বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ২০২৫ সালের নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে বোর্ডের স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য সংবিধান সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) গঠিত পাঁচ সদস্যের স্বাধীন তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান, অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান রবিবার (৫ এপ্রিল) এসব তথ্য জানান।
গত বছরের বিসিবি নির্বাচন নিয়ে তদন্তের দাবিতে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে আবেদন করা হলে এনএসসি এই কমিটি গঠন করে। দাবি করা হয়, রাজধানীর ৭৬টি ক্লাবের মধ্যে ৫০টি এই তদন্তের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিল। পরবর্তীতে দেশের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানায়, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই তারা বিসিবির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর এনএসসি প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আপনারা জানেন, আমাদের এখানে আসার কারণ ছিল একটি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া। আমরা আমাদের তদন্ত শেষ করেছি এবং আজ সেই প্রতিবেদন জমা দিতে এসেছি। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এটি হস্তান্তর করেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছি। যাদেরই কোনো সম্পৃক্ততা পেয়েছি, তাদের সবার সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা যা পেয়েছি, তার ভিত্তিতে সংক্ষিপ্ত ও ন্যায্য একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছি, কোনো ভিত্তিহীন অভিযোগ না এনে। আমরা নির্বাচন সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণগুলো যেমন পেয়েছি তেমনভাবেই তুলে ধরেছি। আপনারা প্রতিবেদনটি দেখলে বিস্তারিত বুঝতে পারবেন; আমরা কাউকে নির্দিষ্টভাবে লক্ষ্য করিনি; বরং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ দিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই মুহূর্তে (প্রতিবেদন নিয়ে) মন্তব্য করা আমার জন্য উপযুক্ত হবে না। আমরা প্রতিবেদনটি মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। তারা এটি পর্যালোচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করবে।’
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি আবারও জোর দিয়ে বলছি- আমরা কোনো বিচারিক আদালত নই। আমরা কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা বা ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়া (যেমন ধারা ৪৩২) অনুসরণ করার জন্য সেখানে ছিলাম না। সেটি আমাদের দায়িত্বও ছিল না। আমরা তদন্ত করেছি, আইনি প্রক্রিয়াগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না তা দেখার জন্য। আমরা কাউকে ‘অভিযুক্ত’ করিনি। আমরা ব্যবস্থার ওপর প্রতিবেদন দিয়েছি- কি ঘটেছে, কি ঘটেনি। ভবিষ্যতে নির্বাচন যাতে অনিয়মমুক্ত হয় এবং বোর্ডের কার্যক্রম কীভাবে উন্নত করা যায়, সে বিষয়ে আমরা কিছু নির্দেশনা দিয়েছি। হ্যাঁ, (সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি) সুপারিশের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’
সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, যাকে বিসিবি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে দাবি করা হয়, তাকে হাজির হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলেও তিনি কমিটির সামনে উপস্থিত হননি। আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম, তার বক্তব্য শোনার জন্য এবং তিনি কিছু যোগ করতে চান কি না তা জানার জন্য। অভিযুক্ত হিসেবে নয়, বরং মতামত দেওয়ার জন্য। আমরা তাকে সময় দিয়েছি এবং ডেকেছি, কিন্তু তিনি কমিটির সামনে আসেননি।’
১১ মার্চ গঠিত এই তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। অন্যান্য সদস্যরা হলেন- যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সেলিম ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি প্রশাসন ও দক্ষিণ) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম, ক্রীড়া সাংবাদিক এটিএম সাঈদ উজ্জামান এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সালেহ আকরাম সম্রাট।
অনিক/