ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় দর্শকনন্দিত 'বনলতা এক্সপ্রেস' সিনেমোর প্রদর্শনী বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ ও প্রশাসন।
শনিবার (৩০ মে) রাতে কসবা উপজেলার তালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুলিশ গিয়ে প্রদর্শনী বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন আয়োজক আদিব রেজা রঙ্গণ।
তিনি তালতলা গ্রামের বাসিন্দা এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)- এর শিক্ষার্থী।
এর আগে শনিবার বিকেলে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের বিরোধীতার কারণে জেলা সদরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে 'বনলতা এক্সপ্রেস'- এর প্রদর্শনী স্থগিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সিনেমাটি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল সংগঠনটি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা সদরে প্রদর্শনী স্থগিত হওয়ার কারণে কসবার তালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে 'বনলতা এক্সপ্রেস' সিনেমা প্রদর্শনীর আয়োজন করে কার্টুনিস্ট আদিব রেজা রঙ্গণ। তবে সিনেমা প্রদর্শনী শুরুর আগমুহূর্তে কসবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানজিল কবির ও কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানার নেতৃত্বে পুলিশ গিয়ে প্রদর্শনী বন্ধ করে দেয়।
প্রদর্শনীর আয়োজক আদিব রেজা রঙ্গণ বলেন, আমাদের পারিবারিক একটি প্রীতিভোজের আয়োজন ছিল। ভোজ শেষে রাত ১১টায় সিনেমা প্রদর্শনীর কথা ছিল। এজন্য পর্দা এবং চেয়ার প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু প্রদর্শনী শুরুর ১৫ মিনিট আগে পুলিশ আসে। ৫-৭ গাড়ি পুলিশ এসেছিল। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং থানার ওসিও ছিলেন। তারা জানায় যে, সিনেমাটা নিয়ে জেলা শহরে বিতর্ক চলছে। সেজন্য এটা বন্ধ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ওনাদেরকে আমি বুঝিয়েছি যে সিনেমাটাতে অশ্লীল কিছু নেই। বিতর্কের কোনো কারণ নেই। কিন্তু তারা শেষ পর্যন্ত আমাদের প্রদর্শন করতে দেয়নি।
তবে ৫-৭ গাড়ি পুলিশ নিয়ে সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধের অভিযোগ অস্বীকার করে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, আমাদের একজন অফিসার ও দুইজন কনস্টেবল এবং আমি ও এসিল্যান্ড গিয়েছিলাম। ৭ গাড়ি পুলিশ কোথায় পাব? এতো পুলিশ আমার থানাতেও নেই। সিনেমা প্রদর্শনীর অনুমতি আছে কিনা- সেট জানার জন্যই আমরা গিয়েছিলাম। কিন্তু অনুমতি না থাকায় তারাই প্রদর্শনী বন্ধ করে দেয়।
কসবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানজিল কবির বলেন, ওখানে রাতের বেলা একটা প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়েছিল মনে হয়। একজন অভিযোগ করে সেখানে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে। তখন থানা পুলিশ বিষয়টি অবগত হয়। কিন্তু আমরা সেখানে গিয়ে সিনেমা প্রদর্শনীর কিছু দেখতে পাইনি। পরবর্তীতে ওনারাও বলেছেন যে এখানে কোনো আয়েজন নাই, সবকিছু সরিয়ে নিচ্ছি।
আজিজুল সঞ্চয়/এসএন