নীলফামারীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হেফাজতে থাকা জামায়াত নেতা বেলাল উদ্দিন প্রধানের কাছ থেকে জব্দ করা ৭৪ লাখ টাকার মালিকানা কেউ দাবি করছেন না। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ না থাকায় পুলিশ গতকাল শনিবার (২৮ মার্চ) পর্যন্ত কোনো মামলা করেনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক দিন আগে, ১১ ফেব্রুয়ারি সৈয়দপুর এয়ারপোর্টে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় জেলা জামায়াতের আমির ও কলেজশিক্ষক বেলাল উদ্দিন প্রধানের দুটি ব্যাগে ৭৪ লাখ টাকা পাওয়া যায়। বেলাল উদ্দিন তল্লাশির সময় জানান, জব্দ করা টাকার মধ্যে মাত্র ৫০ লাখের কিছু বেশি তার। তবে শেষ তিন সপ্তাহে তিনি বা তার প্রতিনিধি আদালতে টাকা ফেরত চাওয়ার কোনো আবেদন করেননি।
সৈয়দপুর থানার সাধারণ ডায়েরি অনুযায়ী, পুরো টাকার মালিক বেলাল উদ্দিনই। তল্লাশির সময় তিনি নিজেকে গার্মেন্ট ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বলেন, ‘ব্যাগে আমার টাকা আছে ৫০ লাখের কিছু বেশি।’ কিন্তু গণনা করলে পাওয়া যায় ৭৪ লাখ টাকা। ভোটের আগে এ বিপুল অঙ্কের টাকা কেন এবং কোথায় নেওয়া হচ্ছিল, তা তিনি সন্তোষজনকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেননি।
টাকা জব্দের পর জামায়াত নেতা অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে সৈয়দপুরে চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সুস্থ হওয়ার পর রাত ১২টার দিকে তাকে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া ৭৪ লাখ টাকা, দুটি মোবাইল ফোন ও প্রয়োজনে পোশাক ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে আদালতে জমা রাখা হয়েছে। কোনো অভিযোগকারী না থাকায় কোনো মামলা হয়নি। তবে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত কেউ আদালতে কোনো আবেদন করেননি। জব্দ করা টাকার বৈধ কাগজপত্রও কেউ জমা দেননি। তবে বেলাল উদ্দিন প্রথমবার জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছিলেন, ৫০ লাখের বেশি টাকার মালিক তিনি। বাকি টাকার মালিক কে, তা পুলিশের কাছে অজানা।
এয়ারপোর্টে উপস্থিত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, বেলাল উদ্দিনের দুটি ব্যাগে ১৯ লাখ ও ৫৫ লাখ টাকা ছিল। ১৯ লাখ টাকার মালিক ছিলেন তার সহযাত্রী আব্দুল মান্নান।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের এক দিন আগে নিরাপত্তা তল্লাশি কঠোর ছিল। নিয়মিত তল্লাশির অংশ হিসেবে যাত্রীদের দেহ ও লাগেজ পরীক্ষা করা হচ্ছিল। বেলাল উদ্দিন প্রধানের দুটি ব্যাগে অস্বাভাবিক পরিমাণ অর্থ পাওয়ায় নিরাপত্তা কর্মীরা সন্দেহ করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রথমে স্বীকার করেন ৫০ লাখ টাকার বেশি তার কাছে আছে। টাকার উৎস ও বহনের উদ্দেশ্য সন্তোষজনকভাবে ব্যাখ্যা করতে না পারায় যৌথ বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটক করেন। বেলাল উদ্দিন দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া অর্থ তার ব্যবসার বৈধ টাকা এবং ঢাকা বিমানবন্দর থেকে এনওসি নেওয়া আছে।
জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আল মাসুদ চৌধুরী বলেন, ‘সৈয়দপুর থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁও জামায়াত আমিরের ৭৪ লাখ টাকা নীলফামারী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। জামায়াত আমির কোনো সদুত্তর বা কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই বিষয়ে রেগুলারের মামলা করা উচিত ছিল।’
বেলাল উদ্দিন প্রধানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য জানা যায়নি।