প্রতিবেশী মানবসমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ইসলাম এতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। মহান আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং কোনো কিছুকে তাঁর শরিক করো না; পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম, অভাবী, নিকট প্রতিবেশী, দূর-প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথি, মুসাফির এবং দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ দাম্ভিক, অহংকারীকে পছন্দ করেন না।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৩৬)
রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতিবেশীর হককে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে ঈমান রাখে, সে যেন মেহমানের সম্মান করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১৩৬)
তবুও আমাদের সমাজে অনেক মানুষ আছেন যারা প্রতিবেশীর কোনো উপকার করতে রাজি হন না, বরং সুযোগ পেলে তাদের কষ্ট দিতে চেষ্টা করেন। এ ধরনের আচরণের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর শপথ! সে ব্যক্তি মুমিন নয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০১৬) এবং ‘যে ব্যক্তির অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ না থাকে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭৬)
প্রতিবেশীর সঙ্গে অসদাচরণের ফলে একজন মানুষের পরকাল ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। তাই প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য, প্রতিবেশীর সঙ্গে সদাচরণ করা এবং তাকে সুখ-দুঃখে সাহায্য করা।
একসাথে বসবাসের ফলে মাঝে মাঝে প্রতিবেশীর সাহায্য প্রয়োজন হয়, যেমন ছোটখাটো জিনিস ধার করা। এমনকি রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও বিশেষ প্রয়োজনে ধার করেছেন, যা বিভিন্ন হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। আমাদের উচিত, প্রতিবেশী যদি কোনো জিনিস ধার চান, তবে তা ফিরিয়ে দেওয়া উচিত না। কারণ আল্লাহ কোরআনে বলেছেন, ‘অন্যদেরকে এমন ছোটখাটো গৃহসামগ্রী দানে সাহায্যে বাধা প্রদান করে যাতে তাদের কোনোরূপ ক্ষতি নেই।’(সুরা মাউন, আয়াত: ৭)
ইসলাম ধর্মে প্রতিবেশীর হক রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ছোটখাটো বিষয়েও সহানুভূতির পরিচয় দিতে বলা হয়েছে। আমাদের উচিত, যদি কোনো প্রতিবেশীর ছোটখাটো প্রয়োজন থাকে এবং আমরা সেই জিনিসটি দিতে পারি, তবে তা সাহায্য করে তার প্রতি সদ্ভাব দেখানো।
লেখক : আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক