ইসলামে পোশাকের ব্যাপারেও বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ এ ব্যাপারে এরশাদ করেছেন, হে আদম সন্তানরা! আমি তোমাদের জন্য লজ্জাস্থান ঢাকার ও বেশভূষার জন্য পোশাক-পরিচ্ছদ দান করেছি। আর তাকওয়ার পোশাকই উত্তম; তা আল্লাহর নিদর্শনগুলোর অন্যতম, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে। (সুরা আরাফ, ২৬)।
ইসলামে পোশাক ব্যবহারের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। প্রথম ও মূল নীতিমালা হলো—গুপ্তাঙ্গ ঢেকে রাখা। পুরুষের জন্য নাভির নিচ থেকে হাঁটু পর্যন্ত এবং নারীদের জন্য গায়রে মাহরামের ক্ষেত্রে মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে রাখা ফরজ করা হয়েছে। এ সম্পর্কে সুরা নুরের ৩০-৩১ আয়াতে বিস্তারিত বিবরণ আছে।
নারীদের সুন্নতি পোশাক হলো—১. হাতের কবজি ও পায়ের পাতা পর্যন্ত ঢাকা, ২. ইজার বা সালোয়ার এবং ৩. বড় চাদর বা ওড়না। মুমিন নারীরা সাধারণত এই পোশাকেই থাকতেন। আর বাইরে বেরোলে এগুলোর ওপরে বড় চাদর বা জিলবাব পরিধান করতেন। তবে এখন যেহেতু বোরকার মাধ্যমেই পুরো শরীর আবৃত করা যায় সেহেতু বোরখাও উত্তম; তবে বেশি আকর্ষণীয় ও পাতলা বোরখা পরিধান করা যাবে না এবং এমন বোরকাও পরা যাবে না, যার মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ভাঁজ বোঝা যায়।
অনেকে অমুসলিমদের পোশাক পরতে ভালোবাসেন। কিন্তু কোরআন ও হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী কাজটি ভালো নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যদি কেউ কোনো সম্প্রদায়ের অনুকরণ করে তবে সে উক্ত সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে। (আবু দাউদ ৪/৪৪)। অতএব উক্ত হাদিস মোতাবেক শুধু পোশাক কেন অন্য যেকোনো ক্ষেত্রেও বিধর্মীদের অনুসরণ-অনুকরণ করা যাবে না।
পুরুষরা কখনোই টাখনুর নিচে কাপড় রাখতে পারবে না বরং ওপরে রাখতে হবে এবং নারীদের রাখতে হবে টাখনুর নিচে। যদি কেউ এর উল্টো করে তবে তার প্রতি আল্লাহ রহমতের নজর দেবেন না। তেমনিভাবে কোনো প্রাণীর ছবি সংবলিত পোশাকও পরিধান করা যাবে না, চাই সে ছেলে হোক বা নারী। আর ছেলেদের জন্য রেশমি কাপড়, লাল এবং হলুদ রঙের পোশাক পরাও হারাম।
আল্লাহতায়ালা কোরআনে এরশাদ করেছেন, ‘হে আদম সন্তানরা! প্রত্যেক সালাতের সময় তোমরা সুন্দর পোশাক গ্রহণ করো।’ (সুরা আরাফ: ৩১)। এখানে আল্লাহতায়ালা পোশাকের ধরন বলেননি কিন্তু রাসুল (সা.) ও তার সাহাবাদের এমন ধরনের পোশাকে নামাজ আদায় করেছেন, যা শরীরকে সুন্দর ভাবে আবৃত করে রাখত। অতএব নিশ্চয়ই এতে আল্লাহ খুশি হয়েছিলেন বা পরতে বলেছিলেন বলেই তারা সবাই ওই একই পোশাক পরিধান করেছিলেন।
আল্লাহতায়ালা বলেছেন, রাসুলের আনুগত্য মানেই আমার আনুগত্য। অর্থাৎ সর্বোপরি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একান্ত প্রয়োজন রাসুলের সুন্নতকে পুরোপুরি পালন করা এবং ফরজ ও ওয়াজিবগুলো তো বটেই। আর এজন্য সকল নিজস্ব মতামত, সমস্যা ও যুক্তির ঊর্ধ্বে থাকা উচিত। আল্লাহপাক যেন আমাদের সঠিকভাবে ইসলাম পালনের তৌফিক দেন। আমিন।
তথ্যসূত্র: ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রচিত খুৎবাতুল ইসলাম ও কোরআন-সুন্নাহর আলোকে পোশাক : পর্দা ও দেহসজ্জা এবং এহইয়াউস সুনান।
লেখক: প্রাবন্ধিক