সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) প্রতিবছরের ন্যায় এই বছরও আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে উদযাপিত হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা। এইবার একসঙ্গে ৩০টি মণ্ডপে পূজা উদযাপন করা হচ্ছে।
সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে পূজার মণ্ডপগুলোতে অংশ নিতে ভিড় জমান সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
পরে একে একে দেবীর চরণে অঞ্জলি প্রদান, যজ্ঞের ফোঁটা কপালে দেওয়া, আমের মুকুল কিংবা কুল খেয়ে উপোস ভাঙার প্রথাগুলো পালনের মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
পূজা উপলক্ষে প্রায় প্রতিটি বিভাগের সামনে স্থাপন করা হয়েছে সরস্বতী প্রতিমা। সরস্বতী পূজা উপলক্ষে ভোর ৫টায় প্রতিমা স্থাপন, সকাল ৮টায় পূজারম্ব, ৯টায় পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করা হয়েছে এবং দুপুর ১২টা থেকে প্রসাদ বিতরণ শুরু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সীমান্ত গোস্বামী জয় বলেন, 'প্রতি বছরের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় এবারও আমরা আমাদের বিভাগ থেকে সরস্বতী পূজার আয়োজন করেছি। সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে আমাদের মধ্যে অসাম্প্রদায়িক একটা পরিবেশ তৈরি হয়েছে পাশাপাশি এই উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসার সুযোগ হয়।'
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি রিত্তিকা সাধু বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এবারও বসন্ত পঞ্চমীতে ৩০টি মণ্ডপে সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে সকাল থেকেই আমাদের ক্যাম্পাসে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে চারিদিকে একটা আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে।'
বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা এবং পূজা পরিষদ শাবিপ্রবির সভাপতি অধ্যাপক ড. হিমাদ্রী শেখর রায় বলেন, 'আমরা সব ধর্মের মানুষেরা মিলে এখানে একটা মিলন মেলার মতো সুন্দর দিন উপভোগ করি, দুপুরে সবাই মিলে আমরা খিচুড়ি খাই। যদিও আর্থিক অনুদান আমরা একটু কম পেয়েছি, তার মধ্যেও আমরা চেষ্টা করছি আমাদের সাধ্যমতো সুন্দর একটি উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করার। পাশাপাশি প্রশাসন থেকেও সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।'
ইসফাক আলী/জোবাইদা/




