রাসুলুল্লাহ (সা.) বাবরি বা লম্বা চুল রাখতেন। বিভিন্ন বর্ণনায় পাওয়া যায়, তাঁর চুল কখনো কানের লতিতে থাকত, কখনো কাঁধ পর্যন্ত দীর্ঘ হতো। এর মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর অনুসারীদের জন্য একটি সুন্দর উদাহরণ স্থাপন করেছিলেন। তবে বাবরি রাখা ইসলামে একটি ঐচ্ছিক সুন্নত। এতে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এটি এমন একটি বিষয়, যেখানে ব্যক্তি তার রুচি এবং স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
ইসলামের প্রতিটি বিধান ও নিয়মের পেছনে রয়েছে যুক্তি ও উদ্দেশ্য। বাবরি রাখা শুধু একটি শারীরিক চর্চা নয়; এটি ব্যক্তিত্ব, পরিচ্ছন্নতা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতি ইসলামের গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে। মহানবি (সা.) সবসময় পরিচ্ছন্নতা এবং সৌন্দর্যের প্রতি গুরুত্ব দিতেন। বাবরি রাখার সঙ্গে এই দৃষ্টিভঙ্গির সংযোগ রয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণ: বাবরি রাখার ক্ষেত্রে মহানবি (সা.) পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। হাদিসে পাওয়া যায়, তিনি নিয়মিত চুল আঁচড়াতেন এবং তেলের ব্যবহার করতেন। চুল বড় রাখার পাশাপাশি এর সঠিক যত্ন নেওয়াও সুন্নতের অংশ।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চেহারায় সবসময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ছাপ থাকত। তার লম্বা চুল সেই সৌন্দর্যের অংশ ছিল। ইসলাম চুলের সৌন্দর্যকে স্বাভাবিক উপায়ে রক্ষণাবেক্ষণ করার পরামর্শ দেয়।
পরিচয়ের প্রতীক: মহানবি (সা.) এবং তাঁর সাহাবারা বিভিন্ন সময়ে চুলের মাধ্যমে তাদের পরিচয় প্রকাশ করতেন। চুলের ধরন ও দৈর্ঘ্য আরব সংস্কৃতির একটি অংশ ছিল। বাবরি রাখা সেই ঐতিহ্য এবং ইসলামের ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে।
ইসলামের বিভিন্ন বর্ণনা থেকে জানা যায়, বাবরি রাখা সুন্নত হিসেবে বিবেচিত। এখানে কিছু হাদিস উল্লেখ করা হলো, যা এ বিষয়টিকে আরও পরিষ্কার করবে। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চুল মাঝেমধ্যে কানের লতি পর্যন্ত থাকত, কখনো কখনো কাঁধ পর্যন্ত পৌঁছাত।’ (বুখারি, হাদিস: ৫৫৬৫)
উম্মু হানি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মাথার চুল চারভাগে ভাগ করা অবস্থায় দেখেছি। তার মাথায় লম্বা চুল ছিল।’ (তিরমিজি)। এ হাদিসগুলো থেকে বোঝা যায়, বাবরি রাখা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অভ্যাস ছিল এবং এটি সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত। তবে এই সুন্নত পালনের ক্ষেত্রে ব্যক্তি তার পরিবেশ ও প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
বাবরি রাখার উপকারিতা: বাবরি রাখা শুধু একটি ধর্মীয় সুন্নত নয়; এর কিছু স্বাস্থ্যগত এবং সামাজিক উপকারিতাও রয়েছে—১. চুল বড় থাকলে তা মাথার ত্বককে রোদ ও ধুলাবালি থেকে সুরক্ষা দেয়। ২. লম্বা চুল ব্যক্তিত্বকে আকর্ষণীয় করে তোলে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। ৩. বাবরি রাখা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর স্মরণ করিয়ে দেয় এবং তাকে অনুসরণের অনুভূতি জাগ্রত করে।
লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক