নওগাঁয় ৫ দিনব্যাপী কত্থক নৃত্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে।
নওগাঁর নৃত্য বিষয়ক ঐতহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান "নৃত্য রং একাডেমী" এই উচ্চাঙ্গ নৃত্য (কত্থক) প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করেছে।
শহরের প্যারীমোহন লাইব্রেরী মিলনায়তনে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক এস এম সিরাজুল ইসলাম, জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও আবৃত্তি পরিষদের সভাপতি কায়েস উদ্দিন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ঐক্যের সভাপতি মনোয়ার হোসেন লিটন, হাতে খড়ি'র সম্পাদক নওরীন আকতার শারমিন, মানবাধিকার নেতা চন্দন কুমার দেব, পুতুল ব্যানার্জী নৃত্য রং একাডেমি'র পরিচালক সুলতান মাহমুদ ও লিজা সুলতান প্রমুখ।
৩০ জন শিশু ও কিশোরী অংশগ্রহণ করছে কর্মশালায়। এতে প্রশিক্ষণ দেবেন দেশের খ্যাতিমান কত্থক নৃত্য শিল্পী সাজু আহমেদ। আগামী ৩ জুন পর্যন্ত চলবে এই কর্মযজ্ঞ। সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করা শিক্ষার্থীদের সনদ দেওয়া হবে।
বরেণ্য ব্যক্তিত্ব বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ-এর কর্মময় জীবন নিয়ে স্মারক গ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে বারাকাহ ফাউন্ডেশন।
প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে আমৃত্যু কাজ করে গেছেন।
নাগরিক সমাজের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব বিচারপতি রউফ দেশ-জাতির কল্যাণে সবসময় বলিষ্ঠ কন্ঠ ছিলেন। ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি ইন্তেকাল করেন।
দেশ-বিদেশে তার অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা এই স্মারক গ্রন্থে লেখা, স্মৃতিচারণ, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের ছবি ও তথ্য দিয়ে অংশ নিতে পারেন। নির্বাচিত লেখা ও বিষয় অন্তর্ভুক্ত হবে।
আগামি ৯ জুনের মধ্যে লেখা, ছবি ও তথ্য পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী গান ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার’-রচনার শতবর্ষ পূর্তি হয়েছে। এ উপলক্ষে ১৪টি সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় কবির ‘কাণ্ডারি হুঁশিয়ার’ গান ও কবিতার শতবর্ষ পালনের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
সংকটময় সামাজিক বাস্তবতায় কবি নজরুলের সৃষ্টিসম্ভার ও সাম্যবাদী চেতনার প্রাসঙ্গিকতাকে বিশেষভাবে স্মরণ করে এই যৌথ বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের প্যাডে ১৪টি সংগঠনের পক্ষে এক যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই কথা জানানো হয়েছে।
সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ নজরুলসঙ্গীত সংস্থা, জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদ, জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থা, বাংলাদেশ সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, জাতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষা আন্দোলন; বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী উল্লেখ্যযোগ্য।
বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯২৬ সালে আত্মধ্বংসী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ক্ষুব্ধ ও বিচলিত হয়ে কাজী নজরুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে এই কালজয়ী গানটি রচনা করেন এবং এতে সুরারোপ করেন। ওই বছরের ২২ মে কৃষ্ণনগরে আয়োজিত প্রাদেশিক সম্মেলনে তিনি প্রথম গানটি গেয়ে শোনান। পরবর্তীতে ‘কাণ্ডারি হুঁশিয়ার’ শিরোনামে গানটি ‘বঙ্গবাণী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ‘কালিকলম’ পত্রিকায় এর নজরুল-কৃত স্বরলিপি প্রকাশ পায়।
১৯২৬ সালের জুন মাসেই নজরুল ঢাকায় এসে মুসলিম সাহিত্য সমাজের বার্ষিক অধিবেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই গানটি পরিবেশন করেছিলেন। যৌথ বিবৃতিতে সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজকে ধর্মাদর্শকে বিকৃত করে অধর্মাচার মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে, সমাজমানস কলুষিত করে হিংসা-বিদ্বেষ ও ঘৃণা সঞ্চার করছে। অপর ধর্ম, অপর বিশ্বাস ও অপর আচারকে সহিষ্ণুভাবে আঘাত হানছে। এসময় নজরুলের ‘কাণ্ডারি হুঁশিয়ার’ আমাদের সতর্ক করে দিচ্ছে। এই গানের শতবর্ষ উদযাপনের মধ্য দিয়ে বর্তমান সংকট থেকে মুক্তির দিশা খুঁজে পাওয়া সম্ভব।’
দুর্ঘটনায় নিহত যুবদল নেতা পলাশ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
নওগাঁয় সড়ক দুর্ঘটনায় যুবদল নেতা পলাশ হোসেন (৩৩) নিহত হয়েছেন। তিনি বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়ন যুবদলের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যার দিকে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া জিয়া নগরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্বজনরা জানান, বিকেলে পলাশ ও পাহাড়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিল্লুর রহমান মাস্টার বগুড়া থেকে মোটর সাইকেলে নওগাঁয় আসছিলেন। সন্ধ্যার কিছু আগে জেলার দুপচাঁচিয়া জিয়া নগর অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজির সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পলাশ মারা যান। তার সঙ্গে থাকা জিলু রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয়রা। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বদলগাছী থানার ওসি (তদন্ত) নজরুল ইসলাম জানান, মরদেহ এখনও দুপচাঁচিয়া পুলিশ হেফাজতেই আছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে মরদেহ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় দর্শকনন্দিত 'বনলতা এক্সপ্রেস' সিনেমোর প্রদর্শনী বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ ও প্রশাসন।
শনিবার (৩০ মে) রাতে কসবা উপজেলার তালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুলিশ গিয়ে প্রদর্শনী বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন আয়োজক আদিব রেজা রঙ্গণ।
তিনি তালতলা গ্রামের বাসিন্দা এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)- এর শিক্ষার্থী।
এর আগে শনিবার বিকেলে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের বিরোধীতার কারণে জেলা সদরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে 'বনলতা এক্সপ্রেস'- এর প্রদর্শনী স্থগিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা সদরে প্রদর্শনী স্থগিত হওয়ার কারণে কসবার তালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে 'বনলতা এক্সপ্রেস' সিনেমা প্রদর্শনীর আয়োজন করে কার্টুনিস্ট আদিব রেজা রঙ্গণ। তবে সিনেমা প্রদর্শনী শুরুর আগমুহূর্তে কসবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানজিল কবির ও কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানার নেতৃত্বে পুলিশ গিয়ে প্রদর্শনী বন্ধ করে দেয়।
প্রদর্শনীর আয়োজক আদিব রেজা রঙ্গণ বলেন, আমাদের পারিবারিক একটি প্রীতিভোজের আয়োজন ছিল। ভোজ শেষে রাত ১১টায় সিনেমা প্রদর্শনীর কথা ছিল। এজন্য পর্দা এবং চেয়ার প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু প্রদর্শনী শুরুর ১৫ মিনিট আগে পুলিশ আসে। ৫-৭ গাড়ি পুলিশ এসেছিল। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং থানার ওসিও ছিলেন। তারা জানায় যে, সিনেমাটা নিয়ে জেলা শহরে বিতর্ক চলছে। সেজন্য এটা বন্ধ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ওনাদেরকে আমি বুঝিয়েছি যে সিনেমাটাতে অশ্লীল কিছু নেই। বিতর্কের কোনো কারণ নেই। কিন্তু তারা শেষ পর্যন্ত আমাদের প্রদর্শন করতে দেয়নি।
তবে ৫-৭ গাড়ি পুলিশ নিয়ে সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধের অভিযোগ অস্বীকার করে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, আমাদের একজন অফিসার ও দুইজন কনস্টেবল এবং আমি ও এসিল্যান্ড গিয়েছিলাম। ৭ গাড়ি পুলিশ কোথায় পাব? এতো পুলিশ আমার থানাতেও নেই। সিনেমা প্রদর্শনীর অনুমতি আছে কিনা- সেট জানার জন্যই আমরা গিয়েছিলাম। কিন্তু অনুমতি না থাকায় তারাই প্রদর্শনী বন্ধ করে দেয়।
কসবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানজিল কবির বলেন, ওখানে রাতের বেলা একটা প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়েছিল মনে হয়। একজন অভিযোগ করে সেখানে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে। তখন থানা পুলিশ বিষয়টি অবগত হয়। কিন্তু আমরা সেখানে গিয়ে সিনেমা প্রদর্শনীর কিছু দেখতে পাইনি। পরবর্তীতে ওনারাও বলেছেন যে এখানে কোনো আয়েজন নাই, সবকিছু সরিয়ে নিচ্ছি।
চেতনার কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কলকাতায় গোর্কি সদনে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) গানে, কবিতায় কবিকে স্মরণ করেন কলকাতার নজরুলপ্রেমীরা।
ছায়ানট কলকাতা’র সংগ্রহ থেকে নজরুল-বিষয়ক বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই কলকাতায় রুশ দূতাবাসের কনসাল জেনারেল ম্যাক্সিম কোজলভ নজরুলকে 'বিদ্রোহী' কবির পাশাপাশি 'প্রেমিক' কবি হিসেবে তুলে ধরেন। নজরুলের লেখা 'কবি-রানি' কবিতাটি তিনি বাংলা ও রুশ ভাষায় পাঠ করেন। তার কণ্ঠে এই কবিতা শুনে কলকাতার সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ আবেগবিহ্বল হয়ে পড়েন।
বাঙালির হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ, চেতনায় নজরুল। দুই মনীষীকে স্মরণ করে বিশিষ্ট রুশ ইতিহাসবিদ নাতালিয়া গেরাসিমোভার লেখা কবিতা বাংলা ও রুশ ভাষায় পাঠ করেন ম্যাক্সিম কোজলভ। কলকাতায় রুশ দূতাবাসের ভাইস কনসাল একাতেরিনা তুরিনা বাংলায় এবং রুশ ভাষায় পাঠ করেন নজরুলের লেখা স্বল্পশ্রুত কবিতা 'ভীরু'। গোর্কি সদনের রুশ ভাষা শিক্ষা বিভাগের ছাত্রীদের পরিবেশনা অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করে। তাদের কণ্ঠে শোনা যায় ২টি জনপ্রিয় নজরুল-সঙ্গীত 'আমি যার নূপুরের ছন্দ' এবং 'দুর্গম গিরি কান্তার মরু'।
কলকাতায় রুশ দূতাবাসের কনসাল জেনারেল ম্যাক্সিম কোজলভ ও ভাইস কনসাল একাতেরিনা তুরিনা অনুষ্ঠানে আলোচনা করছেন। ছবি: সংগৃহীত
সোমঋতা মল্লিকের পরিচালনায় ছায়ানট কলকাতা’র শিল্পীবৃন্দ সমবেতভাবে নজরুলের দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন। 'মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম', 'নবীন আশা জাগলো যে রে আজ', 'চল্ চল্ চল্', 'কারার ওই লৌহ কপাট' -গানগুলির সঙ্গে দর্শকরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে গলা মেলান।
এরপর ইন্দ্রাণী চৌধুরী নজরুলের লেখা 'বিজয়িনী' কবিতাটি পাঠ করেন। পরবর্তীতে পরিবেশিত হয় 'নজরুলের প্রাণপ্রিয় বুলবুল'। কাজী নজরুল ইসলামের জীবনে তার অকালপ্রয়াত দ্বিতীয় পুত্রের প্রভাবের কথা তুলে ধরা হয়। কবিতায় অংশগ্রহণ করেন রাজশ্রী বসু, তিস্তা দে এবং দেবলীনা চোধুরী। সোমঋতার কণ্ঠে শোনা যায় 'শূন্য এ বুকে পাখি মোর' গানটি, নজরুলপ্রেমীদের চোখ আর্দ্র হয়ে ওঠে। নজরুল রচিত ২টি শ্যামা-সঙ্গীত অনুষ্ঠানে অন্য মাত্রা যোগ করে।
অনুষ্ঠান শেষ হয় সোমঋতার কণ্ঠে 'আমি চিরতরে দূরে চলে যাব' গানটি পরিবেশনার মধ্য দিয়ে।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন গোর্কি সদনের পক্ষে শ্রী গৌতম ঘোষ। তার সাবলীল সঞ্চালনা এবং নজরুলকে নিয়ে ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণা অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর কলকাতায় গোর্কি সদনে বিশেষ অনুষ্ঠানে রাশিয়ান ফেডারেশনের কনসাল জেনারেল ম্যাক্সিম কোজলভ - এর হাতে ছায়ানট কলকাতা’র পক্ষ থেকে একটি বিশেষ ছবি তুলে দেওয়া হয়। ছবিটির বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে-রাশিয়ান ভাষায় অনূদিত নজরুল রচনা-প্রকাশ অনুষ্ঠানে সোভিয়েত প্রতিনিধিদের মাঝখানে নজরুল (১৯৬৭)। কাজী নজরুল ইসলামের সুহৃদ মুজফ্ফর আহ্মদ- এর স্মৃতিকথা থেকে জানা যায়, "শুনেছি (চোখে দেখিনি) 'সাম্যবাদী' তখন রুশ ভাষায় তর্জমা করা হয়েছিল।" 'বর্তমান বিশ্ব-সাহিত্য' প্রবন্ধে নজরুল বিশ্বের মহান সাহিত্যিকদের সাহিত্যকর্ম নিয়ে চমৎকার আলোচনা করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই রুশ সাহিত্যিক ম্যাক্সিম গোর্কির কথা উঠে এসেছে।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন গোর্কি সদনের পক্ষে শ্রী গৌতম ঘোষ। ছবি: সংগৃহীত
গোর্কি সম্পর্কে নজরুল বলেছেন -"তারপর এল এই মহাপ্লাবনের ওপর তুফানের মতো - ভয়াবহ সাইক্লোনের মতো বেগে ম্যাক্সিম গোর্কি। চেকভের নাট্যমঞ্চ ভেঙে পড়ল, সে বিস্ময়ে বেরিয়ে এসে এই ঝড়ের বন্ধুকে অভিবাদন করলে। বেদনার ঋষি দস্তয়েভস্কি বললে : তোমার সৃষ্টির জন্যই আমার এ তপস্যা। চালাও পরশু, হানো ত্রিশূল! বৃদ্ধ ঋষি টলস্টয় কেঁপে উঠলেন। ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে বলে উঠলেন : That man has only one God and that is Satan. কিন্তু এই তথাকথিত শয়তান অমর হয়ে গেল, ঋষির অভিশাপ তাকে স্পর্শও করতে পারলে না।
গোর্কি বললেন: দুঃখ-বেদনার জয়গান গেয়েই আমরা নিরস্ত হব না — আমরা এর প্রতিশোধ নেব। রক্তে নাইয়ে অশুচি পৃথিবীকে শুচি করব।"
নজরুল গবেষক মাহবুবুল হকের নজরুল তারিখ অভিধান থেকে জানা যায়- ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই খ্যাতনামা রুশ লেখক মক্সিম গোর্কির মৃত্যুতে (১৮ জুন, ১৯৩৬) প্রগতি লেখক সংঘের উদ্যোগে কলকাতার অ্যালবার্ট হলের কমিটি রুমে যে শোক সভা হয় তার অন্যতম আহ্বায়ক ছিলেন নজরুল। নজরুল ছাড়াও এ সভায় উপস্থিত ছিলেন সতেন্দ্রনাথ মজুমদার, সুরেন্দ্রনাথ গোস্বামী, হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, বিবেকান্দ মুখোপাধ্যায়, খগেন্দ্রনাথ সেন প্রমুখ। এই সভা থেকেই নরেশচন্দ্র সেনগুপ্তকে সভাপতি ও সুরেন্দ্রনাথ গোস্বামীকে সম্পাদক করে নিখিল বঙ্গ প্রগতি লেখক সংঘ গঠনের কথা ঘোষিত হয়।
এইসব তথ্যের ভিত্তিতে সহজেই বলা যায় - রুশ বিপ্লব, রুশ সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত ছিলেন চেতনার কবি নজরুল। তাই নজরুল জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে গোর্কি সদনে তার স্মরণে ছায়ানট (কলকাতা) এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গত ১৮ বছর ধরে কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সৃষ্টির বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করছে ছায়ানট (কলকাতা)। শুধুমাত্র কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী কিংবা প্রয়াণ দিবস স্মরণ করা নয়, সারা বছর ধরেই তার সৃষ্টি নিয়ে চর্চা করাই ছায়ানটের উদ্দেশ্য। নজরুল স্মৃতিবিজড়িত জায়গাগুলির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নজরুলপ্রেমীদের অবগত করাও ছায়ানটের কার্যক্রমের অংশ।
ছায়ানট কলকাতা’র শিল্পীবৃন্দ। ছবি: সংগৃহীত
ছায়ানট কলকাতা’র সভাপতি সোমঋতা মল্লিক বলেন, "আমরা জানতে পারি, নজরুলের বেশ কিছু সাহিত্যকর্ম রুশ ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং এই বিশেষ ছবির সন্ধান পাই যা সত্যি আমাদের চমৎকৃত করে। সেই ছবিটি গোর্কি সদনে রাশিয়ান ফেডারেশনের কনসাল জেনারেল ম্যাক্সিম কোজলভ - এর হাতে তুলে দিতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত। বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি গোর্কি সদনের প্রোগ্রাম অফিসার শ্রী গৌতম ঘোষের প্রতি, তার আন্তরিক সহযোগিতায় আমাদের স্বপ্নপূরণ হয়েছে।
আশা করি গোর্কি সদনের সংগ্রহশালায় যত্ন সহকারে প্রদর্শিত হবে এই ছবি, সংস্কৃতিমনস্ক মানুষেরা এলে সহজেই দেখতে পাবেন। আজ এই বিশেষ অনুষ্ঠানে আমাদের প্রাণের কবিকে স্মরণ করতে পেরে আমরা সত্যিই অভিভূত।"