নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (২০ মে) রাতে উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচগাঁও কবরস্থান এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত ওসমান গণি বড় বিনাইরচর গ্রামের মৃত আব্দুল আব্দুর রশিদের ছেলে।
এ ঘটনায় দুপ্তারা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রমজান মিয়াসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে পাঁচগাঁও এলাকায় মাটির ব্যবসা করছিলেন ওসমান গণি। বুধবার রাতে একটি ভেকু মাটিতে আটকে গেলে খবর পেয়ে মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে যান তিনি। সঙ্গে ছিলেন তার কয়েকজন সহযোগী।
এ সময় ২০ থেকে ২৫ জনের একটি মুখোশধারী সশস্ত্র দল তাদের ঘিরে ফেলে। দুর্বৃত্তরা সবাইকে হাত উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে বলে। একপর্যায়ে তারা ওসমান গণির ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা, গলা ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে।
পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির ১নং ওয়ার্ড সভাপতি ইসমাইল মিয়া অভিযোগ করেন, মাটি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুপ্তারা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার সঙ্গে ওসমান গণির বিরোধ চলছিল।
তিনি দাবি করেন, ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের লোক হয়ে দুপ্তারা এলাকায় মাটি তোলার অভিযোগ তুলে ওসমান গণির কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। এ নিয়ে মঙ্গলবার উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়।
আড়াইহাজার থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে ওসমান গণি হত্যার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে বিক্ষুব্ধ জনতা ভুলতা-বিশনন্দী আঞ্চলিক মহাসড়কের বড় বিনাইরচর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়। বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি অটোরিকশা ভাঙচুর ও মোটরসাইকেলে আগুন দেন।
সকাল থেকে মহাসড়কটিতে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট ও জনভোগান্তি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ইমরান/আমান