একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান, গবেষণা, প্রকাশনাসহ যাবতীয় কার্যক্রম কেমন? এ ছাড়া সে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট সংখ্যা, টিউশন অ্যান্ড ফি, হল অব রেসিডেন্স, কন্টাক্ট ফর অ্যাডমিশন, আন্ডারগ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশন, গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশনসহ অন্যান্য তথ্য প্রাথমিকভাবে জানা যায় প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট দেখে। তবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে এসব তথ্য থাকলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ওয়েবসাইটে নেই এসব তথ্য। জবির ওয়েবসাইটে সব শিক্ষকের তথ্য দেওয়ার দায়-দায়িত্ব রয়েছে। সে জন্য ওয়েবসাইটে শিক্ষকদের এক্সেসও দেওয়া আছে। তবে তথ্য দেওয়ার আগ্রহ নেই অনেক শিক্ষকের। একই অবস্থা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের www.jnu.ac.bd ওয়েবসাইটে গেলে দেখা যায়, নানা ধরনের তথ্যের অপর্যাপ্ততা। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, গবেষণা, প্রকাশনা নেই তাদের নামের ড্যাশবোর্ডে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে অনেক শিক্ষকের নাম ছাড়া আর কোনো তথ্য নেই। এমনকি ছবিও নেই। কেউ কেউ পদোন্নতি পেলেও সেসব যুক্ত করা হয়নি। একই অবস্থা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও। এ ছাড়া নেই ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট, টিউশন অ্যান্ড ফি, হল অব রেসিডেন্স, কন্টাক্ট ফর অ্যাডমিশন, আন্ডারগ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশন, গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশনসহ নানা ধরনের তথ্য।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষক বিদেশে গবেষণা করছেন, তাদের অনেকেরই তথ্য রয়েছে। শিক্ষকদের তথ্য দেওয়ার বিষয়ে বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের বেশ কয়েকজন শিক্ষকদের তথ্য পাওয়া যায়। অন্য অনুষদগুলোর অবস্থা আরও নাজুক। তবে ওয়েবসাইটে কোনো বিভাগের পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। এতে করে একজন শিক্ষার্থী পিএইচডি বা থিসিস কোন শিক্ষকের অধীনে করবেন, সে বিষয়ে ওয়েবসাইট দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রত্যেক শিক্ষককে পাসওয়ার্ডসহ এক্সেস দেওয়া হয়েছে। যাতে তারা তাদের তথ্যগুলো ফিলাপ করতে পারেন। তবে অনেক শিক্ষকের তথ্য আছে, অনেকের নেই। এসব বিষয়ে শিক্ষকদের অনেকবারই চিঠি দেওয়া হয়েছে। কয়েকবার ইমেইলও করা হয়েছে। এতে কিন্তু অনেক শিক্ষক আগ্রহ দেখাননি।’
এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. মোশারফ হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘শিক্ষকদের তথ্য দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এটা দেওয়া দরকার। ওয়েবসাইটে সব ধরনের তথ্য থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট মেম্বার, পিএইচডি মেম্বার ও এমফিলের মেম্বার নির্বাচন করতে সুবিধা হয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. রেজাউল করিম খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমাদের শিক্ষকদের এ বিষয়ে বলা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত তারা তাদের তথ্য ওয়েবসাইটে দেবেন।’

