মুরাস ইউনাইটেড কোচ পুসকভ সারগেই মুখে হাসি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করলেন। তার এই হাসি জয়ের হাসি। তার কোচিংয়ে এশিয়ান ক্লাব প্রতিযোগিতায় অভিষেকেই যে জয় তুলে নিয়েছে মুরাস। এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্লে-অফ ম্যাচ পেরিয়ে পা রেখেছে গ্রুপ পর্বে। সারগেইয়ের কণ্ঠে হাসি তো থাকবেই। সংবাদ সম্মেলনে সেটা বললেনও, ‘আমরা খুব খুশি যে, এখন চ্যালেঞ্জ লিগের গ্রপ পর্বে খেলব।’
অন্যদিকে আবাহনী লিমিটেড কোচ মারুফুল হকের চোখে-মুখে থাকল হতাশার ছায়া। মাঠে তার শিষ্যরা যে সব ঠিকঠাক খেলতে পারেনি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রথমেই বলে দিলেন, ‘যোগ্য দল হিসেবেই মুরাস জিতেছে।’
আবাহনীর এই ম্যাচ খেলারই কথা ছিল না। গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে রানার্সআপ হওয়ার পরও তারা চ্যালেঞ্জ লিগের প্লে-অফ খেলল তারা। কারণ প্রিমিয়ার লিগ জয়ী মোহামেডান ক্লাব লাইসেন্সিং করতে ব্যর্থ হয়েছিল। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমনে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগটা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলো আবাহনী। কেন এই ব্যর্থতা? আকাশি-নীল জার্সিধারীরা ম্যাচটা কোথায় হারল? মারুফুল মনে করেন, তার টিমের গভীরতায় ঘাটতি রয়েছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ব্যাকলাইনে আমাদের কামরুল আছে। ওর রিপ্লেসমেন্ট এখনো নেই। কিন্তু ওকে আরও আগে চেঞ্জ করা প্রয়োজন ছিল। টিম ডেপথের জন্য এ রকম হয়েছে।’ দ্বিতীয়ার্ধের একপর্যায়ে তো আবাহনীকে সেভাবে খুঁজেই পাওয়া যায়নি। মারুফুলের কথায়, ‘আপনার রিসোর্স থাকতে হবে। এনাফ রিসোর্স না থাকলে আপনি কিছুই করতে পারবেন না।’
মারুফুল বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন এবার প্রথমবারের মতো আবাহনীতে যোগ দেওয়া আল-আমিনের কথা। জাতীয় দলের এই ফরোয়ার্ড প্রথমার্ধে অতিরিক্ত অ্যাফোর্ড দিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে নিজের কাজ ঠিকঠাক করতে পারেনি। আর তাতেই দলের সুর কেটে গেছে বলে মনে করেন আবাহনী কোচ, ‘আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমার্ধ ঠিক ছিল। দ্বিতীয়ার্ধেও ঠিক ছিল। শুধু আল-আমিন প্রথমার্ধে এক্সট্রা ওয়ার্ক করে ফেলায় দ্বিতীয়ার্ধে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেনি।’ সর্বোপরি দলের পারফরম্যান্সে অসন্তুষ্ট বলেই জানিয়েছেন মারুফুল।
তোফায়েল/নিলয়/