কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার নেতৃত্ব নিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। আগামী পাঁচ বছর টানা গুচ্ছ পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে বাকৃবি। তবে রোটেশনাল পদ্ধতি ছাড়া এ প্রস্তাবে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে শেকৃবি। তারা জানিয়েছে, রীতি অনুসরণ না হলে শেকৃবি গুচ্ছে থাকছে না, বরং তারা স্বতন্ত্রভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেবে।
শনিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সঙ্গে এক আলোচনায় বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘বাকৃবির নেতৃত্বে আগামী পাঁচ বছর টানা কৃষি গুচ্ছ পরীক্ষা হলে তবেই আমরা গুচ্ছে থাকব। না হলে আমরা স্বতন্ত্রভাবে পরীক্ষা নেব।’
এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে শেকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, ‘গুচ্ছ পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য ছিল ভর্তি প্রক্রিয়া সহজ ও সমন্বিত করা। ফলে আমাদের স্বতন্ত্র সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের সুবিধা বিবেচনায় আমরা গুচ্ছতে গিয়েছি। কিন্তু গুচ্ছের মৌলিকতা যদি হারিয়ে যায়, তাহলে গুচ্ছের যৌক্তিকতা থাকে না। রোটেশনাল নেতৃত্ব কৃষি গুচ্ছে একটি প্রচলিত রীতি। আগেও আমরা নেতৃত্ব দিয়েছি, এবার বাকৃবি দিয়েছে। রীতি অনুসরণ না হলে আমরা গুচ্ছে থাকব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাকৃবি যদি এককভাবে পাঁচ বছর নেতৃত্ব দিতে চায়, তাহলে আমরা গুচ্ছে যাব না। বরং শেকৃবি স্বতন্ত্র ভর্তি পরীক্ষা নেবে। তবে অন্য কোনো কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের সঙ্গে যুক্ত হতে চাইলে আমরা নতুন করে আলাদা গুচ্ছ গঠন করতে প্রস্তুত আছি।’
উল্লেখ্য, এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি প্রক্রিয়া সহজ করতে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে শুরু হয় কৃষি গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা। যার প্রথমে নেতৃত্ব দিয়েছিল বাকৃবি। পরবর্তী সময়ে গুচ্ছে অন্তর্ভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে রোটেশনের ভিত্তি ভর্তি পরীক্ষার নেতৃত্ব দেওয়া হয়। প্রথমবার এই রোটেশন শেষে পুনরায় ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে বাকৃবি এবার গুচ্ছের নেতৃত্ব দিচ্ছে।
মো. আরাফাত রহমান অভি/মাহফুজ