কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ধর্মচর্চার জন্য মন্দির বা প্রার্থনা কক্ষ নির্মাণ চান হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে প্রার্থনা কক্ষের নির্মাণকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত একটি অস্থায়ী জায়গার দাবি জানিয়েছেন ওই শিক্ষার্থীরা। গত সোমবার রেজিস্ট্রার দপ্তরের এক চিঠি থেকে বিষয়টি জানা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী প্রায় ৬০০, শিক্ষক প্রায় ৩০ জন। এ ছাড়াও রয়েছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী কর্মকর্তা-কর্মচারী। প্রতিবছরই এ সংখ্যাটা বাড়ছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বারবার আশ্বাস দিলেও সেটা বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ নেননি। প্রশাসন বলছে, নির্মাণাধীন নতুন ক্যাম্পাসে মন্দির থাকবে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের দাবি, নতুন ক্যাম্পাস তৈরি না হওয়া পর্যন্ত একটি অস্থায়ী প্রার্থনা কক্ষ দেওয়া হোক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের ২০১৯-২০ বর্ষের শিক্ষার্থী সৌরভ বিশ্বাস বলেন, ‘ক্যাম্পাসে প্রয়োজনীয় এবং অপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে। তবে দুঃখজনকভাবে এখনে মন্দির বা প্রার্থনা কক্ষের কোনো ব্যবস্থা নেই। আমরা ইতোমধ্যে চারবার আবেদন করেছি। তবু এখনো মন্দির নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অবিলম্বে মন্দির নির্মাণের কাজ হাতে নিতে হবে। অন্যথায় আমরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।’
পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুব্রত সরকার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে হিন্দুদের সব কার্যক্রম পূজা উদযাপন পরিষদের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু আমাদের দাবির পরেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য এখনো একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। আমি আশা করছি, প্রশাসন এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেবে এবং মন্দির না হওয়া পর্যন্ত ধর্মীয় কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য একটি অস্থায়ী কক্ষের ব্যবস্থা করে দেবে।’
এ বিষয়ে বর্তমানে উপাচার্যের দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. জাকির ছায়াদউল্লাহ বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার আমার নেই। আমাকে কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে একজন শিক্ষক হিসেবে আমি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এ দাবির পক্ষে। এ বিষয়ে আমি কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি এগিয়ে রাখব, যেন পরবর্তী উপাচার্য এলে মন্দিরের কাজটি সহজ হয়ে যায়।’




