ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
নিখোঁজ নাটকের অবসান, ‘গুপ্ত’ ছিলেন শিবির নেতা জিসান! যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের পর ঐক্যের গান গাইলেন পচেত্তিনো মীনা বাজারে চাকরির সুযোগ, শুক্র-শনিবার ছুটি ইংল্যান্ডের ফুটবল ও বুট চুরি করল কে? গণমাধ্যম সংস্কারে ‘ইউনিফাইড ইনস্টিটিউশন’ গঠনের তাগিদ মদে ট্যাক্স বাড়ানোই বিরোধী দলের দুঃখ: প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার বাজেটে জনগণের স্বস্তি হলেও বিরোধী দলের অস্বস্তি: প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ইউপি কার্যালয়ে চুরি শাবিপ্রবি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জ্বালানিপ্রতিষ্ঠানে ড. সাকিব বিশ্বকাপ উন্মাদনায় কুইজ ও রিচার্জ অফার, থাকছে জামাল ভূঁইয়ার সাথে খেলা দেখার সুযোগ গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির অগ্রণী ভূমিকা ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানে বিশেষ আয়োজন জীবের বৃদ্ধি ও বংশগতি অধ্যায় থেকে ৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৬ষ্ঠ পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান গাড়ি ভেঙে ইংল্যান্ড দলের সরঞ্জাম চুরি, গ্রেপ্তার ২ কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিন শুধু সংখ্যা বাড়াতে বিশ্বকাপে আসেনি হাইতি বোয়ালমারীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা যদি এই ছবিগুলো আপনি না দেখে থাকেন শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.)-এর চুল মোবারক? কক্সবাজার সফরে প্রধানমন্ত্রী, চকরিয়া-পেকুয়ায় ব্যাপক প্রস্তুতি সরকারের জনকল্যাণ-প্রযুক্তিনির্ভর বাজেটকে স্বাগত জার্মানি বিএনপির পরমাণু সুড়ঙ্গে মাইন পুঁতেছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের দাবি কক্সবাজারের ‘পাতলী খাল’ পুনর্খনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী প্রাইম ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৩য় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত যেভাবে ট্রিলিয়নিয়ার হলেন মাস্ক এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট দুর্ঘটনার তদন্তে আরও সময় লাগবে দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ প্যারাগুয়েকে উড়িয়ে বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা যুক্তরাষ্ট্রের
Nagad desktop

জামায়াত জোটে থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবে এনসিপি

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ০৮:৩৬ এএম
আপডেট: ০৯ মে ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম
জামায়াত জোটে থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবে এনসিপি
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে তারা নির্বাচনি কৌশলে ভিন্নতা আনছে। স্থানীয় বাস্তবতা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কিছু এলাকায় জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় গেলেও রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিটি করপোরেশনে একক প্রার্থী দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিপি।

  • এনসিপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কিছু জায়গায় জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা করলেও বড় সিটিগুলোতে একক প্রার্থী দেবে।
  • ঢাকা উত্তর–দক্ষিণসহ কয়েকটি সিটিতে এনসিপি ইতোমধ্যে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
  • বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে নিজেদের জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তি যাচাই করতে চায় দলটি।

বিএনপি ও জামায়াতের মতো বড় রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতা, জনপ্রিয়তা ও ভোটের অবস্থান যাচাই করতে চায় এনসিপি। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহানগরে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্তের কাজও শুরু করেছে দলটি। এনসিপির একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত ও এনসিপি জোটভিত্তিক রাজনীতির পথে হাঁটা শুরু করেছে। শুরুতে এটিকে ‘নির্বাচনি সমন্বয়’ বলা হলেও দুই দলের একসঙ্গে পথচলা দীর্ঘমেয়াদি হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। কারণ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে কৌশল নেওয়া হয়েছিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেই কৌশলেরই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। যদিও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে একদিকে জামায়াতের সঙ্গে জোটগত বৈঠক করছে এনসিপি, অন্যদিকে কৌশলগত কারণে দলীয়ভাবেও অভ্যন্তরীণ সভা করছে তারা।

এ বিষয়ে দলটির নেতারা জানান, এনসিপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিতে আগ্রহী। ইতোমধ্যে কয়েকটি মহানগরে দলীয় প্রার্থী ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। তবে যেসব এলাকায় সরকারদলীয় বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী থাকবে, সেখানে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার পথ খোলা রাখা হচ্ছে। 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মিডিয়া সেলের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় সদস্য ইয়াসির আরাফাত খবরের কাগজকে বলেন, স্থানীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আলোচনার মাধ্যমে জোটের একক প্রার্থী নির্ধারণ হতে পারে।

বড় মহানগরে নিজেদের প্রার্থী
এদিকে রাজধানীসহ বড় মহানগরে নিজেদের প্রার্থী দিয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত রয়েছে এনসিপির। বিশেষ করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে চায় দলটি। সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি-পেশার নেতা-কর্মীদের এনসিপিতে যোগদানের আহ্বান জানানো হচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পর।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার খবরের কাগজকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ব্যাপারে জোটের হিসাব মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত হবে। সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে জোটগতভাবে নির্বাচন করার সম্ভাবনা প্রবল। তবে তৃণমূল পর্যায়ে স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি। বাকি সাতটি সিটি করপোরেশনেও শিগগিরই প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। এছাড়া উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের জন্যও এপ্রিলের মধ্যে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে দলটির বর্তমান মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম। পাশাপাশি দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নামও আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দলীয় প্রার্থী হয়েছেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।

এছাড়া কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী এবং সিলেট সিটি করপোরেশনে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক আবদুর রহমান আফজালের নাম মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন মহানগর ও উপজেলায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের সবুজ সংকেত দিচ্ছে এনসিপির নির্বাচনি বোর্ড। একই সময়ে জামায়াতও তাদের নিজস্ব প্রার্থী প্রস্তুত করছে বলে জানা গেছে।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অন্তর্বর্তী সরকারের ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে তিনি এনসিপিতে যোগ দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ও দলীয় মুখপাত্রের দায়িত্ব নেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-৮ আসনে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। আরিফুল ইসলাম আদীব ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ঢাকা-১৮ আসনে উল্লেখযোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

দলীয় এক সভা শেষে গত ২৯ মার্চ এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার সব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকেও দলীয়করণ করছে। তিনি বলেন, এ অবস্থা থেকে বের হতে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিতে হবে। ছয় মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে নির্বাচন দেওয়া সম্ভব এবং সেটিই হওয়া উচিত। যাঁদের স্থানীয় সরকারের প্রশাসক করা হয়েছে, তাঁরা যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, সে ধরনের বিধিবিধানও থাকা প্রয়োজন।

যেভাবে জামায়াতের সঙ্গে জোট
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শুরুতে এনসিপি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু ভোটের ঠিক আগ মুহূর্তে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে যোগ দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয় দলটি। দুই দলের সমঝোতার ভিত্তিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়।

জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠন নিয়ে এনসিপির ভেতরে ক্ষোভ সৃষ্টি হলে শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা ও নেত্রী পদত্যাগ করেন। পরে জোটগতভাবে ৩০টি আসনে নির্বাচন করে এনসিপি। শেষ পর্যন্ত কয়েকটি আসনে সমঝোতা হলেও কিছু ক্ষেত্রে জামায়াতের প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি। এরপরও দলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ ছয়টি আসনে জয় পায় এনসিপি। দুটি আসন ছাড়া প্রায় সব ক্ষেত্রেই জামায়াতের সমর্থন পেয়েছিল দলটি। এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে দলটির ভেতরে।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন খবরের কাগজকে বলেন, আমাদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান রয়েছে। কৌশলগতভাবে জোটে থাকলেও এনসিপি নিজস্ব প্রার্থী দিচ্ছে। জামায়াতও তাদের প্রার্থী দিচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরা তাদের স্বাগত জানাই। বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই নিজেদের সক্ষমতা দেখতে চাই। অন্তত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপির স্বাধীনভাবে অংশ নেওয়া প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দেশের সব সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে চট্টগ্রাম ছাড়া প্রায় সব সিটি করপোরেশনেই প্রশাসকরা দায়িত্ব পালন করছেন।

জাতীয় নির্বাচনের পর নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। সম্প্রতি বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত আসবে।

সরকারের জনকল্যাণ-প্রযুক্তিনির্ভর বাজেটকে স্বাগত জার্মানি বিএনপির

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১১:২২ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১১:২২ এএম
সরকারের জনকল্যাণ-প্রযুক্তিনির্ভর বাজেটকে স্বাগত জার্মানি বিএনপির
ছবি: খবরের কাগজ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেটকে জনকল্যাণ, প্রযুক্তিনির্ভর, আত্মনির্ভর ও মানবিক বাংলাদেশের রূপরেখা আখ্যায়িত করে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপির জার্মানি শাখা। জার্মানির বিএনপি নেতারা বলেছেন, সরকার প্রধান হিসেবে প্রস্তাবিত এই বাজেট প্রমাণ করেছে, তারেক রহমান বাংলাদেশ ও প্রবাসীদের অকৃত্রিম দেশবন্ধু।

শুক্রবার (১২ জুন) জার্মানির মানহাইমে সরকারের প্রথম বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে বিএনপির জার্মানি শাখার সাবেক সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারম্যানের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য দেওয়ান শফিকুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

দেওয়ান শফিকুল ইসলাম বলেন, দেশবন্ধু তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঘোষিত নতুন বাজেট কেবল একটি আর্থিক পরিকল্পনা নয়; এটি একটি আধুনিক, উন্নত, আত্মনির্ভরশীল এবং প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের সুস্পষ্ট রূপরেখা। এই বাজেটে তরুণদের চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, স্টার্টআপ সহায়তা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে প্রণোদনা, বিনিয়োগ সহায়তা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। এর ফলে দেশের মেধাবী ও উদ্ভাবনী তরুণরা নতুন নতুন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

বিএনপি চেয়ারম্যানের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে একটি প্রযুক্তিনির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক এবং উদ্ভাবনসমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য এই বাজেটে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল অবকাঠামো, গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপকে তিনি অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় উন্নয়নের এই যাত্রায় দেশের প্রতিটি নাগরিককে অংশীদার হতে হবে। ঐক্য, উদ্ভাবন, সুশাসন এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব, যা হবে জনকল্যাণমূলক, প্রযুক্তিগতভাবে অগ্রসর, অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মর্যাদাশীল।

অন্তরা/

প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের ঢল

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:২১ এএম
প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের ঢল
নেতাকর্মীদের ঢল। ছবি: খবরের কাগজ

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বরণ করতে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের ব্যাপক ভিড়।

শনিবার (১৩ জুন) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীরা বিমানবন্দর এলাকায় এসে জড়ো হন। বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই তারা প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার অপেক্ষায় অবস্থান নেন। 

বিমানবন্দর সড়ক, আশপাশের এলাকা এবং প্রবেশপথজুড়ে দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। হাতে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা নিয়ে নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কক্সবাজার সফর ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার নেতাকর্মী বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়েছেন। এটি কক্সবাজারবাসীর ভালোবাসা ও প্রত্যাশার বহিঃপ্রকাশ। আমরা বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে জেলার উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ হবে।’

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না বলেন, ‘কক্সবাজারের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই সফরের অপেক্ষায় ছিলেন। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা কতটা গভীর। তার সফরে জেলার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন হবে, যা কক্সবাজারের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।’

দিনব্যাপী সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। সফরের অন্যতম আকর্ষণ পিএমখালীর ঐতিহাসিক পাতলী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের হাতে শুরু হওয়া এই খালের পুনঃখনন সম্পন্ন হলে এলাকার অন্তত দুই লাখ মানুষ উপকৃত হবেন বলে স্থানীয়দের প্রত্যাশা।

এছাড়া ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে দেশের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, পেকুয়ায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বীর শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত, নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলা-থানার উদ্বোধন, চকরিয়ায় বিশাল রাজনৈতিক জনসভা এবং কক্সবাজারের সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও সফরকে সফল ও নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। 

তারেকুর রহমান/অন্তরা

শিবগঞ্জে পুশইনের প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
শিবগঞ্জে পুশইনের প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পুশইনের প্রতিবাদে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১২জুন) বিকেল ৬টার দিকে শিবগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বিদ্যালয় মাঠ থেকে বের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমীর আবু জার গিফারী। 

প্রধান অতিথি চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল পুশইনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব, স্ওবাধীনতা, সীমান্ত নিরাপত্তায় জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অন্যদের মধ্যে সমাবেশে বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. কেরামত আলী, জেলা  জামায়াতে সেক্রেটারি আবু বকর, শিবগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বাবুল ইসলাম। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, শিবগঞ্জ উপজেলা আমির সাদিকুল ইসলাম, নায়েবে আমির অধ্যাপক আব্দুল মান্নানসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, কর্মী-সমর্থকরা।

আসাদুল্লাহ/তামান্না রুপা/

গণমুখী বাজেট উপস্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ফিনল্যান্ড বিএনপির অভিনন্দন

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
গণমুখী বাজেট উপস্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ফিনল্যান্ড বিএনপির অভিনন্দন
ফিনল্যান্ড বিএনপি

জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত গণমুখী, জনকল্যাণমুখী ও উন্নয়নধর্মী ঐতিহাসিক বাজেট ঘোষণার জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছে ফিনল্যান্ড বিএনপি।

শুক্রবার (১২ মে) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে ফিনল্যান্ড বিএনপির সভাপতি কামরুল হাসান জনি, সাধারণ সম্পাদক জামান সরকার ও সাংগঠনিক সম্পাদক সামসুল গাজী বলেন, এই বাজেট দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তারা আশা প্রকাশ করেন, বাজেটের যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়ে প্রণীত এই বাজেট দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে বেগবান করবে।

তারা দেশের সার্বিক উন্নয়ন, জনগণের কল্যাণ এবং জাতীয় অগ্রগতির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।

ফিনল্যান্ড বিএনপির নেতারা আশা করেন, এই বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধ, আত্মনির্ভরশীল ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হবে।

তামান্না রুপা/

বর্তমান বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
বর্তমান বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ছবি: খবরের কাগজ

প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের বর্তমান কাঠামো দেশের অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার আনতে সক্ষম হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

তিনি বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী’ ও ‘বাস্তবতাবিবর্জিত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এতে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনার অভাব রয়েছে।’

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে ৬ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দেশের বিদ্যমান কর ও রাজস্ব কাঠামোর বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে এত বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায়ের নজির নেই। বর্তমান ব্যবস্থার মধ্যে থেকে এ লক্ষ্য অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম বাজেটের মাধ্যমে অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ দেখা যাবে। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটের রূপরেখা পর্যালোচনা করে সে ধরনের কোনো কার্যকর সংস্কারের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।’

তবে বাজেটের কিছু ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘কয়েকটি পণ্যের ওপর কর হ্রাস, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।’

সম্প্রতি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এত অল্প সময়ের ব্যবধানে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘটনা নজিরবিহীন। একই সঙ্গে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলছে।’

বাজেটে সুশাসন ও জবাবদিহিতার ঘাটতির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে বাজেটে স্পষ্ট কোনো রূপরেখা নেই।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বড় বাজেট মানেই বড় ব্যয়ের সুযোগ; আর সেখানে জবাবদিহিতা না থাকলে দুর্নীতির ঝুঁকিও বাড়ে। বাজেটে দুর্নীতি রোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের উল্লেখ নেই, যা উদ্বেগজনক।’

রিফাত/