ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সবশেষ মৌসুমে তেমন একটা সুবিধা করতে পারেনি চেলসি। পয়েন্টস টেবিলের চারে অবস্থান করে শেষ করেছিল লিগ। দলের অবস্থা এতটাই শোচনীয় ছিল যে খেলতে হয়েছিল কমফারেন্স লিগও।
এই দলটাই যে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ জিতবে, সেটি আশা করা ছিল দূরূহ ব্যাপার। খুব কম মানুষই খুঁজে পাওয়া যাবে, যারা কিনা বাজি ধরার সাহস পেয়েছিলেন চেলসিকে নিয়ে বাজি ধরার।
সে লিগে রিয়াল মাদ্রিদ, ইন্টার মিলান ও পিএসজির মতো দল অংশ নিয়েছে, সে দল এই টুর্নামেন্টে ভালো কিছু করবে সেটি আশা করা সহজ ছিল না। দল হিসেবেও চেলসি বেশ তরুণ ছিল।
ফাইনালে উঠলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চ্যাম্পিয়ন পিএসজির বিপক্ষে জয় পাওয়া সহজ হবে না, এমনটাই ধারণা ছিল সবার। বিশেষ করে যেই পিএসজি সেমিফাইনালে নাকানিচুবানি খাইয়েছে রিয়াল মাদ্রিদকে।
কিন্তু সকল চিন্তাকে ভুল প্রমাণিত করে পিএসজিকেই দাঁড়াতে দেয়নি চেলসি। নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে পিএসজিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ২০২৫ ক্লাব বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন চেলসি।
ক্লাব বিশ্বাকপের শিরোপা জেতার পর সম্প্রচারক ডিএজেডএন-এর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে কোল পালমার বলেন, ‘অনেক ভালো লাগছে। বেশি ভালো লাগছে এ কারণে যে, ম্যাচের আগে সবাই আমাদের নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। আমরা এটা জানতাম। যেভাবে আমরা লড়াই করেছি, এটা আসলেই দুর্দান্ত।’
দারুণ এই জয়ের তিন গোলের দুটিই এসেছে কোল পালমারের পা থেকে। সদ্যসমাপ্ত ক্লাব বিশ্বকাপে সবমিলিয়ে তিনি গোল করেন ৩টি ও অ্যাসিস্ট দুটি। ২০২৪-২৫ মৌসুমে চেলসির জার্সিতে ৫২ ম্যাচে পালমার করেছেন ১৮ গোল। অ্যাসিস্ট করেছেন ১৪ গোলে।
তবে কেবল একা কৃতিত্ব না নিয়ে ভাগ দিয়েছেন কোচ এনজো মারেস্কাকেও, ‘তিনি দারুণ পরিকল্পনা করেছেন। সেগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পুরো মৌসুম জুড়ে অনেকেই আমাদের নিয়ে কথা বলেছেন। তবে আমার মতে সঠিক পথেই ছিলাম আমরা। আমাকে যতটা সম্ভব, মুক্তভাবে খেলতে দিয়েছেন। প্রতিদানে গোল করেছি।’
২০২২ সালে ক্লিয়ারলেক কোম্পানি ও টড বোহেলি কিনে নেন চেলসি। পরের ৩ বছরে ক্লাবটি ১০০ কোটি পাউন্ড খরচ করে খেলোয়াড় কিনতে।। বাংলাদেশি মুদ্রায় সেটি ১৬৪৫৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
২০২৪ সাল থেকে ক্লাবটির কোচের দায়িত্বে থাকা মারেস্কা এখন পর্যন্ত কনফারেন্স লিগ ও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন চেলসিকে।