ইতিহাস, প্রতিশোধ আর স্বপ্ন; সব এক সুতোয় গাঁথা আজ মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও ইংল্যান্ড। দুই দলই জানে, এই ম্যাচ মানে শুধু আরেকটি জয় নয়; এটি ফাইনালের টিকিট। আর সেটি হবে দুই দলের ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো।
ভারত ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন। গত আসরে ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে হারিয়েই তারা ফাইনালে উঠেছিল এবং সেখানে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলেছিল। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের স্মৃতিতে সেই হার এখনো দগদগে। তাই আজকের লড়াইয়ে প্রতিশোধের আগুনও কম নয় ইংলিশ শিবিরে।
ভারতের গ্রুপ পর্ব ছিল প্রায় নিখুঁত; চার ম্যাচে চার জয়। ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই ছিল দাপট। তবে সুপার এইটে এসে কিছুটা ধাক্কা খায় সূর্যকুমারের দল। তিন ম্যাচের একটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বড় হার ভারতের আত্মবিশ্বাসে সামান্য হলেও আঁচড় কেটেছে।
ইংল্যান্ডের পথচলা উল্টো। গ্রুপ পর্বে একমাত্র হার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হলেও সুপার এইটে তিন ম্যাচেই জয় তুলে নেয় হ্যারি ব্রুকের দল। সেই ধারাবাহিকতা ইংলিশ শিবিরে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।
কৌশলের লড়াই
এই সেমিফাইনাল নির্ধারিত হতে পারে সূক্ষ্ম কৌশলে। ভারতের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের বড় অস্ত্র জফরা আর্চার। শর্ট বল আর গতির মিশেলে তিনি ম্যাচের রং বদলে দিতে পারেন। তবে নজর থাকবে সঞ্জু স্যামসনের ব্যাটের দিকে। আর্চারের শর্ট বল সামলানো তার জন্য বড় পরীক্ষা হলেও, এই বিশ্বকাপে পেছনের দিকে রান বের করার দক্ষতা তাকে ভরসা দিচ্ছে।
মাঝের ওভারে ইংল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণের প্রতীক আদিল রশিদ। লেগস্পিনে তিনি রান আটকে রেখে উইকেট এনে দিতে পারেন। ভারতের পরিকল্পনায় তাই তাকে আক্রমণাত্মকভাবে খেলার চেষ্টা থাকবে।
ভারতের পক্ষে রহস্যময় তাস বরুণ চক্রবর্তী। তাকে পাওয়ার প্লে থেকে দূরে রেখে সঠিক সময়ে আক্রমণে আনা হতে পারে। নতুন বলে আবার চোখ থাকবে আর্শদীপ সিং বনাম ফিল সল্ট দ্বৈরথে; শর্ট বল এখানে বড় ঝুঁকি হলেও, উইকেট এনে দিতে পারে ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত।
মুখোমুখি
সব দিক থেকেই এগিয়ে ভারত। ২৯ টি-টোয়েন্টিতে ভারতের জয় ১৭টি, ইংল্যান্ডের ১২টি। বিশ্বকাপে দুই দল মোকাবিলা করেছে ৫ বার। তাতে ভারতের জয় তিনটি, ইংল্যান্ডের দুটি। তবে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম ভারতের জন্য খুব একটা লাকি না। এই মাঠে ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতলেও কয়েকবার বৈশ্বিক মঞ্চের সেমিতে এখানেই হারতে হয়েছে ভারতকে। যদিও ভারত কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কারের আশা, ওয়াংখেড়ের ভাগ্য এবার বদলে দেবে ভারত।
ওয়াংখেড়ের ছোট বাউন্ডারি, দ্রুত আউটফিল্ড আর সেমিফাইনালের চাপ; সব মিলিয়ে আজকের ম্যাচ নিখাদ টি-টোয়েন্টি রোমাঞ্চের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। ভারত চাইবে ঘরের মাঠে ইতিহাস ধরে রাখতে। ইংল্যান্ড চাইবে অতীতের হিসাব চুকিয়ে নতুন গল্প লিখতে। শেষ পর্যন্ত ভাগ্য, সাহস আর সঠিক সিদ্ধান্ত; এই তিনের মেলবন্ধনই ঠিক করে দেবে, কে যাবে ফাইনালে।
চঞ্চল/অনিক/