্তব্য করেন তারা।
বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীকে নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দলের সংকটময় সময়ে তিনি নেতা-কর্মীদের খোঁজখবর রাখেননি। ফলে তৃণমূলে প্রত্যাশিত সমর্থন তিনি পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপস্থিতি ধানের শীষের ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।