ঢাকা ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সময়টা কি তবে শেষ! রাসুল (সা.)-এর বর্ণনায় আজকের সমাজ বড় বাজেটের বড় প্রশ্ন সুর-ছন্দের আন্তর্জাতিক মেলবন্ধনে মেতে উঠছে ঢাকা ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে সনি-স্মার্টের ‘গোল্ডেন গোল অফার’ শুরু প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলতে বলতেই রাবি শিক্ষার্থীর গলায় ফাঁস চতুর্থবারের মতো সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ ওসি হলেন রতন শেখ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ৫ বছরের মেগা কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার গণতন্ত্রমুখী বাজেট ও প্রত্যাশার সমীকরণ পশ্চিমবঙ্গে নতুন মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টন আদ্-দ্বীন হাসপাতালের জবাব সন্তোষজনক নয়, বললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ হাতে টর্চ-লাঠি ও বাঁশি নিয়ে রাতভর পাহারায় পঞ্চগড় সীমান্তের মানুষ ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় নতুন পথ বের হলো চীনা মহাকাশ স্টেশনে চীনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পর্যটনের গল্প পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, সবাই নিহত ছয় দফা দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দারিদ্র‍্য থেকে মুক্তি–পথের সন্ধানে পরিবেশ স্টার্টআপ তহবিল গঠনের প্রস্তাব জোবাইদা রহমানের আম উৎসব আয়োজন করল স্বপ্ন, সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে মৌসুমি আনন্দের ছোঁয়া সিলেট সীমান্তে সতর্কতায়ও থেমে নেই চোরাচালান, ৬৬ লাখ টাকার পণ্য জব্দ তিন ঘণ্টা পর জামালপুর-ঢাকা ট্রেন চলাচল শুরু শিল্পকলায় নতুন নাটকের উৎসব গোপালগঞ্জে দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনায় যোগ দিলেন ব্রাজিল সমর্থক শেষ বিশ্বকাপের আগে শিশুর মতো উচ্ছ্বসিত নেইমার বান্ধবীকে ৩৭০ টাকার বিরিয়ানি খাইয়ে ‘উসুল’ করতে চেয়েছিলেন তরুণ কুমিল্লায় পুলিশের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আটক ১৯ আগ্রাসী যমুনার তীব্র ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি-জমিজমা রূপগঞ্জে মাদক দ্রব্যসহ ৬ কারবারি গ্রেপ্তার সালিশকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত ২০ আগ্রাসী যমুনায় বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও জমিজমা
Nagad desktop

মন্ত্রিসভার আকার বাড়ছে

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ১০:২১ এএম
আপডেট: ১৬ মে ২০২৬, ১১:৪১ এএম
মন্ত্রিসভার আকার বাড়ছে
ছবি: সংগৃহীত

মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ এবং বড় রদবদলের জোর আলোচনা শোনা যাচ্ছে। বর্তমানের ৫০ সদস্যের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে আরও ৭ থেকে ৮ নতুন মুখ যুক্ত হতে পারে। তবে মন্ত্রিসভার আকার ৬০ জনের বেশি হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর কাজের ঘাটতি রয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রীর নজরে এসেছে। এ জন্য মন্ত্রিসভায় প্রবীণ-নবীনের সমন্বয়ে আকার বৃদ্ধির আলোচনা চলছে। এ যাত্রায় মন্ত্রীর পাশাপাশি উপমন্ত্রীও থাকতে পারেন। এদের মধ্যে দলের প্রবীণ সংসদ সদস্য, দু-একজন নারী সংসদ সদস্য এবং যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া দু-একজন থাকতে পারেন। টেকনোক্র্যাট কোটায় একজনকে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনাও রয়েছে। এ ছাড়া দুজন নতুন উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।

  • মূল্যায়ন করা হতে পারে শরিকদেরও
  • প্রবীণ-নবীনের সমন্বয় থাকছে
  • টেকনোক্র্যাট কোটায় দু-একজন হচ্ছেন মন্ত্রী 
  • আরও দুজন উপদেষ্টা নিয়োগ হতে পারে

সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, রাষ্ট্র পরিচালনায় গতিশীলতা বাড়াতে এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজে সমন্বয় আনতে খুব শিগগির মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। তবে কবে নাগাদ মন্ত্রিসভা সম্প্রসারিত হবে, এর সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ কেউ বলতে পারছেন না। আসন্ন কোরবানির ঈদের আগে বা পরে বাড়তে পারে মন্ত্রিসভার আকার। জনগণের সেবার মান বাড়ানোর আকাঙ্ক্ষাও মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অন্যতম কারণ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষ পর্যায়ের একজন মন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর চাহিদা অনুযায়ী মন্ত্রিসভার আকার বড় হতে পারে। দপ্তরও রদবদল হতে পারে। খুব শিগগির এই ঘোষণা আসতে পারে। 

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ‘মন্ত্রিসভার সম্পূর্ণ এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর। তিনি কখন কাকে নেবেন, কোথায় দেবেন, এটা তার (প্রধানমন্ত্রীর) এখতিয়ার।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, কয়েকজনের ফাইল প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে কবে নতুন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের নাম ঘোষণা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত নির্দেশনা আসেনি। তিনি জানান, মন্ত্রিসভার কয়েকজনের অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে। সে কারণেই নতুন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা যুক্ত করে সরকারের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করার চিন্তা করা হচ্ছে। কাউকে-কাউকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রীও করা হতে পারে।

মন্ত্রিসভায় ইতোমধ্যে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন অনেকেই। গত ৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর দুজন উপদেষ্টাকে গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৮ জন প্রতিমন্ত্রীর কাজের চাপ কমাতে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলোকে মন্ত্রিসভার বড় ধরনের পুনর্গঠনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা-কর্মীরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো কোনো মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর অধীনে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকায় তারা কাজ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে কাজে আরও গতি আনতে এবং জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানো হলে তা হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ক্ষমতাবলে যেকোনো সময় এই ঘোষণা আসতে পারে, যা সরকারের আগামী দিনের পথচলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বর্তমান মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী বাদে ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। ৪৯ সদস্যর এই মন্ত্রিসভায় উপমন্ত্রী নেই। ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় ২৮ জন মন্ত্রী, ২৮ জন প্রতিমন্ত্রী ও চারজন উপমন্ত্রী ছিলেন। সে সময় প্রথম দফায় খালেদা জিয়া ৪৬ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করেছিলেন। পরে প্রয়োজন অনুসারে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬০ জনে। 

আলোচনায় যেসব মন্ত্রণালয়
একাধিক মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার চায় স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতিটি সেক্টরে আরও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা। মন্ত্রিসভার এই সম্ভাব্য সম্প্রসারণ সেই লক্ষ্য পূরণের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। সরকার ও বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, ২০০১ সালে মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যার সমান হতে পারে নতুন মন্ত্রিসভা। কারণ গুরুত্বপূর্ণ একাধিক মন্ত্রণালয়ে এখনো কোনো মন্ত্রী দেওয়া হয়নি, যদিও সম্ভাব্য বর্ধিত মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাচ্ছেন, সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি। 

তবে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এবং রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং বিভিন্ন সেক্টরে দক্ষ ও প্রতিষ্ঠিত এমন সক্রিয় নেতাদের মধ্য থেকেই নতুন মুখ মন্ত্রিসভায় বেছে নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। বিভাগ ও জেলাভিত্তিক জনপ্রতিনিধিত্বেরও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বর্তমান মন্ত্রিসভা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ বড় দু-তিনটি মন্ত্রণালয়ে একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ এসব মন্ত্রণালয়ে অতীতে একাধিক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী কিংবা উপমন্ত্রী দেখা গেছে। যেমন অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়; নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়; বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়; শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়; শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়; টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। গুরুত্বপূর্ণ এসব মন্ত্রণালয়ে এখন একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। এ জন্য সবশেষ ৮ জন প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বিন্যাস করে কাজের পরিধি নির্দিষ্ট করা হয়েছে। একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা অন্য প্রতিমন্ত্রীর কাজের চাপ কমানো হতে পারে। 

আলোচনায় এগিয়ে যারা
বিএনপির নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্যকে মন্ত্রিসভার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হলেও ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং বেগম সেলিমা রহমান এখনো সরকারের বাইরে আছেন। ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় চারজনই ছিলেন। এবার তাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে। তবে সংসদ উপনেতা পদে খন্দকার মোশাররফ হোসেন এগিয়ে আছেন।

অনেকের মতে, সবার কাছে দলের প্রবীণ নেতাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তাদেরকে মন্ত্রিসভায় নিলে আগের অভিজ্ঞতার আলোকে তারা ভালো করবেন। তরুণ-প্রবীণের সংমিশ্রণে সরকারের কাজে গতি বাড়বে। 

সম্ভাব্য বর্ধিত মন্ত্রিসভায় যারা অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন তাদের মধ্যে রয়েছেন নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বরকত উল্লাহ বুলু, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ঢাকা বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল, নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বিশিষ্ট অর্থপেডিক সার্জন অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক, খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগর লবী, গোপালগঞ্জ-১ আসনের বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম ও ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও কৃষক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল।

মুল্যায়ন করা হতে পারে শরিকদেরও 
যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের দলগুলোকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। সেই সময়ে শরিকদের বলা হয়েছিল- নির্বাচনে জয়লাভ করে আসতে পারলে বা পরাজিত হলেও সবাইকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করবে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে দলের গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরু, এনডিএমের ববি হাজ্জাজ ও গণতন্ত্র মঞ্চের জোনায়েদ সাকিকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। কিন্তু ১২ দলীয় জোটের লক্ষীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম ও বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ রাজপথে সক্রিয় থাকলেও তাদের কাউকে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি। এমনকি নির্বাচনে পরাজয় করলেও কাউকে টেকনোক্র্যাট কোটায় বিবেচনা করা হয়নি। নির্বাচনে পরাজিতদের মধ্যে টেকনোক্র্যাট কোটায়া বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. রেদোয়ান আহমেদের নাম আলোচনায় আছে।

এদের মধ্যে শাহাদাত হোসেন সেলিমের নামে ২০১৪ সালের মৎস ভবনের সামনে পুলিশ হত্যার মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি নির্বাচনের আগে নিজ দল বিলুপ্তি করেও বিএনপিতে যোগদান করেন সাবেক ছাত্রদল নেতা সেলিম। বিগত আন্দোলন সংগ্রামেও বিএনপির পরীক্ষিত মিত্র। বিএনপির হাইকমান্ডের সুনজরে আছেন। যে সময়ে কেউ কথা বলতে পারেনি, সেই সময়েও বিভিন্ন টকশোতে বিএনপির পক্ষে কথা বলেছি। সংসদে গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দলের পাল্টা বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে বেশ সক্রিয় আছেন এই নেতা। ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে বিএনপির পক্ষে জোরালো ভূমিকা রেখেছিলেন সেলিম। অপরদিকে, আন্দালিভ রহমান পার্থ নাম শুরু থেকে আলোচনা থাকায় পরে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাননি। তবে তিনি জামায়াতে বিরুদ্ধে অন্যদের তুলনায় সংসদে বেশ সক্রিয় আছন।

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী 
এই কোটায় দু-একজনকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী করা হতে পারে। তবে আলোচনায় সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি মন্ত্রিসভায় গেলে তার জায়গায় অন্য কাউকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। কারণ বিগত ১১ বছর ধরে তিনিই দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত একটানা দুই বছর তিন মাস নয়াপল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে ছিলেন। এত দিন কার্যালয়ের একটি কক্ষেই তার থাকা, খাওয়া, ঘুমের ব্যবস্থা ছিল। এ ছাড়াও আলোচনায় আছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর (পাভেল)।

জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁতীদলের আলোচনা সভা

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৫৭ এএম
জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁতীদলের আলোচনা সভা
ছবি: খবরের কাগজ

মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে জাতীয়তাবাদী তাঁতীদল।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর ৩টায় রাজধানীর তোপখানা শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে তাঁতীদল কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির বন ও পরিবেশবিষয়ক সহ-সম্পাদক কাজী রওনকুল ইসলাম টিপু।

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক মেজর জিয়ার মধ্যেই আজকের নতুন বাংলাদেশের ভাবনা ছিল। তিনি মেজর থাকাকালীন স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশের পতাকা, মানচিত্র ও ভূখণ্ডসহ একটি স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার দেন।’

টিপু বলেন, ‘মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছেন। তিনি জনশক্তি রপ্তানি, তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশ এবং খাল খননের মাধ্যমে কৃষি বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন। দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনরুদ্ধারে তার অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। নতুন প্রজন্মের কাছে তার আদর্শ ও কর্মময় জীবন তুলে ধরতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে তাঁতীদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ‘শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি জন্মলগ্ন থেকেই গণতন্ত্র লালন করে আসছে। মধ্যে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ হিংস্র হায়েনার মতো গণতন্ত্রকে ক্ষতবিক্ষত করেছে। বর্তমানে শহিদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র ও দেশ নিরাপদ রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই আগামী দিনে একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।’

সভায় বক্তারা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, মুক্তিযুদ্ধ এবং দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

আলোচনা সভা শেষে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও জনগণের কল্যাণ কামনা করা হয়।

জাতীয়তাবাদী তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক রাফিজুল হাই রাফিজ, তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জে. এম. আনিসুর রহমান আনিস, যুগ্ম আহ্বায়ক শাখাওয়াত হোসেন আশিক ও সদস্য খন্দকার হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।

আলী/রিফাত/

জবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্রকাশ্যে মানববন্ধন

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
জবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্রকাশ্যে মানববন্ধন
ছবি: সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) তৃতীয় গেটে প্রকাশ্যে ৬ দফা দাবি তুলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। কর্মসূচি থেকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।  

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় গেটের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

কর্মসূচিতে ব্যবহৃত পোস্টারগুলোতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের ছবি স্থান পায়।
উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সারা দেশে ছাত্রলীগের শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারাদেশ ও তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রত্যাহার, কোটা আন্দোলনের নামে দলীয় নিয়োগ বন্ধ, ছাত্রলীগের রাজবন্দিদের শ্যোন অ্যারেস্ট বন্ধ করে নিঃশর্ত মুক্তি এবং নারী ও শিশু হত্যা, ধর্ষণ, মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন ও অনলাইনে নারী হেনস্তার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক লাঞ্ছনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় এনে শিক্ষকদের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া এবং হামের টিকার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ইউনূসের ফাঁসির দাবি জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন।

ঘটনার বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আজকে (মঙ্গলবার) ঘটনার বিষয়ে আমি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নই। তবে এর আগেও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতায় এ ধরনের ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য নিচ্ছি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থাকেও অবহিত করেছি, যাতে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।’

তিনি আরও বলেন, প্রকাশিত ভিডিওতে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা দেখা যাচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করা গেলে এবং গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‘শর্ত সাপেক্ষে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা’

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:১২ পিএম
‘শর্ত সাপেক্ষে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা’
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীসহ যেকোনো ব্যক্তি নির্ধারিত শর্ত ও আইনগত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবেন বলে জানিয়েছে সরকার। তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কোনো প্রার্থী দলীয় পরিচয় বা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের পক্ষে প্রচার চালাতে পারবেন না।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এ কথা জানান।

উপদেষ্টা বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হবে। ফলে কোনো ব্যক্তি যদি নির্বাচন করতে চান এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ করেন, তাহলে তার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বাধা থাকবে না।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও তিনি যদি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন এবং নির্বাচনি প্রচারে আওয়ামী লীগ বা দলটির রাজনৈতিক অবস্থানকে সামনে না আনেন, তাহলে নির্বাচনে অংশগ্রহণে সমস্যা নেই। তবে নির্বাচনি প্রচারে নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে বক্তব্য দেওয়া বা দলীয় পরিচয় ব্যবহার করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

আওয়ামী লীগের নেতা বা পদধারীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ থাকায় কোনো পদ-পদবি ব্যবহার করার সুযোগ নেই। তবে ব্যক্তি হিসেবে কেউ নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে তিনি প্রার্থী হতে পারবেন।

সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক ও উন্মুক্ত রাখতে চায় সরকার। সে কারণে ব্যক্তি পর্যায়ে যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়ার কোনো নীতি সরকারের নেই।

মামলা থাকা কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, প্রশ্নের জবাবে এই উপদেষ্টা বলেন, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী অনেক ক্ষেত্রেই মামলা থাকলেও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে। এ বিষয়ে সরকার আলাদাভাবে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না। ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, নির্বাচনে অংশ নিতে হলে সবাইকে নির্দলীয় পরিচয়ে এবং প্রচলিত আইন ও নির্বাচন কমিশনের বিধিবিধান অনুসরণ করেই নির্বাচনি মাঠে নামতে হবে।

শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কাটার ঘটনায় বিএনপি নেতার সাফাই

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম
শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কাটার ঘটনায় বিএনপি নেতার সাফাই
শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম। ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে সরকারি সড়কের পাশের গাছ কাটার অভিযোগে আলোচিত শাহরাস্তি পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম সাংবাদিকদের ষড়যন্ত্রকারী ও কুচক্রী মহল আখ্যা দিয়ে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।

তিনি দাবি করেছেন, দীর্ঘ বছর আগে নিজ উদ্যোগে রোপণ করা গাছগুলো তিনি একটি মসজিদে দান করেছেন এবং এ বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদে তার সম্মানহানির চেষ্টা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যায় সংবাদ প্রকাশ করা পত্রিকার সাংবাদিকদের আড়াল করে তড়িঘড়ি করে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম জানান, ২০০২ সালের ২৩ জুন তিনি তৎকালীন পৌর চেয়ারম্যানের অনুমতিক্রমে সংশ্লিষ্ট সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করেন। সে সময় নিজ খরচে গাছগুলো রোপণ করা হয়। তার দাবি, বিভিন্ন কারণে অধিকাংশ গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও প্রায় ১০টি গাছ টিকে ছিল। পরে তিনি ওই গাছগুলো স্থানীয় একটি মসজিদে দান করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে কিছু মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।

বেলায়েতের বক্তব্যের সমর্থনে শ্রীপুর উত্তর-পূর্বপাড়া মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. ইমাম হোসেন বলেন, গাছগুলো মসজিদের কাজে ব্যবহারের জন্য দান করা হয়েছে। একই বক্তব্য দেন মসজিদ কমিটির সদস্য ইমাম হোসেন মাস্টার।

তবে ব্রিফিংয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম স্বীকার করেন যে, ঈদুল আজহার পূর্ববর্তী ব্যস্ততার কারণে গাছ কাটার বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ ও বন বিভাগকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার সুযোগ পাননি।

এর আগে গাছ কাটার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় তিনি সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বিষয়টি অবহিত করার কথা বললেও বন বিভাগ বা পৌর প্রশাসনের অনুমোদনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া তার বক্তব্য নেওয়ার সময় গাছগুলো মসজিদে দান করার বিষয়টিও সংবাদ প্রকাশের আগে সাংবাদিকদের জানানো হয়নি বলে কয়েকজন কর্মরত সাংবাদিক দাবি করেছেন।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, কিছু পোস্ট ও মন্তব্যে তাদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর বক্তব্য এবং পরোক্ষ হুমকির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এতে তারা পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, ঈদুল আজহার ছুটির সময় শাহরাস্তি উপজেলার সাহাপুর এলাকায় সরকারি সড়কের পাশের কয়েকটি গাছ কাটার অভিযোগে শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিমের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দেয়।

প্রসঙ্গত, পৌর প্রশাসক ও বনবিভাগ কর্মকর্তাদের অবহিত না করে এবং লিজের শর্ত না মেনে ঈদের ছুটিতে রাস্তার ১০টি গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনায় ৮ জুন খবরের কাগজে ‘শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কেটে নিলেন পৌর বিএনপির নেতা’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

ফয়েজ/রিফাত/

নারায়ণগঞ্জে ময়লার গাড়িরচাপায় ছাত্রদল নেতাসহ নিহত ২

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
নারায়ণগঞ্জে ময়লার গাড়িরচাপায় ছাত্রদল নেতাসহ নিহত ২
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য পরিবহনের একটি ময়লার গাড়ির চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী ছাত্রদল নেতাসহ দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকার দশপাইপ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- ফতুল্লার দেলপাড়া এলাকার নান্নু সরদারের ছেলে আব্দুল কাদির জিলানি (২৬)। তিনি ফতুল্লা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। অপর নিহত মাসুম বিল্লাহ ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিকেলে মোটরসাইকেলযোগে দুইজন সিদ্ধিরগঞ্জের দিকে যাওয়ার পথে দশপাইপ এলাকায় পৌঁছালে সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্যবাহী ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় ট্রাকের নিচে পিষ্ট হয়ে দুইজনই ঘটনাস্থলে মারা যান। খবর পেয়ে নিহতদের স্বজনরা আহাজারি করেন। পরে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকসহ কর্মকর্তারা নিহতদের স্বজনদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এ সময় প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, নিহত জিলানি তার কর্মী ছিলেন। রাজনৈতিক মামলায় তার জামিন তিনি করিয়েছিলেন। আজ কর্পোরেশনের গাড়িতে তার কর্মীর মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে শোকাহত।

তিনি বলেন, তিনি পরিবারের পাশে আছেন এবং সিটি কর্পোরেশন সব ধরনের সহযোগিতা করবে। এছাড়া ওই বর্জ্যবাহী গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

এদিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

বিল্লাল হোসাইন/রিফাত/