কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তির সময় সব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কল্যাণ ফি নেওয়া হয়। কিন্তু আলাদা করে তাদের জন্য কোনো তহবিল রাখা হয়নি। ফলে এই ফি থেকে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাচ্ছেন না। তাদের দাবি, দ্রুত শিক্ষার্থীদের কল্যাণে তহবিল গঠন করা হোক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থী ভর্তি হতে গেলে যে পরিমাণ টাকা জমা দিতে হয়, এর মধ্যে ২০০ টাকা নেওয়া হয় ছাত্রছাত্রী কল্যাণ ফি খাতে। কিন্তু এ খাতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে এই ফি জমা হতে থাকে। যেটা শিক্ষার্থীদের কোনো কাজে লাগছে না।
সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরীর সময় ২০২০ সালের ২৩ জুন ছাত্রকল্যাণ ফান্ড গঠনের জন্য একটি ১০ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটি তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে প্রতিবেদন বুঝিয়ে দিলেও এরপর আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে কথা হয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব অর্থ ও হিসাব দপ্তরের উপপরিচালক মো. নাছির উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কমিটি রিপোর্ট দেওয়ার পর দুই শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা যারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চলে গেছেন, তাদের টাকা আলাদা করে রাখা হয়। এই ফান্ডে প্রায় ২০ লাখ টাকা আছে। তবে আলাদা করে ছাত্র কল্যাণ ফান্ড আমাদের নেই।’
শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হলে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন বরাবর আবেদন করা হয়, ওই সময় প্রশাসন দায়সারাভাবে কিছু টাকা দেয়, যা অসুস্থ শিক্ষার্থীর চিকিৎসায় কোনো কাজেই আসে না। অথচ এই তহবিল শক্তিশালী হলে শিক্ষার্থীরাই উপকৃত হতেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী রকিবুল হাসান সোহাগ বলেন, ‘ছাত্রকল্যাণ তহবিলের টাকা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন জরুরি খাতে প্রয়োজনে ব্যবহার করা উচিত। এই খাত থেকে কেউ অসুস্থ বা আর্থিকভাবে অসচ্ছল এমন শিক্ষার্থীকে সহযোগিতা করা হলে সেটা ফলপ্রসূ হবে।
শিক্ষার্থী হিসেবে আমার দাবি, এই টাকা যাতে যথাযথভাবে খরচ করা হয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা কার্যালয়ের প্রধান ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মাহবুব বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নিয়েছি অল্প কিছুদিন হয়েছে। তহবিল সম্পর্কে জানলেও এটির যে আলাদা কোনো হিসাব নেই, সে সম্পর্কে আমি অবগত নই। আমি এটি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, ‘আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। এ সপ্তাহেই ছাত্র পরামর্শক এবং প্রতিটি বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টাদের সঙ্গে একটি মিটিং আছে। সেখানে এই তহবিলের ব্যবহার এবং এ ক্ষেত্রে কী উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে, সে সম্পর্কে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেব।’




