বিসিবির নির্বাচনকে ঘিরে প্রতি মুহূর্তে নানা ঘটনার উদ্রেক হচ্ছে। এ সব ঘটনার সত্য-মিথ্যা যাচাই করার একমাত্র মাধ্যম নির্বাচন কমিশন। কিন্তু রহস্যজনকভাবে তারা নীরবতা পালন করছেন। কল রিসিভ করছেন না, আবার খুদেবার্তা দিলেও তার জবাব দিচ্ছেন না। ৩ সদস্যের বিসিবির নির্বাচন কমিশনে আছেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসাইন (প্রধান নির্বাচন কমিশনার), সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি সিবগাত উল্লাহ (সদস্য) এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক কাজী নজরুল ইসলাম (সদস্য)।
নির্বাচন কমিশনের এ রকম নীরবতা শুরু হয় মূলত ই-ভোটারের নামের তালিকা প্রকাশ করা নিয়ে। ১ অক্টোবর ই-ভোটের জন্য আবেদনের সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পরদিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানাতে পারেননি। কারণ হিসেবে ই-মেইলের সততা যাচাই করা হয়নি বলে জানিয়েছিলেন। ৪ অক্টোবর একাধিকবার খুদেবার্তা পাঠানোর পরে সাড়া দিয়ে মোট ৬৩ জন আবেদন করেছেন বলে জানানো হয়। কিন্তু কোন ক্যাটাগরিতে কয়জন আবেদন করেছেন তা তিনি জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। খুদেবার্তায় তিনি বলেন, ‘যেহেতু এটি একটি গোপন ব্যালটে নির্বাচন তাই কমিশন সব তথ্য ফাঁস করতে পারে না।’ ক্যাটাগরিভিত্তিক সংখ্যা জানানোর সঙ্গে গোপন ব্যালটের কী সম্পর্ক- জানতে চেয়ে পাল্টা প্রশ্ন করা হলে এর কোনো জবাব তিনি দেননি। এরপর থেকে তিনি সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। একটি সূত্রে জানা গেছে, ওপরের মহল থেকে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে তাদের নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে।
ই-ভোট নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেন ঢাকা বিভাগের প্রার্থী জামালপুরের কাউন্সিলর আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ানও। তিনি বলেন, ‘তারা আমাকে তথ্য দিল ৪ তারিখে যে, ৬৩ জন ই-ব্যালট নিয়েছেন। আমি বললাম, ‘আমার ৬৩ জন তো জানার দরকার নেই। দরকার আমার বিভাগে কতজন নিয়েছেন, কে কে নিয়েছেন। এই তথ্য তো আমি পেতে পারি।’ তারা বলে, ‘এই তথ্য তো আমরা দিতে বাধ্য নই। পরে তারা ফোন রেখে দেয়। আর ধরেনি।’ গতকাল তিনি নির্বাচন থকে সরে দাঁড়িয়েছেন সরকারের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ এনে। শনিবার রাজশাহী বিভাগের কাউন্সিলর হাসিবুল আলমও নির্বাচন কমিশনের কাছে ই-ভোটের তালিকা চেয়ে পাননি বলে সাংবাদিকদের জানান। ই-ভোট নিয়ে শুধু সাংবাদিক কিংবা প্রার্থীরাই নন, কাউন্সিলরও অভিযোগ করেছেন। যারা ই-ভোট দিয়েছেন তাদের ই-মেইল নির্বাচন কমিশন পেয়েছেন কি না, রিপ্লাই দিয়ে তাদের জানাননি বলে ই-ভোট দেওয়া একজন কাউন্সিলর অভিযোগ করেন।
ই-ভোট নিয়ে সমস্যা এখানেই শেষ হয়ে যায়নি। আদালতের রায়ে ১৫টি ক্লাব তাদের কাউন্সিলরশিপ ফিরে পেলে সেখানে একজন প্রার্থী থাকায় তিনিও তার প্রার্থিতা ফিরে পান। এর ফলে ব্যালট পেপারে তার নাম থাকবে কি না, সে বিষয়ে জানতে চেয়েও কোনো রকম সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে, ইফতেখার রহমানের নাম দিয়ে নতুন করে ব্যালট পেপার ছাপানো হচ্ছে। এদিকে ই-ভোট যারা দিয়েছেন তাদের কাছে পাঠানো ব্যালট পেপারে আবার ইফতেখার রহমানের নাম ছিল না। কিন্তু তাদের অনেকেই ১৬ জন থেকে ১২ জনকে ভোট দিয়ে ব্যালেট পেপার আবার নির্বাচন কমিশনে ই-মেইল করে পাঠিয়ে দেন। এর ফলে ইফতেখার রহমানের নাম দিয়ে নতুন করে যে ব্যালট পেপার ছাপানো হচ্ছে, সেখানে ই-ভোটের ক্ষেত্রে কী হবে? এ বিষয়টিও প্রধান নির্বাচন কমিশনের নীরবতার কারণে জানা যায়নি। বিষয়টি অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে, ই-ভোটের ব্যালট পেপার নতুন করে তাদের কাছে পাঠানো হবে। এই খবর নিতে গিয়ে পাওয়া গেছে নতুন একটি তথ্য। ই-ভোটের আবেদন যারা করেছিলেন, তাদের নতুন করে ভোট দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করছেন দুজন হ্যাভিওয়েট প্রার্থী! কেন তারা করছেন, তারা এভাবে করতে পারেন কি না, কে তাদের এই অধিকার দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন কেন যোগাযোগ করছে না বা করেছে কি না এ বিষয়ও জানা যায়নি।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে শুধু ই-ভোট নিয়েই অভিযোগ নয়, আরও অভিযোগ আছে। ভোটারাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে সরে দাঁড়ানো দুই প্রার্থীর অভিযোগ- নির্বাচন কমিশনের নীরবতার কারণে। এ ব্যাপারেও তারা কমিশন থেকে হতাশ হয়েছেন। রাজশাহী বিভাগের প্রার্থী হাসিবুল আলম জানান ওপরের মহলের নির্দেশে ভোটারদের বিশেষ একটি জায়গায় রাখাতে তিনি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। বিষয়টি তিনি নির্বাচন কমিশনকে জানাতে চেয়েও পারেননি। একই রকম অভিযোগ আছে আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ানেরও। তিনি বলেন, ‘আমি যদি একজন ভোটারের কাছে ভোটই চাইতে না পারি, কিসের ভোট? আমি চারজন কাউন্সিলরের ফোন নম্বর এখন পর্যন্ত পাইনি। তাহলে আমি কীভাবে ভোট করব? ভোটটা তো স্বচ্ছ হচ্ছে না।’
পলাশ/নিলয়/