ঢাকা ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, রোববার, ২৬ মে ২০২৪

তেজগাঁও কলেজে অনুষ্ঠিত হলো স্মার্ট কর্মসংস্থান মেলা’২৪

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৪, ০৬:৩৩ পিএম
তেজগাঁও কলেজে অনুষ্ঠিত হলো স্মার্ট কর্মসংস্থান মেলা’২৪

২০৪১ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ থেকে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে বর্তমানে দেশে শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের জন্য স্মার্ট কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের উদ্যোগে মঙ্গলবার (১৪ মে) কলেজ প্রাঙ্গনে স্মার্ট কর্মসংস্থান মেলা’২৪ আয়োজন করা হয়। মেলার সহযোগীতায় ছিল সরকারের একসেস টু ইনফরমেশন প্রকল্প (এটুআই), বিডি জবস ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতিতে ডিগ্রি, স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের জন্য চাকরির সুযোগ ও পাশাপাশি উদ্যোক্তা এবং ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করা, সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ ও ভবিষ্যৎ কর্ম জীবনের জন্য নিজেকে গড়ার লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন করা হয়।

মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: মশিউর রহমান; বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও তেজগাঁও কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ড. খন্দকার বজলুল হক, এটুআই-এর যুগ্ম প্রকল্প পরিচালক মোল্লা মিজানুর রহমান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালযয়ের স্নাতক পূর্ব শিক্ষা বিষয়ক স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, এটুআই-এর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ইনোভেশন স্পেশালিস্ট আসাদ-উজ-জামান, বিডি জবসের কো-ফাউন্ডার অ্যান্ড চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার এ.কে.এম. ফাহিম মাশরুর, বিডি জবসের মার্কেটিং অ্যান্ড সেলসের ডিরেক্টর প্রকাশ রায় চৌধুরী, তেজগাঁও কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আঞ্জুমান আরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তেজগাঁও কলেজের অধ্যক্ষ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মো: হারুন-অর- রশিদ।

মেলায় পাচঁ তারকা হোটেল রেনেসন্স ঢাকা, প্রাণ গ্রুপসহ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৩০টি স্টল ছিল। মেলা উদ্বোধনের পর প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিরা সব স্টল ঘুরে দেখেন।

মাহমুদ কবীর/আবরার জাহিন

সেন্ট গ্রেগরিতে বিতর্ক ভাষা চর্চা বিষয়ক সেমিনার

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৪:০২ পিএম
সেন্ট গ্রেগরিতে বিতর্ক ভাষা চর্চা বিষয়ক সেমিনার
খবরের কাগজের কপি এডিটর কবি হাসান হাফিজ। ছবি : খবরের কাগজ

গ্রেগরিয়ান ডিবেটিং ক্লাবের উদ্যোগে সেন্ট গ্রেগরি হাই স্কুল অ্যান্ড বিতর্কে ভাষা চর্চা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

রবিবার (২৬ মে) সেন্ট গ্রেগরি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অডিটোরিয়ামে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। 

সেন্ট গ্রেগরি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রাদার উজ্জ্বল প্লাসিড পেরেরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের জেষ্ঠ সহসভাপতি ও খবরের কাগজের কপি এডিটর কবি হাসান হাফিজ।

সেমিনারের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন গ্রেগরিয়ান ডিবেটিং ক্লাবের মডারেটর শাহাদাত হোসেন। 

অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রভাষক আব্দুল মান্নান লাভলু। 

বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. সনজিত পাল। 

অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন প্রভাষক রুহুল কাইয়ুম।

শাহাদাত হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, একজন শিক্ষার্থী যদি শিক্ষামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকে তাহলে সে অন্যদের চেয়ে ব্যক্তিক্রম হয়ে থাকে। বির্তকের সঙ্গে যুক্তি ও বৌদ্ধিক চিন্তা এ দুটি বিষয় জড়িত। বিশুদ্ধ ভাষা চর্চার মাধ্যমে আমরা আমাদের যুক্তিকে যৌক্তিকভাবে তুলে ধরতে পারি। এক্ষেত্রে অপ্রাসঙ্গিকভাবে বাংলার সঙ্গে ইংরেজির ও চলিতর সঙ্গে আঞ্চলিক ভাষায় মিশ্রণ দুর করে সঠিক উচ্চারণে কথা বলতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কবি হাসান হাফিজ বলেন, আমাদের বাংলা ভাষার সবাইকে গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলা ভাষার আরবি, ফারসি, বিদেশি, উর্দু অনেক শব্দ এসেছে। সময়ের পালা বদলে নানা শব্দ ও সংস্কৃতি এসেছে আমাদের বাংলা ভাষায়। আমাদের সবার নৃতাত্বিক বৈশিষ্ট্য এক নয়। আমাদের সবাইকে শুদ্ধ ভাষা চর্চা করতে হবে এবং সব ভাষাকে সন্মান করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিতর্কের মাধ্যমে আমরা নিজেকের ভাষাকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করব, শুদ্ধভাবে উচ্চারণ করব। পড়াশোনা করব এবং নানা বিষয় জানব। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি এ ধরনের কার্যক্রম আমাদের এগিয়ে রাখবে। ইংরেজি ও বাংলা ভাষার মিশ্রণ করা যাবে না। আমরা যাচাই বাছাই করে ভাষা শিখব। ইন্টারনেট নির্ভর হব না। অনেক সময় গুগলেও ভুল থাকে। 

সভাপতির বক্তব্যে ব্রাদার উজ্জ্বল প্লাসিড পেরেরা বলেন, নিজেকে আধুনিকভাবে উপস্থাপন করার জন্য বিশুদ্ধ ভাষা চর্চার কোনো বিকল্প নেই। 

তিনি মাতৃভাষা চর্চার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন বৈশ্বিক প্রভাবের কারণে বিদেশি ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু মাতৃভাষার ওপর দক্ষতা ব্যতীত বিদেশি ভাষা শেখা সম্ভব নয়।

মুজাহিদ বিল্লাহ/জোবাইদা/অমিয়/

ঢাবি শিক্ষকদের পদোন্নতি পেতে লাগবে ৭০ শতাংশ নম্বর

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০২:০১ পিএম
ঢাবি শিক্ষকদের পদোন্নতি পেতে লাগবে ৭০ শতাংশ নম্বর
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেছেন, ‘প্রভাষক থেকে পরবর্তী পদোন্নতি পেতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষকদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ নিতে হবে এবং ৭০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। এই শর্ত পূরণ না হলে শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া হবে না। বছরে দুবার এই প্রশিক্ষণ হবে।’

গত শুক্রবার (২৪ মে) প্রথমবারের মতো ঢাবি শিক্ষকদের ১৪ দিনব্যাপী ‘ফাউন্ডেশন ইন ইউনিভার্সিটি টিচিং অ্যান্ড লার্নিং’ শীর্ষক কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপাচার্য এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) উদ্যোগে কুমিল্লা বার্ডের ময়নামতি মিলনায়তনে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউট থেকে ৫৮ নবীন শিক্ষক এ প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে আইকিউএসি প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে চলেছে। শিক্ষকতা একটি শিল্প। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জনে শিক্ষকরা কার্যকর ভূমিকা রাখেন। শিক্ষা ও গবেষণার আধুনিক জ্ঞান এবং পাঠদান কৌশল অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে তরুণ শিক্ষকদের এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের সঙ্গে পারস্পরিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী তরুণ শিক্ষকরা জ্ঞানে ও পাঠদান কৌশলের ক্ষেত্রে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে পারবেন বলে আশা করি।’

এ সময় আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. সাবিতা রিজওয়ানা রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক ড. গুলশান আরা লতিফা এবং বার্ডের মহাপরিচালক সাইফ উদ্দিন আহমেদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। 

এ ছাড়া এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. হাসিনা খান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। 

গত ২৪ মে থেকে শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ চলবে ৬ জুন পর্যন্ত। ১৪ দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে শিক্ষকদের পেশাদারত্ব বৃদ্ধি, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের বিকাশ, একাডেমিক প্রোগ্রাম এবং পাঠ্যক্রম, উচ্চশিক্ষায় শিক্ষাদান ও মূল্যায়ন, আইসিটিই এবং আইসিটিভিত্তিক নির্দেশনা, উচ্চশিক্ষায় গুণমান নিশ্চিতকরণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদানের উদীয়মান সমস্যা, ইউজিসির নিয়ম ও নীতি, পিএইচডি ও পোস্ট-ডক্টরাল প্রোগ্রামের জন্য স্কলারশিপ ও ফেলোশিপের সুযোগ, গবেষণা প্রকল্প ও একাডেমিক কার্যক্রমের জন্য বিভিন্ন অনুদানসহ ১৪টি মডিউলের ওপর আলোচনা করা হবে।

জবি অধ্যাপককে বাঁচাতে আর্থিক সহায়তার আবেদন

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ১২:০৬ পিএম
জবি অধ্যাপককে বাঁচাতে আর্থিক সহায়তার আবেদন
জবি অধ্যাপক ড. শিল্পী খানম

ক্যানসারের সঙ্গে দুই বছর ধরে লড়াই করছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অধ্যাপক ড. শিল্পী খানম। বোনম্যারো ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছেন রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে। বর্তমানে রয়েছেন আইসিইউতে। চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে পরিবার। এ অবস্থায় সবার কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছে তার পরিবার।

শিল্পী খানমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় আড়াই বছর আগে বোনম্যারো ক্যানসার ধরা পড়ে অধ্যাপক শিল্পীর। এরপর দেশে কিছুদিন চিকিৎসার পর তাকে নেওয়া হয় ভারতে। ভারতের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে প্রায় দেড় মাস চিকিৎসার পর দেশে আসেন তিনি। তবে দিন দিন শরীরের অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। ক্যানসার সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে শেষ স্টেজে আছেন। 

এদিকে দীর্ঘদিন থেকে চিকিৎসা খরচ চালাতে গিয়ে জমানো সব টাকা শেষ হয়ে গেছে তার পরিবারের। চিকিৎসা খরচ চালাতে করেছেন ঋণও। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে এর আগে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। তবে চিকিৎসা চালাতে গিয়ে অনেক টাকা খরচ হওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে তার পরিবার। 

বর্তমানে রাজধানীর একটি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন অধ্যাপক শিল্পী খানম। সেখানে শনিবার (২৫ মার্চ) পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ টাকা বিল এলেও আর্থিক সংকটের কারণে তা পরিশোধ করতে পারছেন না তারা। চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়াও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

শিল্পীর স্বামী কাজী শফিকুল ইসলাম আগে একটি প্রাইভেট ফার্মে চাকরি করতেন। তবে চিকিৎসা চালাতে গিয়ে সেই চাকরিও ছেড়ে দিতে হয়েছে তাকে। তার দুই ছেলে এবার এসএসসি পাস করেছে। এ অবস্থায় তাদের কলেজে ভর্তিও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এমন অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টসহ সবার কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন অধ্যাপক শিল্পীর পরিবার।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শিবলী নোমান বলেন, ‘ম্যাডাম অনেক বন্ধুসুলভ। তিনি সব সময়ই শিক্ষার্থীদের আগলে রাখেন। আমাদের শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি মায়ের মতোই। তার এমন অসুস্থতা আমাদের সবাইকেই মর্মাহত করেছে। আমাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ পাশে থাকার চেষ্টা করব। তিনি যাতে সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন, সে জন্য আমাদের যা করার আছে তার সবটুকু দিয়েই চেষ্টা করব।’

কাজী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে আমার স্ত্রীর চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি। ভারতে নিয়েও চিকিৎসা করিয়েছি। তবে ভালো হলো না। এখন লাস্ট স্টেজে আছে। এক কোটি টাকারও বেশি খরচ হয়ে গেছে। এখন আর আমার চিকিৎসা খরচ চালানোর মতো সামর্থ্য নেই। হাসপাতালে ১২ লাখ টাকার মতো বিল বাকি। এখন আমি সংকোচে হাতও পাততে পারি না কারও কাছে। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ১০ লাখ টাকার মতো সহায়তা দিয়েছিলেন। আরও অনেক টাকা প্রয়োজন। কি করব জানা নেই। আর্থিক সহায়তা পেলে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারব।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন বলেন, তার পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। যোগাযোগ করলে বিষয়টি আমরা সমিতির এক্সিকিউটিভ সভায় উত্থাপন করব।’

আর্থিক সহায়তা পাঠানোর জন্য: কাজী শফিকুল ইসলাম (শিল্পী খানমের স্বামী) বেসিক ব্যাংক লিমিটেড
শান্তিনগর ব্রাঞ্চ, অ্যাকাউন্ট নম্বর: ০৯১৪০১০০০৪৫২৬

মুজাহিদ/পপি/অমিয়/

যুক্তরাষ্ট্রের হামফ্রে ফেলোশিপ

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ১১:৩৯ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের হামফ্রে ফেলোশিপ

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে হিউবার্ট এইচ হামফ্রে ফেলোশিপ কর্মসূচির জন্য আবেদনপত্র আহ্বান করেছে। ৯ মাসের এ কর্মসূচিতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসহ সরকারি ও বেসরকারি খাতে পেশাজীবীরা আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশিরাও এ ফেলোশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হিউবার্ট এইচ হামফ্রে ফেলোশিপ কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অন্যতম ফুলব্রাইট কার্যক্রম। এর মাধ্যমে মেধাবী তরুণ ও মধ্য পর্যায়ের পেশাজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রে ডিগ্রিবিহীন ৯ মাসের স্নাতক স্তরের শিক্ষা গ্রহণ, নেতৃত্বের উন্নয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজের মাধ্যমে পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ পাবেন। এই কর্মসূচি ভবিষ্যতের নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারকদের যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ, সংস্কৃতি ও পেশাগত ক্ষেত্রগুলোর সঙ্গে পরিচিত করার মাধ্যমে আমেরিকানদের সঙ্গে বিদেশি পেশাজীবীদের একটি স্থায়ী ও ফলপ্রসূ সম্পর্ক গড়ে তোলার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

হামফ্রে কর্মসূচি প্রয়াত মার্কিন সিনেটর ও ভাইস প্রেসিডেন্ট হিউবার্ট এইচ হামফ্রের স্মৃতি ও কৃতিত্বের প্রতি সম্মান জানাতে ১৯৭৮ সাল থেকে এই ফেলোশিপ চালু করা হয়। এই ফেলোশিপের জন্য জনসেবায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকারি কিংবা বেসরকারি খাতে কর্মরত পেশাজীবী প্রার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতিতে বাছাই করা হয়। ফেলোশিপ দেওয়া হচ্ছে মানব ও প্রাতিষ্ঠানিক সামর্থ্য; অধিকার ও স্বাধীনতা; টেকসই ভূমি এবং সমৃদ্ধিশালী সম্প্রদায়, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে জনস্বাস্থ্য, ছোঁয়াচে রোগ ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনায়।

ফেলোশিপের সুযোগ-সুবিধা
নির্ধারিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পূর্ণ টিউশন ফি দেওয়া হবে;
প্রয়োজন হলে প্রাক-একাডেমিক ইংরেজি ভাষা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে;
 কম্পিউটার কেনার জন্য এককালীন ভাতা;
বিমান ভ্রমণ ভাতা (প্রোগ্রামের জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এবং প্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম ইভেন্টে অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ);
ফেলোশিপের জন্য প্রয়োজনীয় পেশাদার উন্নয়ন ভাতা যেমন- ফিল্ড ট্রিপ, পেশাদার পরিদর্শন ও সম্মেলন দেওয়া হবে।

আবেদনের যোগ্যতা
আবেদনকারীকে বাংলাদেশি নাগরিক এবং আবেদন করা ও আবেদনপত্র বাছাই প্রক্রিয়া চলাকালে বাংলাদেশে অবস্থান করতে হবে।

দ্বৈত নাগরিক (বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র) কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া যাবে না।

আবেদনের সময় মেয়াদসহ বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে।

আবেদনকারীকে অবশ্যই তরুণ ও মধ্য পর্যায়ের নেতৃত্বশীল পদে থাকা পেশাজীবী হতে হবে, যার জনসেবায় দৃষ্টান্তমূলক কাজ ও পেশাগত জীবনে অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন, এমন কেউ আবেদন করতে পারবেন না।

পূর্ণকালীন শিক্ষার্থী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমপক্ষে চার বছরের শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করার সনদ থাকতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জনের পর সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ন্যূনতম পাঁচ বছর পূর্ণকালীন কাজ করার পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকতে হবে (২০২৪ সালের আগস্টের আগে) এবং তাদের শিক্ষা ও কাজসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের নীতিগত দিকগুলোয় আগ্রহ থাকতে হবে।

শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কিংবা একাডেমিক গবেষক এই ফেলোশিপের জন্য বিবেচিত হবেন না। তাদের অবশ্যই ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

২০২৫ সালের আগস্টের আগে সাত বছরের মধ্যে আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্নাতক স্কুলে এক শিক্ষাবর্ষ বা তার বেশি সময়ের জন্য লেখাপড়ায় অংশ নিয়ে থাকলে তিনি এই ফেলোশিপের জন্য অযোগ্য হবেন।

২০২৫ সালের আগস্টের আগে পাঁচ বছরের মধ্যে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার অভিজ্ঞতা থাকলে তিনি এই ফেলোশিপের জন্য যোগ্য হবেন না।

ইংরেজি লেখা ও কথা বলা উভয় ক্ষেত্রে দক্ষ হতে হবে এবং টোয়েফল স্কোর ৭১ (ইন্টারনেটভিত্তিক) হতে হবে। প্রার্থীদের যাদের টোয়েফল স্কোরের বৈধ মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষে টোয়েফল পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। 

আবেদনকারীকে অবশ্যই ফেলোশিপের জন্য নির্ধারিত প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও প্রতিশ্রুতি দেখানোর পাশাপাশি এ কথাও জানাতে হবে যে তিনি কীভাবে এই ফেলোশিপ থেকে উপকৃত হবেন, যা তিনি আগে কখনো হননি এবং হামফ্রে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ছাড়া এমন অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তার নেই।

ফেলোশিপ শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশে ফিরে আসতে হবে।

অনলাইনে আবেদন করা 
হামফ্রে ফেলোশিপ কর্মসূচির জন্য একটি অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। আগ্রহী প্রার্থীদের এই লিংকে (https://www.humphreyfellowship.org) গিয়ে আবেদন করতে হবে। এই কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এই ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে।

হিউবার্ট এইচ হামফ্রে ফেলোশিপ প্রোগ্রামের আবেদনপত্র ব্যবহারের অনুমতি পেতে একজন আবেদনকারীকে অবশ্যই প্রথমে একটি আইআইই (IIE) অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। আবেদনকারীকে আবেদনপত্র পূরণের সব নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। ফেলোশিপ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে [email protected] ই-মেইলে যোগাযোগ করতে পারেন।

আবেদনের শেষ তারিখ 
১৫ জুলাই ২০২৪, রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।

ফেলোশিপের বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ 
https://bd.usembassy.gov/2025-2026-hubert-h-humphrey-fellowship-program/

কলি

পাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের সাদা-খয়েরি বাস

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ১১:৩২ এএম
পাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের সাদা-খয়েরি বাস

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলো আমাদের কাছে সবসময়ই আবেগের জায়গা। শিক্ষার্থীদের আনন্দ-বেদনার নীরব সাক্ষী হয়ে থাকা এই বাসগুলোর বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে আছে নিজস্ব রং ও পরিচয়। তেমনি পাবনায় অবস্থিত পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) বাসে রয়েছে সাদা ও খয়েরি রঙের পৃথক মিশ্রণ। যেখানে সাদা রং দ্বারা শান্তি, বিশুদ্ধতা ও পূর্ণতাকে বোঝানো হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোর রংকে প্রাধান্য দিয়ে রাখা হয়েছে খয়েরি রং। 

কলেজের গণ্ডি পার করে উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু অনেক শিক্ষার্থীর প্রাথমিক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে এই বাহন। নগরীর কোলাহলপূর্ণ রাস্তা দিয়ে স্বপ্নবাজদের নিয়ে স্বপ্ন ফেরি করে বেড়ানো এই বাসগুলোকে চলাচল করতে দেখে শিক্ষার্থীরা মনে মনে স্বপ্নে বুনতে শুরু করে একদিন তারাও এ বাহনের যাত্রী হবেন।

ভর্তিচ্ছুদের কাছে যেমন অনুপ্রেরণা, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক-বর্তমানদের কাছে বাসগুলো গল্প-স্মৃতির জন্ম দেওয়া আবেগের বাহন। পাবিপ্রবিতে আবাসিক সংকটের কারণে বেশির ভাগ অনাবাসিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ক্যাম্পাস জীবনের যোগসূত্র তৈরির প্রথম মাধ্যম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা-খয়েরি এ বাসগুলো।

শিক্ষার্থী সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, ‘ইন্টারে এডওয়ার্ড কলেজে পড়ার সময় প্রায়ই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস দেখতাম। তখন একটা জিনিস খেয়াল, করতাম এই বাস আমাদের কলেজের সামনে এসে দাঁড়ালে বাকি যানবাহনগুলো এই বাসের জন্য জায়গা ছেড়ে দিত এবং যারা এ বাসে উঠত বা নামত সাধারণ মানুষ তাদের খুব সম্মান করত। সেই থেকে মনে একটা স্বপ্ন দেখতাম আমি একদিন এই বাসের যাত্রী হব।’

শিক্ষার্থী সানজিদা সুলতানা বলেন, ‘আমরা যারা পাবনা শহরের থেকে একটু দূরে বা শহরের বিপরীত থেকে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করি তাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে চলাচল করা সুবিধাজনক। এ ছাড়া নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে যাতায়াত করলে একটা আলাদা ভালো লাগা কাজ করে এবং নিজেকে নিরাপদ বোধ করি। সেজন্য কষ্ট হলেও ক্যাম্পাসের বাসেই যাতায়াত করতে চেষ্টা করি।’

পাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী রাজীব চন্দ্র সাহা ক্যাম্পাস বাস বলেন, ‘আমার বাড়ি রাজশাহী হলেও জীবিকার তাগিদে এখনো পাবনাতেই থাকছি। প্রতিদিন সকালে যখন অফিসে যাই প্রায়ই গোল চত্বরে ক্যাম্পাসের বাস দেখি। এই বাসে আমাদের কত যে স্মৃতি আছে তা হয়তো বলে শেষ করা যাবে না। পুরোনো দিনের সেসব কথা ভেবে আবেগের আপ্লুত হয়ে যাই। মাঝে মাঝে নিজের অজান্তেই চোখ জল চলে আসে।’

কলি