মামলায় যিনি বাদী থাকেন, তিনি মামলার বিষয় সম্পর্কে জানবেন। মামলাটি কেন করা হচ্ছে, সেই বিষয়ে তার স্বচ্ছ ধারণা থাকবে। কারা মামলার আসামি হবেন, কেন তাদের আসামি করা হচ্ছে এবং কাদের সাক্ষী করা হচ্ছে, তা নিয়ে তার কাছে সুস্পষ্ট কারণ থাকবে। সাধারণত মামলার ক্ষেত্রে এ ব্যাপারগুলোর ব্যত্যয় ঘটে না। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দেখা গেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে বাদী জানেন না কেন মামলা করেছেন, মামলার বিষয় কী। অন্যদিকে সাক্ষীরা জানেন না, মামলায় তাদের সাক্ষী করা হয়েছে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন, সাবেক প্রক্টর ড. কাজী ওমর সিদ্দিকীসহ অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জন উল্লেখ করে বিস্ফোরক আইনে মামলা করা হয়েছে। তবে বাদী মামলার বিষয় সম্পর্কে কিছুই জানেন না। এমনকি না জানিয়ে দুই শিক্ষার্থীকে মামলায় সাক্ষী রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ১৬তম আবর্তনের রায়হান নামে এক শিক্ষার্থীকেও সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রায়হান নামে ওই ব্যাচে কোনো শিক্ষার্থীই নেই বলে জানা গেছে।
মামলায় ৮ জন শিক্ষার্থীর নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন গণিত বিভাগের গোলাম মোস্তফা, লোক প্রশাসনের হাসান অন্তর, একই বিভাগের তানভির হোসাইন মজুমদার, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের হাসান ইমাম ফরহাদ, একই বিভাগের সৌরভ সিদ্দিকী ও তৌহিদুল ইসলাম জিসান, অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী রাহিম।
এই ব্যাপারে সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম জিসান বলেন, ‘আমি এই মামলার বিষয় কোনো কিছুই জানি না। আমাকে না জানিয়ে সাক্ষীর তালিকায় নাম দেওয়া হয়েছে, যা আমার জন্য বিব্রতকর।’
অর্থনীতি ১৬তম আবর্তনের রায়হান নামের যে শিক্ষার্থীর কথা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে ওই নামে ১৬তম ব্যাচে কোনো শিক্ষার্থী নেই। তবে একই বিভাগের ১৫ ব্যাচে শিক্ষার্থী রায়হান বলেন, ‘এটা যদি আমার নাম হয়ে থাকে, তাহলে আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না। সাক্ষী হওয়ার বিষয়ে আমার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেননি।’
এ বিষয়ে মামলার বাদী শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এই মামলার বিষয়ে আমি তেমন কিছুই জানতাম না। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক আবু রায়হান এবং সাকিব মামলার সব বিষয় নিয়ে আমার কাছে আসেন। আমাকে বাদী হতে বলায় আমি বাদী হয়েছি।’ সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলেছেন কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি দুজন সাক্ষী ফরহাদ ও মোস্তফার সঙ্গে কথা বলেছিলাম। বাকিদের কারও সঙ্গেই কথা বলিনি।’
এই বিষয়ে জানতে চাইলে সমন্বয়ক মোহাম্মদ সাকিব হোসাইন বলেন, ‘এই মামলার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। মামলাটি অন্য কেউ করেছেন, সাক্ষীর বিষয়ে তিনি জানবেন।’ এই ব্যাপারে সমন্বয়ক আবু রায়হানের ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ধরেননি।


