ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

সেন্ট গ্রেগরিতে বিতর্কে ভাষা চর্চা বিষয়ক সেমিনার

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৪:০২ পিএম
আপডেট: ২৬ মে ২০২৪, ০৮:১৬ পিএম
সেন্ট গ্রেগরিতে বিতর্কে ভাষা চর্চা বিষয়ক সেমিনার
খবরের কাগজের কপি এডিটর কবি হাসান হাফিজ। ছবি : খবরের কাগজ

গ্রেগরিয়ান ডিবেটিং ক্লাবের উদ্যোগে সেন্ট গ্রেগরি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ‘বিতর্কে ভাষা চর্চা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

রবিবার (২৬ মে) সেন্ট গ্রেগরি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অডিটোরিয়ামে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। 

সেন্ট গ্রেগরি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রাদার উজ্জ্বল প্লাসিড পেরেরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও খবরের কাগজের কপি এডিটর কবি হাসান হাফিজ।

সেমিনারের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন গ্রেগরিয়ান ডিবেটিং ক্লাবের মডারেটর শাহাদাত হোসেন। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রভাষক আব্দুল মান্নান লাভলু। বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. সনজিত পাল। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন প্রভাষক রুহুল কাইয়ুম।

শাহাদাত হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, একজন শিক্ষার্থী যদি সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকে তাহলে সে অন্যদের চেয়ে ব্যক্তিক্রম হয়ে থাকে। বির্তকের সঙ্গে যুক্তি ও বৌদ্ধিক চিন্তা এ দুটি বিষয় জড়িত। বিশুদ্ধ ভাষা চর্চার মাধ্যমে আমরা আমাদের যুক্তিকে যৌক্তিকভাবে তুলে ধরতে পারি। এক্ষেত্রে অপ্রাসঙ্গিকভাবে বাংলার সঙ্গে ইংরেজির ও চলিতের সঙ্গে আঞ্চলিক ভাষায় মিশ্রণ দুর করে সঠিক উচ্চারণে কথা বলতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কবি হাসান হাফিজ বলেন, আমাদের বাংলা ভাষার সবাইকে গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলা ভাষার আরবি, ফারসি, বিদেশি, উর্দু অনেক শব্দ এসেছে। সময়ের পালা বদলে নানা শব্দ ও সংস্কৃতি এসেছে আমাদের বাংলা ভাষায়। আমাদের সবার নৃতাত্বিক বৈশিষ্ট্য এক নয়। আমাদের সবাইকে শুদ্ধ ভাষা চর্চা করতে হবে এবং সব ভাষাকে সন্মান করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিতর্কের মাধ্যমে আমরা নিজেকের ভাষাকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করব, শুদ্ধভাবে উচ্চারণ করব। পড়াশোনা করব এবং নানা বিষয় জানব। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি এ ধরনের কার্যক্রম আমাদের এগিয়ে রাখবে। ইংরেজি ও বাংলা ভাষার মিশ্রণ করা যাবে না। আমরা যাচাই বাছাই করে ভাষা শিখব। ইন্টারনেট নির্ভর হব না। অনেক সময় গুগলেও ভুল থাকে। 

সভাপতির বক্তব্যে ব্রাদার উজ্জ্বল প্লাসিড পেরেরা বলেন, নিজেকে আধুনিকভাবে উপস্থাপন করার জন্য বিশুদ্ধ ভাষা চর্চার কোনো বিকল্প নেই। তিনি মাতৃভাষা চর্চার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন বৈশ্বিক প্রভাবের কারণে বিদেশি ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু মাতৃভাষার ওপর দক্ষতা ব্যতীত বিদেশি ভাষা শেখা সম্ভব নয়।

মুজাহিদ বিল্লাহ/জোবাইদা/অমিয়/

সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির ৩৮তম একাডেমিক কাউন্সিল সভা

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৬:১১ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৬:১১ পিএম
সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির ৩৮তম একাডেমিক কাউন্সিল সভা
ছবি : খবরের কাগজ

সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ’র ৩৮তম একাডেমিক কাউন্সিলের সভা বুধবার (১২ জুন) বিকালে, বায়েজিদ আরেফিন নগরে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) ড. শরীফ আশরাফউজ্জামানের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্ট সেক্রেটারি অধ্যাপক সরওয়ার জাহান, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শরীফুজ্জামান, কলা, সমাজ বিজ্ঞান ও আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক চৌধুরী মোহাম্মদ আলী, অধ্যাপক ড. ইসরাত জাহান, আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. শওকতুল মেহের, রেজিস্ট্রার, ডেপুটি-রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানগণসহ অন্যান্যরা। 

সভায় স্প্রিং সেমিস্টার ২০২৪ এর শিক্ষার্থীদের অ্যাডমিশন ও এনরোলমেন্ট রিপোর্ট অনুমোদন, স্প্রিং ও ফল ২০২৩ এর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর গ্র্যাজুয়েট লিস্ট অনুমোদন, একাডেমিক বিবিধ বিষয় নিয়ে আলোচনাসহ বিভিন্ন বিভাগের একাডেমিক সভার গৃহীত প্রস্তাবগুলো পাশ হয়। 

সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গুণগত ও যুগোপযোগী শিক্ষার মাধ্যমে সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি এগিয়ে যাবে এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) ড. শরীফ আশরাফউজ্জামান। বিজ্ঞপ্তি

জবিতে প্রথম ধাপে ভর্তি শেষে ফাঁকা ২৪৩ আসন

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৪, ০১:১৯ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৪, ০৩:৫৮ পিএম
জবিতে প্রথম ধাপে ভর্তি শেষে ফাঁকা ২৪৩ আসন

গুচ্ছভুক্ত ২৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম ধাপের ভর্তি শেষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৪৩টি আসন ফাঁকা রয়েছে।

বুধবার (১২ জুন) ভর্তির টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. জুলফিকার মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, জবিতে মোট আসন দুই হাজার ৮১৫টি। বিশেষায়িত বিভাগগুলোতে ১৬৫টি আসন রয়েছে। এই বিশেষায়িত আসন ছাড়া দুই হাজার ৬৫০টি আসনের বিপরীতে প্রথম ধাপে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ৪০৭ জন শিক্ষার্থী।

এর আগে গুচ্ছভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে জবিতে সর্বোচ্চ ২৯ হাজার ৬০৩ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী আবেদন করেন।

ভর্তিসংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় https://jnu.ac.bd/ ওয়েবসাইটে জানা যাবে।

মুজাহিদ/ইসরাত চৈতী/অমিয়/

প্রকৃত ঘটনা জানতে প্রয়োজনে গবেষণা করতে হবে: চবি উপাচার্য

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৪, ১১:৩৩ পিএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৪, ১১:৩৩ পিএম
প্রকৃত ঘটনা জানতে প্রয়োজনে গবেষণা করতে হবে: চবি উপাচার্য
ছবি : খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধু খুব দ্রুত পার্বত্য অঞ্চলের সংঘাত নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য চট্টগ্রামের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করেছিলেন। ইতোমধ্যে নৃগোষ্ঠীর ভাষাগুলো সংগ্রহের জন্য সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। আমাদের মধ্যে বিরোধ থাকতেই পারে। কিন্তু যুবসমাজের প্রতি বিশেষ অনুরোধ, ভালো করে জানতে হবে প্রকৃত ঘটনা কী? প্রয়োজনে গবেষণা করতে হবে, আলোচনায় বসতে হবে, যুক্তিতর্কের মাধ্যমে বিষয়গুলো সমাধান করতে হবে।

মঙ্গলবার (১১ জুন) চট্টগ্রাম সেন্টার ফর রিজিওনাল স্টাডিজ, বাংলাদেশের (সিসিআরএসবিডি) আয়োজনে চবি উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত 'সশস্ত্র সংঘাত ও তথ্য বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে ছাত্র-যুবসমাজের ভূমিকা' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

ড. মো. আবু তাহের বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে কিছু গোষ্ঠী উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবেই বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা রাখতেন বলেই বঙ্গবন্ধু সব ধর্ম বর্ণের মানুষের অধিকার সংবিধানে সমানভাবে যুক্ত করেছেন। আমাদের সমুদ্রে যে সম্পদ আছে, সেটা আহরণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীও ব্লু ইকোনোমির দিকে নজর দিচ্ছেন। খুব দ্রুতই কক্সবাজার আন্তর্জাতিকভাবে খুব গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হয়ে উঠবে। মূলত: সব সংঘাতের পেছনে এগুলোই কারণ। এসব আমাদের বুঝতে হবে।  

রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও সিসিআরএসবিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মাহফুজ পারভেজ বলেন, শান্তি একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চূড়ান্ত করতে হবে। পার্বত্য এলাকার পিছিয়ে পড়া তরুণ সমাজকে আদর্শ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। 

আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সেখানে স্কুল, কলেজ, মেডিক্যাল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ও করা হয়েছে। অথচ পৃথিবীর কোথাও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে এত সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়নি। উন্নয়ন প্রক্রিয়া মূলত কাউকে বাদ দিয়ে নয়, বরং সবাইকে নিয়েই বাস্তবায়ন করতে হয়।

ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, দ্বন্দ্ব থেকে সংঘাত, সেখান থেকে সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নিয়েছে কুকি-চিনের এ বিদ্রোহ। ২০২১ সালের পরেই দেখা যাচ্ছে জো-জাতীয়তাবাদ। এটি খুব উগ্র একটি জাতীয়বাদ বলেই ধারণা করা হচ্ছে। যার ফলে এ পার্বত্য অঞ্চল ক্রমান্বয়ে অশান্ত হয়ে উঠছে।

সিসিআরএসবিডির পরিচালক রাজকুমার সুই চিং প্রু বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে সংঘাতের কারণগুলো উদঘাটন করতে হবে। তথ্য বিভ্রান্তি আমাদের এ সংঘাতের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মারমা সম্প্রদায় শান্তি ও সম্প্রীতির প্রতি ঐতিহ্যগতভাবে একমত। শান্তি স্থাপনে আপনাদের সচেতনতা এবং সহযোগিতাই কাম্য।

ঢাবিতে ২ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৪, ০৯:০০ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৪, ০৯:০০ পিএম
ঢাবিতে ২ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু
ছবি : খবরের কাগজ

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১০টি দেশ থেকে শিক্ষক, গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) দুই দিনব্যাপী ‘কিক্স বাংলাদেশ ন্যাশনাল আপটেক ফোরাম-২০২৪’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। 

সোমবার (১০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘নলেজ অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সচেঞ্জের (কিক্স) যৌথ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে এ সম্মেলনে শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা ক্ষেত্রে কোনো পলিসি গ্রহণের ক্ষেত্রে সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে গুরুত্ব দেওয়া না হয়, তাহলে অনেক ক্ষেত্রে তার বাস্তবায়ন সম্পূর্ণ সম্ভব হয় না। টিচিং-লার্নিংয়ের ক্ষেত্রে বেসরকারিভাবে যারা কাজ করছেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে যারা নীতিনির্ধারক পর্যায়ে কাজ করছেন, তাদের মধ্যে নীতির আদান-প্রদান জরুরি। নীতিনির্ধারকরা যদি একটি দেশের সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক বিষয়গুলো এবং এর চাহিদা বুঝতে না পারেন তাহলে যেকোনো পলিসিই ব্যর্থ হবে। এ জন্য আমাদের শুধু তথ্য উপাত্তভিত্তিক গবেষণার ওপর ভিত্তি করে কোনো সিদ্ধান্তে আসা ঠিক হবে না। আমাদের উচিত, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক ইস্যুগুলোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া। এর ফলে বেসরকারিভাবে যারা গবেষণা করছেন, সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের যারা রয়েছেন, তাদের সবার উপকার হবে, একই সঙ্গে দেশও উপকৃত হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের ফলে শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা পারস্পরিক জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে নিজেদের আরও সমৃদ্ধ করতে পারবেন। আশা করি, সম্মেলন থেকে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন কারিকুলাম সংযোজন ও নীতিনির্ধারণে যথাযথ সুপারিশ এবং দিক নিদের্শনা পাওয়া যাবে।’

এ সময় ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কিক্স ইম্যাপ হাবের পরিচালক যোশে লুইস ক্যানেলহ্যাস, কানাডার আইডিআরসির সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট মারগারিটা লোপেজ, গ্লোবাল পার্টনারশিপ এক্সচেঞ্জের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কফি সেগনিয়াগবেতো এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হালিম ও অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান। 

পরে ‘আপটেক অব রিসার্চ ইন পলিসি অ্যান্ড প্র্যাকটিস: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড এক্সপেরিয়েন্সেস’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাবির ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধূরী এবং কিক্স ইম্যাপের প্রধান গবেষক অধ্যাপক গীতা স্টেইনার খামসি। আগামীকাল মঙ্গলবার (১১ জুন) সম্মেলন সমাপ্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

‘ভর্তুকির অভাবে’ বন্ধ ইবির ক্যাফেটেরিয়া

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৪, ০৯:৫৮ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৪, ০৯:৫৯ এএম
‘ভর্তুকির অভাবে’ বন্ধ ইবির ক্যাফেটেরিয়া
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া ১৫ মাস ধরে এভাবেই তালাবদ্ধ আছে/ খবরের কাগজ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া ১৫ মাস ধরে বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছেন। আবাসিক হল ও ক্যাম্পাস-পার্শ্ববর্তী হোটেলের মানহীন খাবার খেয়ে প্রায়ই অনেকে অসুস্থ হচ্ছেন। এ ছাড়া খাবারের পেছনে বাড়তি খরচ করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে অর্থকষ্টে ভুগতে হচ্ছে। টাকা বাঁচাতে তুলনামূলক কম দামের খাবার খাওয়ায় অনেকে পুষ্টির চাহিদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ক্যাফেটেরিয়া সূত্র জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেঁধে দেওয়া দামে খাবার বিক্রি করতে গিয়ে তাদেরকে লোকসান গুনতে হয়। তাই বাধ্য হয়ে তারা ব্যবসা বন্ধ রেখেছেন। তবে ভর্তুকি পাওয়া গেলে এ সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে মনে করেন তারা। যদিও সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, ভর্তুকি দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে ক্যাফেটেরিয়া চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে বিশ্বব্যাপী দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে। এর আঁচ লাগে ইবি ক্যাফেটেরিয়াতে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খাবারের দাম আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। কিন্তু ওই দামে খাবার বিক্রি করতে গিয়ে ক্যাফেটেরিয়ার ম্যানেজারকে টানা লোকসান গুনতে হয়। বাধ্য হয়ে তখনকার ম্যানেজার আরিফুল ইসলাম কলম ২০২৩ সালের ১২ মার্চ ক্যাফেটেরিয়া বন্ধ করে দেন। পাঁচ মাস পর ম্যানেজার রাজিব মণ্ডলের হাত ধরে ক্যাফেটেরিয়া চালু হলেও মাস পেরোনোর আগেই তা আবারও বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের কম দামে খাবার খাওয়ার শেষ ভরসার জায়গাটি এখন পর্যন্ত তালাবদ্ধ রয়েছে। এলোমেলো চেয়ার-টেবিলের ওপর পড়েছে ধুলার আস্তর। 

কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আল ফিকহ্ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সবুজ হোসেন হৃদয়ের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে ভালো খাবারের জন্য শিক্ষার্থীদের অধিকারের জায়গা ক্যাফেটেরিয়া। অথচ আমাদের ক্যাফেটেরিয়া দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। বাধ্য হয়ে আমরা হল ডাইনিং ও বাইরের মানহীন খাবার খেয়ে দিন পার করছি। দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এতদিন ধরে ক্যাফেটেরিয়া বন্ধ থাকে কি-না আমার জানা নেই।’

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ফাবিহা বুশরা বলেন, ‘ক্যাম্পাসের অন্য জায়গায় ভালো খাবার পাওয়া যায় না। ক্যাফেটেরিয়া বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে আমাদের হল ক্যান্টিন ও দোকানের মানহীন খাবার খেতে হয়। প্রায়ই আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ি। শরীরে পুষ্টি চাহিদাও পূরণ হয় না। পড়াশোনায় এর প্রভাব পড়ে। অথচ ১৫ মাস ধরে ক্যাফেটেরিয়া বন্ধ। আমরা মানসম্মত খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।’ 

ছাত্র ইউনিয়ন ইবি সংসদের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষার ফাঁকে এখান থেকে মানসম্মত খাবার খেতে পারতেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ক্যাফেটেরিয়া বন্ধ থাকায় তারা এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে তাদের এখন বাইরের হোটেল থেকে অতিরিক্ত দামে খাবার কিনতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ থাকবে, শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে হলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্যাফেটেরিয়া চালু করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হোক।’

ক্যাফেটেরিয়ার সাবেক ম্যানেজার আরিফুল ইসলাম কলম খবরের কাগজকে বলেন, ‘ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (টিএসসিসি) থেকে খাবারের দাম অনেক আগেই নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে এই দামে খাবার বিক্রি করা সম্ভব না। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ক্যাফেটেরিয়া ছেড়ে দিতে হয়। এতে আমাদের নিজস্বতা বলে কিছু থাকে না। ক্যাফেটেরিয়া চালানোর জন্য কোনো ভর্তুকিও দেওয়া হয় না। 

টিএসসিসির পরিচালক চাইলেই এটি চালু হওয়া সম্ভব।’ প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা ভর্তুকি পেলে ক্যাফেটেরিয়া চালানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌফিক এলাহী খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রাপ্তবয়স্ক একজন মানুষের শরীরে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ গ্রাম প্রোটিনের প্রয়োজন। অথচ ক্যাফেটেরিয়া বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা হলসহ বাইরের যে খাবারগুলো খাচ্ছেন তাতে তাদের দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। মানসম্মত খাবারের অভাবে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এতে তারা লেখাপড়ায় শতভাগ মনোনিবেশ করতে পারছেন না।’

এ বিষয়ে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত টিএসসিসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মহববত হোসেন বলেন, ‘এখনো টিএসসিসির পরিচালকের দায়িত্ব হস্তান্তর হয়নি। আমার কার্যক্রম শুরু হলে প্রথম কাজ হবে মানসম্মত ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশনের জন্য পুনরায় ক্যাফেটেরিয়া চালু করা।’

টিএসসিসির সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. বাকী বিল্লাহ বলেন, ‘ক্যাফেটেরিয়ার জন্য কোনো ভর্তুকি দেওয়া হয় না। যারা চালানোর দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তারা লাভের মুখ দেখতে না পাওয়ার কথা জানিয়ে ক্যাফেটেরিয়া চালাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।’