লোকমুখে প্রসিদ্ধ- একদিন মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর সঙ্গে কথা বলতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে এক ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ, যার পরনে শুধু এক টুকরো কাপড়। সে বলল, হে আল্লাহর নবি! আল্লাহকে জিজ্ঞেস করবেন, কীভাবে আমার অভাব দূর হবে। এরপর আরেক ধনী লোকের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলো, যাকে আল্লাহ অঢেল সম্পদ দিয়েছেন। সে বলল, আল্লাহকে জিজ্ঞেস করবেন, কীভাবে আমার সম্পদ কমবে। আরেক ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ হলো, যার হাতও নেই, পা-ও নেই। সে বলল, আল্লাহকে জিজ্ঞেস করবেন, আমাকে কেন সৃষ্টি করা হয়েছে।
মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহকে জিজ্ঞেস করলে আল্লাহ বললেন, প্রথম ব্যক্তিকে (এক টুকরা কাপড়ওয়ালা) বলবে, বেশি বেশি শুকরিয়া আদায় করতে। দ্বিতীয় ব্যক্তিকে (সম্পদশালী) বলবে, বেশি বেশি না-শোকরি করতে। আর তৃতীয় ব্যক্তিকে বলবে, তোমাকে দিয়ে জাহান্নামের একটা ফুটা বন্ধ করার জন্য তোমাকে সৃষ্টি করা হয়েছে (অর্থাৎ, আল্লাহর ফয়সালা মেনে না নেওয়া ও না-শোকরির কারণে সে জাহান্নামে যাবে)।
কেউ কেউ আরেকটু বাড়িয়ে বলে- প্রথম ব্যক্তিকে শুকরিয়া আদায় করার কথা বললে, সে বলল, আমি কীসের ওপর শুকরিয়া আদায় করব? এ কথা বলাতে প্রচণ্ড বাতাস এসে তার পরনে যে এক টুকরো কাপড় ছিল, তাও উড়িয়ে নিয়ে গেল। দ্বিতীয় ব্যক্তিকে না-শোকরির কথা বললে সে বলল, আল্লাহ আমাকে এত সম্পদ দিয়েছেন- আমি কীভাবে তার না-শোকরি করব। ফলে তার সম্পদ আরও বৃদ্ধি পেল।
শুকরিয়া আদায় করা-না করা বিষয়ে এ কিসসাটি বলা হয়। কিন্তু এটি একটি বানোয়াট কিসসা। এর নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র নেই। আমাদের সমাজে মুসা আলাইহিস সালামের সঙ্গে যুক্ত করে বানানো অনেক কিসসা প্রচলিত আছে। সেই কিসসাগুলোর মধ্যে এটি অনেক প্রসিদ্ধ একটি কিসসা। এটি বলা যাবে না। শুকরিয়া আদায়ের বিষয়ে কোরআনে কারিমের অসংখ্য আয়াত ও সহিহ হাদিস রয়েছে। আমরা সেগুলোই বলব, এসব বানোয়াট কিসসা বলব না।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক