গত বছরের জুনে কিংসটাউনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলেছিলেন অপরাজিত ৫৪ রানের দারুণ ইনিংস। এরপর ১৩ ইনিংসে আর কোনো ফিফটির দেখা পাননি লিটন দাস। অবশেষে হাসলো তার ব্যাট। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশ অধিনায়ক খেললেন ৭৬ রানের দলীয় সর্বোচ্চ ইনিংস। সুবাদে সাত উইকেটে ১৭৭ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর পায় বাংলাদেশ। জিততে হলে শ্রীলঙ্কাকে করতে হবে ১৭৮ রান। তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০তে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ।
টস ভাগ্য প্রথম ম্যাচের মতোই। মানে টস হেরে আগে ব্যাটিং পান বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস। শুরুটা যাচ্ছেতাই। প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ভুল শটে বোল্ড পারভেজ হোসেন ইমন। তিন বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি ইমন।
টিকতে পারেননি অপর ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমও। দ্বিতীয় ওভারেই তিনি বিনু ফার্নান্দোর শিকার। অফ স্টাম্পের বাইরের বল ঠিকঠাক খেলতে পারেননি বাঁ হাতি এই ওপেনার। ব্যাটের কানায় লেগে ডিপ স্লিপের দিকে বল যায় দ্রুত গতিতে। বাজপাখির মতো ঝাঁপিয়ে তালুবন্দি করেন কুশল পেরেরা। ৮ বলে ৫ রান সংগ্রহ তানজিদের।
৭ রানে দুই উইকেট হারানো বাংলাদেশকে তখন পথ দেখানোর চেষ্টা করেন অধিনায়ক লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়। পাওয়ার প্লেতে খুবই নাজুক ছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং। ৬ ওভারে তুলতে পারে ২ উইকেটে মাত্র ৩৯ রান। পাওয়ার প্লের শেষ ৩ ওভারে লিটন ও তাওহীদ যোগ করেন ২৯ রান।
লিটন আগাতে থাকলেও পারেননি তাওহিদ হৃদয়। তানজিদ হাসানের মতোই অপ্রচলিত ডিপ স্লিপ ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। অফ স্টাম্পের বাইরের স্লোয়ার ডেলিভারি কাট করতে গিয়ে তার ব্যাটের ওপরের দিকে লেগে চলে যায় কুশল পেরেরার হাতে। ২ চার, ১ ছক্কায় ২৫ বলে ৩১ রান করেন হৃদয়। তার বিদায়ে ভাঙে ৬৯ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি।
ক্রিজে থিতু হতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। একই ওভারে তিনি বিনুরার তৃতীয় শিকার। চার বলের মধ্যে ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। বিনুরা ফার্নান্দোর আরেকটি স্লোয়ারে স্কুপ খেলার চেষ্টায় শর্ট ফাইন লেগে নুয়ান থুসারার হাতে ধরা পড়েন ১ রান করা মিরাজ।
এরই মধ্যে টি টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ১২তম ফিফটি পূর্ণ করেন লিটন দাস। যদিও ব্যক্তিগত ৩০ রানের মাথায় জীবন পান তিনি। অল্পের জন্য বেঁচে যান স্টাম্পড থেকে। দ্বিতীয় জীবন পান ব্যক্তিগত ৫৬ রানে। আকাশে তুলে দেওয়া ক্যাচ নিতে পারেননি মাহিশ থিকসানা।
লিটনের সামনে ছিল টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলার সুযোগ। কিন্তু পারেননি। ব্যক্তিগত ৭৬ রানে শর্ট থার্ড ম্যানে ধরা পড়েন লিটন। ৫০ বলের ইনিংসে ১ চার ও ৫ ছক্কা হাঁকান তিনি। তার বিদায়ে ভাঙে শামীম হোসেনের সঙ্গে গড়া ৩৯ বলে ৭৭ রানের জুটি। টি টোয়েন্টিতে লিটনের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস ৮৩ রান, ২০২৩ সালে চট্টগ্রামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে।
লিটনের বিদায়ের পর দ্রুতই ফেরেন জাকের আলী। দুই বলে তিন রান করে তিনি রান আউট। একই অবস্থা শামিম হোসেনেরও। ফিফটির জোড়ালো সম্ভাবনা তৈরি করেও পারেননি। ২৭ বলে পাঁচটি চার ও দুই ছক্কায় ৪৮ রান করে তিনি হন রান আউট। ২ বলে ৬ রানে অপরাজিত থাকেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। বল হাতে শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন বিনুরা ফার্নান্দো।
চঞ্চল/সুমন/