মিরপুরের পর সিলেটেও বিজয় কেতন উড়িয়েছে বাংলাদেশ। টাইগারদের দাপুটে পারফরম্যান্সের সিরিজে পাকিস্তান হয়েছে নাকাল। মিরপুরে প্রথম টেস্টে স্বাগতিকদের জয়ের নায়ক ছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, হন ম্যাচসেরা। সিলেটে বাংলাদেশের দ্বিতীয়টি টেস্ট জয়ের নায়ক লিটন দাস, যিনি তার সেঞ্চুরিকে ক্যারিয়ার সেরা মানছেন।
মিরপুর টেস্টে বড় স্কোর পাননি লিটন। দুই ইনিংসে করেছিল ৩৩ ও ১১ রান। সিলেটে তার ব্যাট থেকেই আসে ১২৬ ও ৬৯ রানের অনবদ্য দুই ইনিংস। সবুজাভ ব্যাটিং উইকেটে ধ্বংসস্তুপে দাঁড়িয়ে আলো ছড়ান ক্লাসিক এই ব্যাটার।
ম্যাচসেরার পুরস্কার গ্রহণের পর লিটন বলেন, ‘সত্যি বলতে, আগের দুই ইনিংসে আমি রান পাইনি। তারপরও (সিলেট টেস্টে) যখন উইকেটে গেলাম, তখন বড় কিছু করতেই হবে- এমন কোনো চাপ ছিল না। কিন্তু হঠাৎ কয়েকটি উইকেট পড়ে গেল এবং আমি একটু অনিশ্চয়তায় পড়ে যাই, কী করা উচিত বুঝতে পারছিলাম না।’
“তখন আমি অধিনায়কের দিকে ফিরে জিজ্ঞেস করলাম, আমার কী করা উচিত। সে বলল, ‘আক্রমণাত্মক খেলো, আমাদের রান দরকার।’ এরপর আমি শুধু আমার শক্তির জায়গাগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। দুটি বাউন্ডারি মারার পর আমার মনে হলো, না, এটা টেস্ট ক্রিকেট। আমাকে আরও কয়েক ওভার খেলতে হবে, কারণ যেকোনো দিন বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।”
পুরো সিরিজেই ছয় নাম্বারে ব্যাট করেছেন লিটন। সিলেটে যখন প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামেন, তখন দলের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ১০৬ রান। অল্প সময়ের মধ্যেই তা হয়ে যায় ৬ উইকেটে ১১৬ রান। সেখান থেকে দলকে ২৭৮ রান পর্যন্ত টেনে নিয়ে যান লিটন। তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। লেজের ব্যাটারদের তার এমন লড়াই নজর কেড়েছে সবার।
লিটন বলেন, ‘(লেজের ব্যাটারদের সঙ্গে খেলার সময় সিঙ্গেল নিতে অস্বীকৃতি জানানো প্রসঙ্গে) এভাবে যদি আমি তাদের সুযোগ দিতাম, তাহলে হয়তো আমাকে ৫০ রানেই থেমে যেতে হত। তাই আমি নিজেকে মনে করিয়ে দিচ্ছিলাম যে আমাকে আরও বেশি বল খেলতে হবে এবং তাদের নিরাপদ রাখতে হবে। কারণ তারা নিরাপদ থাকলে আমিও নিরাপদ থাকি।’
এটাই ক্যারিয়ারের সেরা সেঞ্চুরি কি না- এমন প্রশ্নে টাইগার কিপার-ব্যাটারের হাসিমাখা বক্তব্য ছিল, ‘আপনি বলতে পারেন। কারণ লেজের ব্যাটারদের সঙ্গে ব্যাটিং করা সহজ নয় এবং সব ফিল্ডার বাইরের দিকে ছিল। প্রথম দিনের উইকেটও খুব সহজ ছিল না, আউটফিল্ডও ছিল ধীরগতির।’
অনিক/