জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী গান ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার’-রচনার শতবর্ষ পূর্তি হয়েছে। এ উপলক্ষে ১৪টি সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় কবির ‘কাণ্ডারি হুঁশিয়ার’ গান ও কবিতার শতবর্ষ পালনের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
সংকটময় সামাজিক বাস্তবতায় কবি নজরুলের সৃষ্টিসম্ভার ও সাম্যবাদী চেতনার প্রাসঙ্গিকতাকে বিশেষভাবে স্মরণ করে এই যৌথ বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের প্যাডে ১৪টি সংগঠনের পক্ষে এক যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই কথা জানানো হয়েছে।
সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ নজরুলসঙ্গীত সংস্থা, জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদ, জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থা, বাংলাদেশ সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, জাতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষা আন্দোলন; বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী উল্লেখ্যযোগ্য।
বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯২৬ সালে আত্মধ্বংসী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ক্ষুব্ধ ও বিচলিত হয়ে কাজী নজরুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে এই কালজয়ী গানটি রচনা করেন এবং এতে সুরারোপ করেন। ওই বছরের ২২ মে কৃষ্ণনগরে আয়োজিত প্রাদেশিক সম্মেলনে তিনি প্রথম গানটি গেয়ে শোনান। পরবর্তীতে ‘কাণ্ডারি হুঁশিয়ার’ শিরোনামে গানটি ‘বঙ্গবাণী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ‘কালিকলম’ পত্রিকায় এর নজরুল-কৃত স্বরলিপি প্রকাশ পায়।
১৯২৬ সালের জুন মাসেই নজরুল ঢাকায় এসে মুসলিম সাহিত্য সমাজের বার্ষিক অধিবেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই গানটি পরিবেশন করেছিলেন।
যৌথ বিবৃতিতে সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজকে ধর্মাদর্শকে বিকৃত করে অধর্মাচার মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে, সমাজমানস কলুষিত করে হিংসা-বিদ্বেষ ও ঘৃণা সঞ্চার করছে। অপর ধর্ম, অপর বিশ্বাস ও অপর আচারকে সহিষ্ণুভাবে আঘাত হানছে। এসময় নজরুলের ‘কাণ্ডারি হুঁশিয়ার’ আমাদের সতর্ক করে দিচ্ছে। এই গানের শতবর্ষ উদযাপনের মধ্য দিয়ে বর্তমান সংকট থেকে মুক্তির দিশা খুঁজে পাওয়া সম্ভব।’
জয়ন্ত সাহা/এসএন